somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্ব ইজতেমা কে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতা নিরসনের উদ্যোগ ফলপ্রসু হয়েছে।

২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৫ দুপুর ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জানুয়ারি মাসের শেষ ভাগে সংঘটিত হওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে মানুষের মধ্যে বেশ অস্থিরতা কাজ করছিল। বিশেষত ২০শে জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসীন হওয়াকে কেন্দ্র করে পতিত স্বৈরাচার অনলাইনে খুব উল্লাস দেখাচ্ছিল। কিন্তু তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি। দেশের সকল কাজকর্ম আগের মতোই চলছে। ইন্টেরিম সরকার এখনও ক্ষমতায় নির্বিঘ্নে দেশ পরিচালনা করছে। কিন্তু ধর্ম প্রাণ মুসলমানদের মধ্যে আসলে যে বিষয়ে আতঙ্ক কাজ করছিল তা হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা কে কেন্দ্র করে। ডিসেম্বর মাসে খুব সম্ভবত তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষ মাওলানা জুবাইয়ের ও মাওলানা সাদপন্থীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন্ প্রাণ হারান। সারা দেশে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠে। মানুষের মধ্যে এক ধরণের বিস্ময় কাজ করেছিল যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করা নিয়ে দেশে এখন সংঘাত হচ্ছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে এমনিতেই দেশের মধ্যে প্রতিদিন আন্দোলন, মারামারি চলছে। তার মধ্যে এমন সংঘাতে তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা কমে গিয়েছে।

২০১৮ সালে তাবলীগ জামাত দুই অংশে ভাগ হয়ে যায়। একদল ভারত পন্থী মাওলানা সাদের অনুসারী এবং অন্য পক্ষ মাওলানা জুবায়েরের অনুসারী। মাওলানা জুবায়েরের জামাতের মধ্যে বাংলাদেশের তথাকথিত অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের প্রভাব রয়েছে। মাওলানা সাদ কোন এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, অর্থের বিনিময়ে ধর্মীয় জ্ঞান ও শিক্ষা দান অনুচিত। এরপর থেকে বাংলাদেশ অংশের তথা জুবাইয়ের পন্থীরা মাওলানা সাদ কে সঠিক আলেম নয় ফতুয়া দেয় এবং তাকে বাংলাদেশে যাতে না আসতে পারে তার জন্য বিগত সরকার কে চাপে রাখে। অন্যদিকে মাওলানা সাদের অনুসারীরা উনাকে ছাড়া ইজতেমা হতে দেয়া হবে না বলে হুশিয়ারি দেয়। ফলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার বাধ্য হয়ে দুইটি বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন করার জন্য দুই পক্ষকে অনুমতি দেয়। তারপরও মাওলানা সাদ ও জুবাইয়ের পন্থীরা বিভিন্ন সময় কাকরাইল মসজিদ দখল নিয়ে, জোড় জামাত নিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন।

জুবায়েরপন্থী অংশটির বর্তমান নেতৃত্ব হেফাজতে ইসলামের হাতে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া অভ্যুত্থানে হেফাজতে ইসলাম সক্রিয় ভূমিকা রাখে। বর্তমানে সংবিধান সংস্কার কমিটির প্রধান আলী রিয়াজ তার এক আর্টিকেলে দাবী করেছেন বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামীর কওমী শাখা হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। এই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় পীর সাহেব চরমোনাইয়ের একটি ভাষণে। তিনি বলেছিলেন, জামায়াতে ইসলামী কওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হুজুরদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। অনেক হুজুর তাদের এই ট্রাপে পড়ে গিয়েছে। ইন্টেরিম সরকারের সময় তাই হেফাজতে ইসলাম খুব প্রভাবশালী হয়ে পড়ে। তারা মাওলানা সাদ কে ভারতের দালাল আখ্যায়িত করে বাংলাদেশে আসতে দিবে না বলে হুশিয়ারি জানায়। অন্যদিকে মাওলানা সাদের অনুসারীরা শুরু থেকেই বলে আসছে ইন্টেরিম সরকার নিরপেক্ষভাবে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। তারা আরো অভিযোগ করেছে মাওলানা মামুনুল হকের প্রভাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাদপন্থী অনেক সমর্থকদের গ্রেফতার করেছে। অবশ্য পরে তারা ছাড়া পেয়ে যায়।

ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আরশাদ মাদানী বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালেও যখন তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে অস্থিরতা দেখা যায় তখন আরশানী সাহেব দুই পক্ষের সাথে বসে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেন। এবারও শান্তির দূত হিসাবে মাওলানা আরশাদ মাদামী সাহেব বাংলাদেশে এসেছেন। তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যেই মাওলানা আরশাদ সাহেব সাহেবের প্রচুর ভক্ত ও ছাত্র রয়েছেন যারা উনাকে মান্য করেন। ইন্টেরিম সরকার থেকে হয়তো বড়ো হুজুরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যে তিনি বাংলাদেশে সফর করে দুই পক্ষকে নিয়ে আসন্ন সমস্যার সমাধানে চেষ্টা করেন। মাওলানা সাহেব বাংলাদেশে খুব ব্যস্ত সময় কাটাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাবলীগ জামাতে বিএনপি-আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি সহ অনেক দলের সাপোর্টাররা গিয়ে থাকেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লোকজন্ বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেয়। এমন একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সংঘাত হলে বাংলাদেশের যেমন বদনামি হবে মুসলিম বিশ্বের মানুষের কাছে অন্যদিকে অমুসলিমরা এটিকে চরমপন্থীদের সংঘাত প্রচার করে প্রোপাগাণ্ডা চালাবে।

জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের অধিকাংশ ধর্মপ্রাণ মানুষ বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে সংঘাতের যে আশঙ্কা করছিল আশা করি মাওলানা আরশাদের আগমনে তা কিছুটা প্রশমিত হবে। এখন তাবলীগ জামাতের দুই অংশের লোকের সদিচ্ছার উপর বাকিটা নির্ভর করছে।

বি :দ্র :- আলেমদের তত্ত্বাবধানে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব ইজতেমা-জনকন্ঠ(২৪ জানুয়ারি) । মাওলানা আরশাদ মাদানী কে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ। আশা করি বিজ্ঞ আলেমসমাজ দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে নিজেদের ঐক্য ধররে রাখতে সক্ষম হবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৫ দুপুর ১২:৫৫
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুইটি প্রশ্ন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪০

১) জাতিসংঘ কি হাদী হত্যার বিচার এনে দিতে পারবে? ফিলিস্তিনি গণহত্যার বিচার কি জাতিসংঘ করতে পেরেছে?

২) আজকের পুলিশি হামলায় ছাত্র নেতারা ডঃ ইউনুসকে যেভাবে গালি দিচ্ছেন, তাতে কি জাতিসংঘ খুশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=যতই মোহ জমাই দেহ বাড়ী একদিন ঝরবোই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯



আমিও ঝরা পাতা হবো, হবো ঝরা ফুল,
রেখে যাবো কিছু শুদ্ধতা আর কিছু ভুল,
কেউ মনে রাখবে, ভুলবে কেউ,
আমি ঝরবো ধুলায়, বিলীন হবো,
ভাবলে বুকে ব্যথার ঢেউ।

সভ্যতার পর সভ্যতা এলো,
সব হলো এলোমেলো;
কে থাকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×