somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোদ্দুরে পথ চলা

১১ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পোস্ট, মন্তব্য বা প্রতিমন্তব্য, কোন কিছুই আমি  অল্প কথায় শেষ করতে পারি না। তাই চাঁদগাজী একবার  আমার পোস্টে মন্তব্য করেছিলেন, "আপনি অর্থহীন দীর্ঘ মন্তব্য করেন।" এই মন্তব্য পাবার পর চেষ্টা করেছিলাম অল্প কথায় মন্তব্য করতে, পারিনি। অথচ সেই দীর্ঘ মন্তব্য করা আমি কিছুদিন থেকে সহব্লগারদের পোস্ট পড়ার পর অনেক চেষ্টা করেও মন্তব্য করতে পারছি না, শব্দগুলো মাথায় কেমন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।

এর কারণ আমার মায়ের মৃত্যুশোক। আমার মা গত ১৮ ই জুলাই বৃহস্পতিবার ভোরবেলা আমাদের ছেড়ে চলে যান। এ মাসের ১৮ তারিখে তার ৮৬ বছর পূর্ণ হত, যদি বেঁচে থাকতেন; অর্থাৎ আমার মা দীর্ঘদিন পাশে ছিলেন। হয়তো তাই প্রথমে মা হারানোর অনূভুতি তেমন কষ্টকর বলে মনে হয়নি, বন্ধু বান্ধব আত্মীয়-স্বজন যারা এসেছিলেন তাদের সাথে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলতে পেরেছি। তারপর যখন সবাই চলে গেলেন, তখন দেখলাম মায়ের বিছানা খালি, আমি অনুভব করলাম এক গভীর শূন্যতা আমাকে ঘিরে ধরেছে।

 নাবালক সন্তানদের নিয়ে অল্প বয়সে বিধবা হওয়া আমার মা জীবনভর সংগ্রাম করে গেছেন, নানা সংকটের মাঝেও কখনো কারো সাহায্য নিতে চাননি। শেষ বয়সে হাঁটুতে ভুল অপারেশনের জেরে তিনি চলৎশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন, তবু তিনি স্বাধীনভাবে নিজের সংসারে থাকতে চেয়েছিলেন, সন্তানদের কারো সাথে থাকতে চাননি। তাই দুজন গৃহকর্মী নিয়ে তিনি একা থাকতেন, আমার ডাক্তার বোন উনার নিচের তালাতে থেকে সব সময় দেখাশোনা করতো। আমি যেতাম প্রতিদিন, অনেকক্ষণ গল্প করতাম। গত পাঁচ মাস যাবত আমি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ায় কয়েকদিন পর পর যেতাম, হয়তো তিনি চাইতেন আমি আরো বেশি যাই, কিন্তু কখনো সেকথা বলতেন না। এটা বুঝতে পারলাম যেদিন তিনি মারা গেলেন, সেদিন। সেদিন সব শেষে  যখন মায়ের বাসায় যাই, তখন মায়ের সহায়তাকারী ট্রেতে করে কিছু খাবার এনে খেতে দিলো। বলল দু দিন আগে মা বলেছিলেন, আমি সেইদিন যাব, তখন আমাকে যেন খেতে দেয়। মা প্রতীক্ষায় ছিলেন, আমি যাইনি, তাই খাবার রয়ে গিয়েছিল...

 স্ট্রোক করার কয়েক ঘন্টা আগেও মায়ের সাথে ফোনে কথা হয়েছে, একবার যদি বলতেন তিনি আমার অপেক্ষায় আছেন... এই আফসোস জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমার মনে থাকবে।

নিজের সংসার হবার আগে পর্যন্ত জীবনের সব কিছুতে মা জড়িয়ে ছিলেন;  তারপর নিজের সংসার, সন্তান- সন্ততি নিয়ে জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এলাম। ভেবেছিলাম এই জীবনে মায়ের ভূমিকা তেমন ছিল না। অথচ আজ দেখছি, আমার জীবনপথে ছায়াতরু হয়ে ছিলেন মা; এখন ছায়াতরু বিহীন পথে আমাকে একলা চলতে হবে...

আমি কিছুটা কঠিন সময় পার করছি এখন। তাই এখন আমার প্রিয় সামু ব্লগে পোস্ট পড়লেও মন্তব্য ঠিকমতো করতে পারছি না। এমনকি আমার নিজের পোস্টেও প্রতিমন্তব্য করা হচ্ছে না। তাই সব ব্লগারদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী, আপনাদের সুলিখিত পোস্ট পড়েও কোন মন্তব্য করতে না পারায়... আর আমার মায়ের জন্য আপনাদের সবার কাছে আমি দোয়াপ্রার্থী।

আগামীকাল ঈদ, সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাই।









 
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:১৪
৪৯টি মন্তব্য ৪৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভোটরঙ্গ (ছড়া)

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ২১ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:০৫


ভোটরঙ্গ (ছড়া)
নূর মোহাম্মদ নূরু

বলছে কেউ যেমন করেই ভোটে জেতা চাই,
ভুলে গেছে তারা বুঝি আগের দিন আর নাই।
জেতাটা কী এতই সোজা ভোটা-ভুটির খেলায়,
পিছন কথা স্মরণ করো যা খুয়েছো হেলায়।

মানুষ এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বনলতা সেন

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৫৪



জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কবিতাটি পড়েননি এমন পাঠক খুব কমই পাওয়া যাবে। অদ্ভুত একটা কবিতা। বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দকে বলেছিলেন- ‘প্রকৃত কবি এবং প্রকৃতির কবি’। কবিতাটি প্রথম প্রকাশ করেছিলেন কবি... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার খোজে

লিখেছেন শের শায়রী, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১:০৩



চলুন কিছু প্রাচীন সভ্যতার খোজ নিয়ে আসি। এগুলো সব হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা। হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা যখন পড়ি আমি তখন হারিয়ে যাই ইতিহাসের স্বর্নালী দিন গুলোতে ওই সব জাতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বায়না

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ৮:২৭



তিড়িং বিড়িং খোকন নাচে,
হরেক তার বায়না।
দিতে হবে কিনে তাকে,
জাদুকরী আয়না।

ভেবে ভেবে মা যে তার,
হলো কুপোকাৎ।
বাবা বলে দেবো দেবো,
পোহাক আগে রাত।

রাত নিশিথে খোকন সোনা,
ঘুমে স্বপ্ন দেখে।
তেপান্তরের মাঠে এক
বক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য আনএক্সপেক্টেড ব্রাইড (পর্ব চার)

লিখেছেন অপু তানভীর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৩৭


পর্ব এক পর্ব দুই পর্ব তিন

সাত

অরিন কিছু সময় চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো নোরার দিকে । ওর ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না নোরার কথা । অবশ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×