somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসমাপিকা , শুরুর অধ্যায়

২৩ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভোর রাতের দিকে ঘুম পেয়েছিল লীনার । উঠে পড়ল বিছানা ছেড়ে । গতকাল ক্লাস শেষে মুন্নী মেয়েটা এত সময় ধরে তাকে যেটা বোঝাতে চাইল , রাজী করাতে চাইল সে বিষয়ে লীনা কতখানি অপারগ মুন্নী বুঝল বলে বাঁচা গেল । কিন্তু লীনা নিজে ? সে কি পারছে নিজের সাথে বোঝাপড়া শেষ করতে? সে কি পারছে দীপুর কথা না ভেবে থাকতে ? কেন পারছে না ? পারতে তাকে হবে ।

ডলি মেয়েটার জন্য মায়া হয় । দিপুকে পাবার জন্য মরিয়া হয়ে গিয়েছে । কতভাবে কত কি করছে । ডলির সাথে দিপুকে মানাবে কি মানাবে না সেটা নিয়ে বিস্তর আলাপ চলে বন্ধুদের মধ্যে । দীপু যে ডলিদের গ্রুপটাকে তেমন পছন্দ করে না , দিপুর বন্ধুরাও না সে কথা মিথ্যে নয় । এতসব এলোমেলো ভাবনা রাত পার করে দিল তার , কোন সমাধান দিতে পারল না ।
লীনা এগিয়ে যেতে চায় । পরিবারের সন্মান আত্মসন্মান স্বনির্ভরতা এ শব্দগুলো নাড়াচাড়া করে মাথার কোষগুলো ভেদ করে । বড় চাচীর নির্মল আকাঙ্খা লীনাকে নিয়ে , বড় চাচী নিজের জীবনে যা পারেন নি তার সাথর্করূপ দেখতে চান লীনাকে দিয়ে । লীনার মমতাময়ী আদর্শময়ী মা তার মেয়েকে সুখী সৎ মানুষ হিসেবে আশা করেন , বড় চাচী স্বপ্ন দেখেন অনেক উঁচু । জানেনা লীনা সে কি পারবে আর পারবে না । তবে এসব মানুষের নি:স্বার্থ চাওয়ার কাছে প্রনতি জানায় সে ।

বিবাদহীন , নির্ঝঞ্ঝাট জীবন কাম্য লীনার । তার পর্যবেক্ষন ক্ষমতা, চেনা জানা অনেকের চেয়ে বেশী ; ভুল করবার ব্যাপারে সাবধান হতে চায় সে । তবু বার বার এত সব যুক্তির ছিদ্রদ্পথে ঢুকে পড়ে দিপু , দীপুর দুই চোখ । ওই দু'চোখে কত কথা ! কেমন আকুলতা ! লীনার মত শক্ত, বুদ্ধিমতী মেয়েও পারে না তাকাতে দীপুর চোখে । হারিয়ে যাবার , হেরে যাবার ভয় তার । একটা কিছু বিহিত হওয়া দরকার । যত তাড়াতাড়ি পারা যায় সবার মঙ্গল , কানাঘুষা থামবে ।

নাহ্ , আজ সে কথা বলবে দীপুর সাথে । ডলি তাকে এত ভালবাসে , সে কেন ডলিকে উপেক্ষা করবে । ডলি স্মার্ট , আধুনিক , লেখা-পড়ায় ভাল । কেন তাকে দীপু এড়িয়ে যাবে । ডলি লীনারও সহপাঠি বন্ধু ।

ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে এলে মনে হয় এক অন্য জগৎ । নাগরিক জীবনের যন্ত্র , যন্ত্রনারা এখানে পরিভাষা পায় নির্জনতার । শহুরে কোলাহল এখানে স্তব্ধ হয়ে থাকে তরুন -তরুনীদের জটলায় জটহীন জীবনের শুরু উপভোগের জন্য । কান পেতে থাকে তাদের নিষ্পাপ অঙ্গীকার শুনতে । গাছ-পালা , লতা-পাতা সবাই স্বাক্ষী দেবে বলে পাখী আর ফুলেদের দলে ভিড়িয়ে নেয় -- তারা যুগ যুগ ধরে অটল যেন ; যেন মানুষ গড়ার বিশাল এ কারখানার বিশুদ্ধ বাতাস তাদের আয়ু বাড়িয়ে দেয় । এখানে এলে মন খারাপ উড়ে যায় লীনার । আজ মন খারাপ নেই তার , তবে মন শক্ত করে এসেছে সে সেটা ধরে রাখার শক্তি নিয়ে দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে এক একবার ।

সকালের ক্লাসে না গিয়ে ক্যান্টিনে অপেক্ষা করে সে । জানে ১১টায় চা খেতে আসবে সব ক্লাস শেষে । দীপুর সাথে কথা বলতে হবে তার আজ ।সকল দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে , নিজেকে প্রস্তুত করে নেয় । দীপু আজ ক্লাসে এসেছে কিনা , চা খেতে আসবে কিনা ভাবতে ভাবতে কোণার টেবিলে গিয়ে জানালার পাশে চেয়ার টেনে নিয়ে বসল সে ।
জানালা দিয়ে দূরে রাস্তার লোক চলাচল দেখল খানিক ক্ষন । নিজেকে সহজ স্বাভবিক করবার জন্য এদিক ওদিক বিষয় খুঁজছিল । কেন স্পঞ্জ স্যান্ডেল পরেও জোরে জোরে হাটে কিন্তু পিছলে পড়ে না স্যাঁতসেঁতে ফ্লোরে ক্যান্টিনের ছেলেরা , কেন ক্যান্টিন ম্যানেজারের ভুড়ি ফুটবলের মত মোটা , কেন ছোট ছোট ছেলেরা সারাক্ষন ফরমায়েস খাটে এখানে -- যাবতীয় ইস্যু আজকে মাথায় আনছে যেচে ।

