somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকারি চাকরিজীবীদের 'টাইট' করার ১৪ দফা

০৭ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সকাল নয়টায় সরকারি কর্মচারীদের অফিসে পৌছানো নিয়ে দেখছি সরকার খুব তৎপর। এই তৎপরতার সাথে যোগ হয়েছে সকাল সকাল সাংবাদিকদের সরকারি অফিসগুলাতে হানা দিয়ে অফিসার আসছে কিনা সেটা লাইভ করার ব্যাপারটা।

সরকারের তৎপরতা আর সাংবাদিকদের লাইভ একে অপরকে এই ঘটনা এক্সট্রিম লেভেলে নিয়ে যেতে সহায়তা করছে। অবস্থা এমন দাড়িয়েছে ভয়ে সরকারি কর্মচারীদের সকালে ঘুম পড়ার অবস্থা নেই।

গুলশান থেকে প্রধানমন্ত্রী গুলিস্তান সচিবালয়ে সকাল নয়টায় পৌছাচ্ছেন অফিস করার জন্য। ফলে সচিবালয়ের সব সচিব ও অন্যান্য স্টাফরা পড়ছেন বিপদে! তাদেরও সকাল নয়টায়ই ঢুকতে হচ্ছে অফিসে।

যদিও যতদূর জানি, সচিবালয়ে ফিংগার দিয়ে এটেন্ডেন্স দিতে হয়। তারা অনেক আগে থেকেই সকাল নয়টায় অফিস করেন।

মুশকিল হয়েছে ফিল্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। তাদের ফিংগার দেওয়ার অভ্যাস নেই। তারা সাধারণত নয়টার অফিস সাড়ে নয়টা বা পৌনে দশটায় উপস্থিত হয়ে করেন। এখন তাদের নয়টায় এডজাস্ট করতে বেগ পেতে হচ্ছে।

অফিস নয়টায় কড়াকড়ি করার ব্যাপারটাকে এক অন্য লেভেলে নিয়ে গিয়েছেন সাংবাদিক ভাইয়েরা। তাদের ফেসবুক লাইভ ও ইউটিউব ভিডিওর কমেন্ট বক্স দেখলে আরেক চমৎকার জিনিস দেখা যাচ্ছে, তা হলো সাধারণ মানুষ আসলে সরকারি কর্মচারীদের ব্যাপারে কী মনে করে।

সাধারণ মানুষ সাধারণত সাংবাদিকদের প্রশংসা করেন না। এসব নিউজের কমেন্ট সেকশনে তারা সাংবাদিকদের সরকারি কর্মচারীরুপি চোরকে হাতেনাতে ধরার জন্য প্রশংসা করছেন বেশ। কিন্তু তুলাধুনা করে দিচ্ছেন সরকারি কর্মচারীকে। তারা মনে করছেন সরকারি সব কর্মচারী এবার টাইট হয়ে যাবে। গায়ে হাওয়া লাগিয়ে জনগনের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নেওয়ার পথ বন্ধ হওয়ার দিকে যাচ্ছে এবার।

সকাল নয়টায় অফিসে আসা বাদে সরকারি কর্মচারীদের টাইট করতে আর কী কী করা যায়। সাধারণ জনগনের কমেন্টের উপর গবেষণা করে কয়েকটি বিষয় আমার মাথায় এসেছে।

১. সকাল নয়টা অফিস সরকারি কর্মচারিদের অফিস টাইমের জন্য অনেক দেরি হয়ে যায়। তাদের অফিস শুরু হবে সকাল সাড়ে সাতটায়, অফিস চলবে মাগরিবের আজান পর্যন্ত। মাগরিবের আজান পাঁচটায় দিলে পাঁচটা পর্যন্ত অফিস, সাতটায় দিলে সাতটা পর্যন্ত।

২. কর্মচারিদের ফোন খোলা রাখতে হবে চব্বিশ ঘন্টা। মাগরিবের পর কারো যদি দরকার হয় তখন সাধারণ মানুষ তাদের ফোন দিয়ে সেবা নিবে।

