somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দৃষ্টিনন্দন দরজা- ডিজাইনস্‌ ডোর

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দরজা- ঘর থেকে বের হওয়া বা ঘরে ঢোকার একমাত্র মাধ্যম যার প্রধান কাজ বাড়ী বা কক্ষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হলেও কখনো কখনো এই দরজাই হয়ে উঠতে পারে ঘরের সৌন্দর্যের একটি প্রধাণ উপকরণ। প্রচলিত উপকরণগুলোর মধ্যে আধুনিক স্থাপনার কাঁচ, ব্যাংকের ভল্টের স্টীল, সাধারণ টয়লেটের পারটেক্স বা প্লাইউড ইত্যাদি জনপ্রিয় হলেও এখন পর্যন্ত সনাতন ঘরানার কাঠের দরজার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। আর এই কাঠের দরজার মধ্যেও অতি অভিজাত শ্রেণীর দরজা হলো "ডিজাইনস ডোর" বা কারুকার্য খচিত দরজা। এই ডিজাইনস ডোর নিয়েই বলবো এখন।

কাঠের কারুকার্য বা নকশাতো যেকোন দরজাতেই থাকতে পারে কিন্তু "ডিজাইনস ডোর" এর ধারণাটা একেবারেই অনন্য। ডিজাইনস ডোর বলতে বুঝায় "একদম ইউনিক ডিজাইনের একটি মাত্র দরজা"।

এটি একপ্রকার বিমূর্ত শিল্প যার একটি মাত্র কপিই তৈরী হয়। পরে কখনো হুবহু একই ডিজাইনের দরজা আর তৈরী করা হয়না।

"ডিজাইন ডোরস্"এর বিশেষত্ব কি? এর মূল বৈশিষ্ঠ হল এর কাঠ। সাধারণ বার্মাটিক এ তৈরী হলেও এই কাঠের জন্য একটি বিশেষ প্রকার সিজনিং প্রয়োজন হয়। এই সিজনিং টি সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুলও বটে। সিজনিং করা কাঠটির ওপর করা হয় নকশা। সাধারণত ফুল, লতা-পাতা, পাখি ও প্রজাপতি, মাছ এমনকি কখনো কখনো বিমূর্ত শিল্পও ডিজাইন করা হয়। সিজন করা থেকে শুরু করে ডিজাইন শেষ করা পর্যন্ত ৩ থেকে (ক্ষেত্রভেদে) ৬ মাস পর্যন্ত লেগে যায়।

একটি সাধারণ ডিজাইন ডোরের উচ্চতা ৮ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। সিজনিংটা স্পেশাল হওয়ায় সাধারণ দরজার তুলনায় ডিজাইন ডোরের স্থায়িত্ব বেড়ে যায় বহুগুণে। কোন কোন ডিজাইন ডোরের ক্ষেত্রে ১০০ বছর পর্যন্ত স্থায়িত্বের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। ডিজাইন, কাঠের কার্ভ ও রং এর নিশ্চয়তাও বাড়ে বহুগুনে।

ডিজাইন ডোরস তৈরী করতে মূলত যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় তা হলো Wood Curving বা কাঠ খোদাই। এজন্য ডিজাইন ডোরসকে উড কার্ভড ডোরসও বলা হয়। উড কার্ভিং এর জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, যথেষ্ট ব্যয়বহুলও বটে। সাধারণ কাঠমিস্ত্রি নয় বরং বিশেষ প্রশিক্ষণ পাওয়া ৫-৬ জন দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হয় প্রতিটা ডিজাইন ডোর তৈরীতে। আর তাছাড়া মূল "ডিজাইন"টি আর্কিটেক্ট বা ডিজাইনারের মেধাস্বত্ব যাতে অন্যকেউ কোন হস্তক্ষেপ করতে পারবেনা।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:৫৪
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার কি ভালো লাগে, ভূত না জ্বীন?

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



হ্যা ভূতের গল্প ভালো লাগে।
নলে অবাক হবেন, আমি নিজেও ভূতের কবলে পড়েছি অনেকবার। অথচ জ্ঞানীগুণীরা বলেন, ভূত বলতে কিছু নেই। এই আধুনিক যুগে আমি নিজেও বিশ্বাস করি ভূত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শামস সুমন: এক মধ্যবিত্ত অভিনেতার নিঃশব্দ রুচিকর প্রস্থান

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭

শামস সুমন বিষয়ক সংবাদটি যখন স্ক্রীণে পৌছালো ততক্ষণে আমরা ঋদ্ধি ক্যাফেতে, মিরপুর। বসে আছি মাঝখানের টেবিলে। আমি দরজামুখি, ওপাশে রমিন এবং তার পাশে আরো দশ মিনিট পরে এসে বসবে ফরহাদ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mismatch( মিসম্যাচ)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:২২


বাংলাদেশ সরকারের নিয়োগ দর্শন: সঠিক মানুষ, ভুল চেয়ার। ভুল মানুষ, সঠিক চেয়ার। এবং কিছু ক্ষেত্রে, ভুল মানুষ, ভুল চেয়ার।একটা দেশ কীভাবে বোঝা যায়? অনেকে বলেন জিডিপি দেখে। অনেকে বলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার একটু ঘুম দরকার

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


আমার একটু ঘুম দরকার—
শান্তির, স্বস্তির গভীর এক ঘুম।
গা এলিয়ে, পা ছড়িয়ে দিয়ে
নিবিড়, নির্বিঘ্ন এমন এক ঘুম;
যে ঘুম পশুপাখির ডাক, মেঘের গর্জন,
বা বাঁশির সুরেও কখনও ভাঙবে না।

প্রভাত থেকে নিশীথ—বিরামহীন পথচলা,
ভাবনারা অহর্নিশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:৫৭


মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা
সীমানা পেরিয়ে নীরবে হামলা চালায়
কেউ বলে ড্রোন, কেউ বলে গুপ্তচর
আঁধার রাতে আদান-প্রদান করে খবর!

এর হুলের যন্ত্রণায় আইরন ডোমও কাতরায়
মিসাইলও ভাবে এই যুদ্ধে কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×