মাঝে মাঝে ঘাড় ঘুরিয়ে ক্যান্টিনের দরজার দিকে তাকানো ছাড়া আর কিছু কাজ পাচ্ছিল না । ঘনিষ্ট বান্ধবী মিতা আর রুমাকে দেখে ডেকে নিল । ওদেরকে বলে দিল তার আজকের পরিকল্পনা , মানে দীপুর সাথে কথা বলবার বিষয়টা । হঠাৎ দরজায় চোখ পড়তে দেখে দীপু ঢুকছে সাথে যথারীতি রবি , মিজান আর শান্ত । দূর থেকে খেয়াল করলো দীপুর চোখ ওর দিকে পড়তেই কেমন থমকে গেল মূহুর্ত । কি জানি লীনার ভুলও হতে পারে !
ক্যান্টিনের পিচ্চিটাকে ডেকে টেবিল দেখিয়ে সাদা শার্ট , কাল প্যন্ট পরা দীপুকে ডাকতে বলতেই সে নিজে থেকে বলে উঠল , দীপু ভাইজানরে ডাকব ? একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে চলে যায় ডাকতে । ততক্ষনে মিতা আর রুমা উঠে দাড়ায় যাবার জন্য । এ সব শিখিয়ে দিতে হয় না । বড় হতে হতে চোখ কান কত কি শিখিয়ে দেয় ।
দীপু এসে উল্টো দিকে চেয়ার টেনে বসে । স্নিগ্ধ হাসি ছড়িয়ে আছে চোখে মুখে । লীনা জানে স্নিগ্ধ হাসির ব্যাপারটা মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় । কিন্তু জানেনা , দীপুর এ মুখচ্ছবির বর্ননা আর কিভাবে দেয়া যায় । সিগারেটটা লুকিয়ে ধরা বা হাত পেছনে রেখে দীপু সোজা হয়ে বসে ।
বলে , কি খবর কেমন আছো ?
লীনা জবাবে ভাল আছি বলে থেমে থাকে ।
'মাষ্টার্সের ক্লাস শুরু হয়ে গিয়েছে এখন ক্লাসগুলো এত ইম্পর্ট্যান্ট , আসো নি কেন ক্লাসে ? আমি ভেবেছিলাম দেরী হলেও ঢুকবে । পরে দেখি আসলে না । ঠিক আছো তো ?' বলে দীপু ।

এক নি:শ্বাসে এতগুলো কথা বলতে বলতে খেয়াল করে লীনা কেমন মূর্তির মত তার দিকে তাকিয়ে আছে । কিছু শুনেছে কিনা বুঝতে পারে না । বলে , লীনা তোমার কি কিছু হয়েছে ? রাতে ঘুমাও নি , কেমন যেন লাগছে দেখতে । কেন ডেকেছো ?

দেরী না করে বলে লীনা , 'ডলি মেয়েটা আছে না আমাদের সাথে বেশ ভাল মেয়েটা । আমার তো ভালই মনে হয় ' ।
নড়ে চড়ে বসে দীপু , গম্ভীর হয়ে যায় ।
লীনা , 'শুনছো কি বলছি ? ডলিকে তোমার কেমন লাগে '?
দীপু , ' হু'
সিগারেট ধরা বা হাত তার সামনে চলে আসে । দুই হাত একসাথে করে রাখে টেবিলে ।

লীনা বলে, 'মেয়েটা তোমাকে অনেক পছন্দ করে '।
আরো কি কি বলার ছিল , দেখে দীপু ঘাড় ঘুরিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে এক রাশ বিরক্তি নিয়ে ।
লীনা হাল ছাড়বেনা ঠিক করে রেখেছে । বলে , 'তুমি ওর ব্যাপারে কিছু একটা সিদ্ধান্ত নাও' ।
দীপু , বাইরে দূরে তাকিয়ে বলে , ' কি রকম সিদ্ধান্ত নেব ?'
লীনা , 'বুঝতে পারছো না ? পজিটিভ একটা সিদ্ধান্ত নেবার কথা বলছি ওর ব্যাপারে ।'

দীপু সরাসরি তাকায় লীনার চোখে , এক রাশ ক্রোধ দু:খ মেশানো , বোবা চোখের অজস্র শব্দ অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে পলকের মধ্যে লীনাকে শব্দহীন করে দেয় ! লীনা চোখ নামিয়ে নেয় ।
চেয়ার সশব্দে পেছনে ঠেলে উঠে পড়ে দীপু , গুরুগম্ভীর স্বরে বলে , ' আর
কিছু বলবে ? নাকি আরো বাকী আছে ' ।
তারপর উত্তরের অপেক্ষা না করে দ্রুত চলে যায় সেখান থেকে ।

চলবে....
পরের অধ্যায় Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৪৬
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×