প্রিয় গারো বন্ধুরা,
আশা করি সকলে ভালোই আছ। জানি সকলেই আমার এই ব্লগে পত্রটি পড়ে কতটা খুশি অথবা দুখি বোধ করবেন জানিনা। তবে একটা জানাতে চাই যে, বর্তমানে আমাদের গারো জাতি অনেকটা এগিয়ে থাকলেও; আমাদের অধিকার ঠিকমত পাচ্ছেনা। আর এসবের মূলে রয়েছে, আমাদের মূর্খতা। কারণ এখন অনেক পরিবার বা জনসমস্তি কুসংস্কার দ্বারা আচ্ছন্ন রয়েছে। তারা মনে করে তাদের অযৌক্তিক কথাগুলোই জীবনকে গড়তে পারে। কিন্তু না তাদের এ ভাবনা আজকের গারো জাতিকে কতটা নিচে ঠেলে রেখেছে তা তারা বুঝতে চাইনা। তাই আজকের সকল গারো সম্প্রদায়ের চাদাম্বে বা যুব সমাজকে আমি জানাতে চায় যে, সকল কুসংস্কার ও বুড়াবুড়িদের ঐতিহ্যকে ত্যাগ করে কীভাবে সামনে ভালো কিছু করা যায় তা নিয়ে ভাবুক। তাহলেই গারো সমাজ উন্নয়ন সম্ভব। গারো জাতির উন্নতির প্রচুর অন্তরায় রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান অন্তরায় হলো- মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা। এটি গারো সমাজে এমন এক সমাজ সৃষ্টি করেছে যে, গারো ছেলেরা এর ফলে অলস জীবন যাপন করে চলেছে। যদিওবা তারা কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে। তবুও তারা জানে তাদের পরিশ্রমের অর্থ তাদের কপালে জোতবেনা। তাদের সকল উপার্জিত টাকা পয়সা তাদের মাহারীর মেয়েরা পেয়ে যাবে। তাই তারা তাদের উপার্জিত টাকা পয়সা খুব বিলাসীতার মাধ্যমে শেষ করে ফেলে। আমি লেখক এর পক্ষে এটাই বলতে চাই যে, গারো জাতির ছেলেদের জন্য এটাই লাভ। কারণ তারা তাদের উপার্জিত টাকা যতই ব্যয় করবে ততই তাদের জীবন আরামে কাটাবে। কারন তাদের উপার্জিত অর্থ তাদের ভবিষ্যতে কাজে লাগবে না ১০০%। বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষকে স্ত্রীর কথায় সবকিছু করতে হয়। আর বিয়ের আগে পুরুষকে পরিবারের শাষনের নিচে থাকতে হয়। কোনদিন গারো পুরুষরা গারো সমাজে মর্যাদা পায়না । বরং অত্যাচার অবহেলিতভাবে জীবন যাপন করতে হয়। মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা যদি পরিবর্তন করে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা করা হতো থাহলে গারো জাতির অনেক উন্নতি হতো। অন্যান্য জাতির মতো অনেক অর্থের মালিক হওয়া খুবই সহজ হতো। কারণ সেসময় গারো ছেলেরা তাদের কঠোর কায়িক পরিশ্রমের দ্বারা প্রচুর অর্থ উপার্জন করে আয়রোজগার করতে পারত। কারণ মেয়েদের তুলনায় পুরুষরা উপার্জন করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে একটি কথা বলা আছে যে, মহিলারা পুরুষদের চাইতে বেশি উপার্জন করে। মহিলারা এসব করতে পারে, কারণ সমাজে তাদের মূল্যায়ন আছে। আর পুরুষদের কোন দাম নেই। মহিলারা জানে তাদের উপার্জিত টাকা পয়সা তাদেরই হবে। তাই তারা তাদের ইচ্ছামত উপার্জন করে সঞ্চয় করতে পারে যা পুরুষরা চাইলেও পারেনা। তাই সকল গারো জাতির প্রতি আমার ছোট বক্তব্য যে, পুরুষদের মূল্যায়ন দিতে শিখুন। নাহলে অন্য জাতিদের নিচে আজীবন নাখামবর্তা হয়ে থাকতে হবে। ররিদের কাছে নিজেদের নারীদের বিক্রি করে খেতে হবে। এটাই গারো সমাজের ভবিষ্যৎ হয়ে পড়ছে মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার কারণে। আমেন।
সবশেষে, একটু মেধা কাটাবেন পিয় পাঠক বন্ধুগণ এবং আমার কথাটি একটু ভেবে দেখবেন।
ইতি
পিআরএম রাংসা মারাক


সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