৩. প্রত্যেক কর্মচারির হোয়াটসঅ্যাপ থাকা বাধ্যতামূলক, এবং চব্বিশঘন্টা অনলাইনে থাকতে হবে। রাতে বাসায় যাওয়ার পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়া, ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এটেন্ড করা, জনগনের হোয়াটসঅ্যাপ কল রিসিভ করা ইত্যাদি হবে তাদের আবশ্যিক দায়িত্ব।

৪. প্রত্যেক কর্মচারীকে রাতে বাসায় অফিস করার জন্য অবশ্যই নিজ নিজ বাসায় নিজস্ব খরচে অফিস সেটাপ তৈরী করতে হবে। রাতে যেসব ইমারজেন্সী নির্দেশনা হোয়াটসঅ্যাপে আসবে বা সাধারণ জনগনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ রাতেই যেন করে দেওয়া যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। বলা তো যায় না সকাল পর্যন্ত অনেকেই ওয়েট করতে পারবে না। তাতে জনসেবা ব্যহত হবে। দেশ পিছিয়ে যাবে।

৫. সরকারি কর্মচারিরা সারাদিন ঘুষ খায়। তাদের বেতন না হলেও চলে। তারপরও যদি বেতন দিতে হয় সেটা খুবই কম দেওয়া উচিৎ। এমন বেতন দিতে হবে যেন সে বেতনে তার অফিস যাতায়াত ভাড়া আর বাসাভাড়া কোনমতে চলে। বাকি সাংসারিক খরচ, বাচ্চাদের পড়ালেখা খরচ, চিকিৎসা খরচ, বাজার খরচ, গ্রামের বাড়িতে বাপ-মা কে দওয়া খরচ, ভাই-বোনের পড়ালেখা খরচ, কাপড় চোপড় কেনা খরচ, আত্মীয় স্বজন পারপাজে খরচ, বিনোদন ও ঘোরাফেরা খরচ ইত্যাদি যত খরচ আছে তা ঘুষ খেয়েই ম্যানেজ করতে হবে। যদিও এমন ব্যবস্থা করতে হবে যেন তারা বিনোদন ও ঘোরাফেরার সুযোগ কোনভাবেই না পায়।

৬. যেমন একজন ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তার (যেমন পুলিশের এসআই) বেসিক বেতন হবে ১৬০০০ টাকা। তারা আবার বিভিন্ন ভাতা পায়। সব মিলিয়ে আরো ১০ হাজার। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম। পোস্টিং ঢাকায়। এই ২৬ হাজার টাকা বেতনেই তাকে চলতে হবে। বাকি টাকা সে কোথায় পাবে এটা তার ব্যাপার। না পারলে চাকরি ছেড়ে দিবে।

৭. সরকারি প্রত্যেকটা প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে যে টাকা প্রয়োজন বাজেট দিতে তার অর্ধেক। সরকারি কর্মচারীরা এই বাজেটেই প্রজেক্ট সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে বাধ্য থাকবেন। প্রজেক্ট দেখভালের জন্য সাংবাদিক ভাইদের আরো তৎপর হতে হবে।

৮. প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীর পোস্টিং যেন তার জেলা থেকে মিনিমাম ৩০০ কিলোমিটার দূরে হয় সে ব্যবস্থা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। বাড়ির কাছে থেকে চাকরি করে তার দেহে যেন তেল না জমে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৯. সরকারি কর্মচারিদের অফিস চালানোর জন্য সরকার থেকে কোন বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। এটা তারা কীভাবে করবে এটা তাদের ব্যাপার। অফিসের যাবতীয় খরচ তারা নিজেরা মেনেজ করবে। প্রয়োজনে বাড়ির জমি বিক্রি করে মেনেজ করবে। যার বাড়ি বিক্রি করার মত জমি নেই তার চাকরি করার দরকার নেই। আর সরকার যদি বাজেট দেইও খুব অল্প বাজেট দিতে হবে। ১০০ টাকা খরচ হলে বরাদ্দ দিতে হবে ১০ টাকা।

১০. প্রত্যেক সরকারি কর্মচারিকে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে মাগরিব পর্যন্ত অফিসেই অবস্থান করতে হবে। অফিসের প্রাসঙ্গিক যদি কোন কাজ বাইরে থাকে সেটা করতে হবে নিজ দায়িত্বে রাতের বেলা। মিটিং নিজের অফিসে হলে করা যাবে। অন্য অফিসে যেয়ে মিটিং করতে হলে রাতে করতে হবে। অফিস টাইমে অফিস ত্যাগ করা যাবে না।

