somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কুশন
আলো –অন্ধকারে যাই- মাথার ভিতরে স্বপ্ন নয়,- কোন এক বোধ কাজ করে! স্বপ্ন নয়- শান্তি নয়-ভালোবাসা নয়, হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়! আমি তারে পারি না এড়াতে, সে আমার হাত রাখে হাতে; সব কাজ তুচ্ছ হয়,-পণ্ড মনে হয়। -জীবনানন্দ দাশ

বাংলাদেশের গ্রাম

০৯ ই জুলাই, ২০২১ দুপুর ১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ গুগল

এবার দেশে ফিরলে আমি খুব দূরের কোনো গ্রামে যাবো। একদম অজপাড়া গা যাকে বলে। মাটির রাস্তা, বাঁশের সাঁকো, মাটির রাস্তায় দুই পাশে থাকবে সারি সারি নানান রকম গাছ, প্রতিটা বাড়িতে পুকুর থাকবে, পুরো গ্রামে একটা বড় দীঘি থাকবে। গ্রামের শেষ মাথায় থাকবে কোনো সুন্দর নদী। যে গ্রামে যেতে সময় লাগবে ১৮ থেকে ২২ ঘন্টা। শহর থেকে বাসে উঠবো, বাসে করে দুটা ফেরি পার হতে হবে, বাস থেকে নেমে ইঞ্জিন চালিত নৌকায়, নৌকা থেকে নেমে প্যাঁককাঁদায় হাঁটা পথ। এক ঘন্টা হাঁটার পর রিকশা। রিকশা থেকে নেমে আবার হাঁটা পথ। বাংলাদেশে এত দূরের কোনো গ্রাম কি আছে? নিশ্চয় আছে।

আমার নিজের গ্রাম ঢাকার কাছেই। যেতে সময় লাগে আড়াই ঘন্টা। আমাদের গ্রাম আসল গ্রাম না। শহরের মতো। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল আছে, ফাস্ট ফুডের দোকান আছে, বিউটি পার্লার আছে, কমিউনিটি সেন্টার আছে, চায়নিজ রেস্টুরেন্ট আছে। কোনো মাটির রাস্তা নেই, বড় কোনো দীঘি নেই, পুকুর নেই- এমন কি কোনো নদীও নেই। এটা কোনো গ্রাম হলো? বাংলাদেশের বেশির ভাগ গ্রামই বদলে গেছে। এটা উন্নয়ন না অধপতন তা আমি সঠিক জানি না। সত্যিকারের গ্রামের স্বাদ আমি পেতে চাই। নদীতে আর পুকুরে লাফালাফি করে আমি গোছল করতে চাই মন ভরে। শহরে আরাম আছে কিন্তু শান্তি নাই।

আমি এবার এমন একটা গ্রামে যাবো সে গ্রামে বিদ্যুৎ থাকবে না। সন্ধ্যার পর থেকে হারিকেন বা কুপি ভরসা। সারারাত ঝি ঝি পোকা সমানে ডেকে যাবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে লুঙ্গি পরে পুকুরে নেমে গোছল করবো। গোছল শেষে গামছা দিয়ে শরীর মুছবো। গোছল করার আগে রঙ চা আর দুই মুঠ মুড়ি খাবো। গোছল করে এসে নানান রকম ভর্তা দিয়ে খুদের চালের বোয়া খাবো। দুপুরে মাটির উঠানে বসে ভাত খাবো নানান রকম দেশী মাছ দিয়ে। রান্না হবে অবশ্যই মাটির চুলায়। শুনেছি মাটির চুলায় রান্না স্বাদ ভালো হয়। বিকেলে স্কুল মাঠে গিয়ে ছেলেদের সাথে ফুটবল খেলবো।

প্রতিটা ঋতুতে গ্রামের আলাদা আলাদা সুন্দর দেখায়। বর্ষাকালের গ্রাম সবচেয়ে সুন্দর। গ্রামের রাস্তা পানিতে ডুবে যায়। নৌকা ছাড়া গতি নাই। মাটির পথ গুলো পিছলা হয়ে থাকে তাই খুব সাবধানে হাটতে হয়। প্রতিটা গ্রামে সপ্তাহে একদিন হাট বসে। হাট থেকে কেনাকাটা করার মজাই আলাদা। গ্রামের মেলা গুলো হলো পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মেলা। আমি এক বিদেশীকে বিয়ে করেছি। সে কোনো দিন গ্রামের মেলা দেখেনি, হাট দেখেনি। তাকে এবার করোনা কমলে, আমাদের বাংলাদেশ দেখাতে নিয়ে আসবো। লিন্ডা আমার কাছ থেকে বাংলাদেশের গল্প শুনে শুনে, বাংলাদেশ দেখার জন্য অস্থির হয়ে আছে।

আমি আমেরিকার যে শহরে থাকি সেই শহরের নাম ফিলাডেলফিয়া। ছবির মতো সুন্দর শহর। বড় বড় বিল্ডিং নার শপিংমল এর অভাব নেই। অনেক বছর ধরে এখানে আছি। কিন্তু আমার মন পড়ে আছে আমার আমার দেশের কোনো অজপাড়া গায়ে। মাটির রাস্তায় খালি পায়ে হাঁটবো। খাল, বিল অথবা পুকুর বা নদীতে মাছ ধরবো। বিকেলে বাজারে গিয়ে খাটি গরুর দুধ দিয়ে চা খাবো। মাইলের পড় মাইল থাকবে সবুজ ধানক্ষেত। রাখাল গরু নিয়ে যাবে মাঠে। লাঙ্গল কাঁধে নিয়ে কৃষক হেঁটে যাবে। জমিতে কাজ করবে কৃষক। দুপুর বেলা কৃষকের স্ত্রী খাবার নিয়ে যাবে জমিতে। গ্রাম মানেই সুন্দর সুন্দর দৃশ্যের সমাহার।

শহরের মানুষের মতো গ্রামের মানুষদের এখনও ততটা কুটিলতা জটিলতা স্পর্শ করেনি। গ্রামে এখনও কিছু সরলতা আছে, ভালোত্ব আছে, মহত্ব আছে। গ্রামের মানুষ এই জন্যই শহরে এলে অস্থিরবোধ করে। দ্রুত গ্রামে ফিরে যাবার জন্য অস্থির বোধ করে। আমি আমেরিকা বেশি দিন থাকব না। প্রচুর টাকা পয়সা নিয়ে শ্রীঘই নিজের দেশের কোনো গ্রামে ফিরে যাবো। বাকি জীবটা গ্রামে পার করে দিবো। জমি কিনব। নিজের জমি নিজেই চাষ করবো। নানান রকম গাছ লাগাবো। গ্রামের বাচ্চাদের পড়াবো। জীবনে অনেক পরিশ্রম করেছি। আমার ধারনা আমার শেষ জীবনটা খুব আনন্দে কাটবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০২১ দুপুর ১:৫১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×