১১. শুক্র, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বন্ধ করতে হবে। আমাদের মতো গরিব দেশে সরকারি কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি দেওয়া বিলাসিতা। তারা বড় জোর শুক্রবার জুমার নামাজের এক ঘন্টা আগে ছুটি দেওয়া যায়, যাতে তারা গোসল করতে পারে। নামাজ শেষ করে আবার অফিসে আসতে হবে।

১২. কোন কর্মচারীকে এক স্টেশনে এক বছরের বেশি চাকরি করতে দেওয়া যাবে না। ঘন ঘন বদলি করতে হবে।

১৩. প্রতি তিন বছর পরপর সরকারি কর্মচারীরা পনের দিনের শ্রান্তিবিনোদন ছুটি পায়। সাথে একটা বেসিক বেতনের সমান টাকা পায়। এসব কালাকানুন বন্ধ করতে হবে। টাকা পয়সা দেওয়া যাবে না। খাতা কলমে ছুটি দেওয়া যাবে, কিন্তু কোন কর্মচারীই যেন বাস্তবে শ্রান্তি বিনোদন ছুটি না পায় সেটি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

১৪. নিজের সন্তান যেন সরকারি চাকরি পেয়ে সবরকমের দূর্নীতি বন্ধ করতে পারে এজন্য ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে হলেও নিজের সন্তানকে সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। এবং নিজের মেয়েকে অবশ্যই বিসিএস ক্যাডার না হলেও অন্তত প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না। যেন বিয়ের পর মেয়ে তার সরকারি কর্মকর্তা জামাইকে ভালবাসা দিয়ে ঘুষ-দূর্নীতি থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে।

এসব ব্যবস্থা নিলে আশা করা যায় দেশের সব অন্যায় বন্ধ হয়ে দেশ উন্নয়নের দিকে ধাবিত হবে। বাংলাদেশ হবে অন্য দেশের জন্য রোল মডেল।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৪
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রমজান ২০২৬ এর সাত দিন ও আমার ইফতার প্লাটারস..... :) :) :)

লিখেছেন শায়মা, ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫১

সেই যবে থেকে আমি এই ব্লগে পদার্পন করেছিলাম তবে থেকেই আমি রোজা রমজানে আর কিছু না হোক আমার ক্রিয়েটিভিটির নানা রকম ইফতার ও তার রেসিপি দিয়ে আসছিলাম। কালের বিবর্তনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ ও অপরিচিত বাংলাদেশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:০৮



আমি অনেক প্রবাসী বাংলাদেশীর কাছে শুনেছি, খুব গর্ব করে বলেন “তিনি যেই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি। তিনি যেই আবাসিক ভবনে বসবাস করেন তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি। তিনি যেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিয়ানে আলী - পারপিচুয়াল রেভোল্যুশনারিদের কাল্ট

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ০৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:১৫



১।

ছোটবেলা থেকেই বাংলাদেশের মুসলিমদের বড় হওয়া সুন্নি ইসলামের ক্রোড়ে। হয়তো কখনো কারবালার ঘটনা প্রাসঙ্গিক ছিল এ দেশে। আমাদের মা খালাদের আমলে। তখনও ইন্টারনেটের তরঙ্গে ভেসে সৌদি সালাফিজম বাংলাদেশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ । বাঙালির জাগরণের নতুন অধ্যায় শুরু হয় এই ভাষণের মাধ্যমে ।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:৫২


১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ । এই ভাষণে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বাধিকারের দাবি তুলে ধরেন এবং পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আহ্বান... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: পশ্চিমা গণতন্ত্র আর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৭ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


"ইসরায়েল এবং শয়তান যদি একে অপরের সাথে যুদ্ধ করে, আমরা শয়তানের পাশে থাকবো।"

বাংলাদেশে কেউ যখন আমাদের হুমকি দেয়, তখন বলে, "এই, আমি কে, চিনোস!" তবে দেখা যায়, হুমকিদাতা বড়জোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×