somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মৌরি হক দোলা
যদিও আমি ইংরেজী সাহিত্যের ছাত্রী, অন্যান্য ভাষার সাহিত্যও পাঠ করতে ভালোবাসি। নিজেকে সাহিত্যের জালে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা...

১৪ ই আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্লাসে যুক্তিবিদ্যার টিচার সিস্টার মিনতি একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন, ভালোবাসা বলতে আমরা কে কী বুঝি! বিশ্বাস, ভরসা, ভালোলাগা- সবাই একে একে উত্তর দেওয়ার পরে আমি বলেছিলাম, "কমিটমেন্ট"।

তখন মনে হয়, কলেজে ভর্তি হওয়ার পরে তিন বা চার মাস চলছে। প্রায় তিন বছর আগের কথা। স্কুলের গন্ধ তখনও গায়ের থেকে যায়নি। নাকি সেটা ২০১৯ এর জানুয়ারি মাস ছিল? ঠিক মনে পড়ছে না, একেকবার একেক সময়ের কথা মনে হচ্ছে। তো যাই হোক, তখন‌ও আমার জগৎ খুব সীমিত- সীমিত মানুষের সাথে মেলামেশা, সীমিত জীবনের কাছাকাছি যা‌ওয়া। এখন যে অনেক বেশি মানুষের সাথে মিশি কিংবা অনেকগুলো জীবন দেখে ফেলেছি, তা নয়! তবে ওই সময়ের তুলনায় একটু তো এগিয়েই আছি। স্বাভাবিক, যেহেতু সময়‌ও এগিয়ে গিয়েছে অনেক দূর।

তখন আমি প্রবলভাবে বিশ্বাস করতাম, ভালোবাসা অসাধারণ একটা পবিত্র বিষয়। আর "কমিটমেন্ট" এই সম্পর্কে অপরিহার্য। একজন আরেকজনকে ভালোবেসে যদি একে অপরের প্রতি কমিটেডই না থাকতে পারে, তবে আর কী ধরণের সম্পর্ক হলো!

সিস্টার সেদিন এই শব্দটা শুনে অনেকক্ষণ আলোচনা করেছিলেন এই বিষয়টা নিয়ে। তাঁর আলোচনার সারমর্ম ছিল এই যে, "কমিটমেন্ট" শব্দটা খুব‌ই ভারী, তাৎপর্যপূর্ণ এবং জটিল! সবাই এই কথাটার দাম রাখতে পারে না, অথবা সব সম্পর্কে এই কথাটা দাম পায় না।

এখন সিস্টারের কথার যথার্থতা কিছুটা উপলব্ধি করতে পারি। "কমিটমেন্ট" শব্দটা আসলেই জটিল। তবে একে জটিল করেছি আমরা, জটিল করেছে আমাদের জীবন। কারণ, আমাদের মন জিনিসটাই অত্যন্ত জটিল, সে নিজেও জানে না কখন কী চায়। তাই এই জটিল, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা আমাদের বেশিরভাগের জীবনের ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। এই কারণেই সম্পর্ক ভেঙে যায়, পরকীয়ার মতো ঘটনা ঘটে। একটা সময় ভাবতাম, সন্তানের কাছে তার বাবা-মা যেমন আপন, তেমন বাবা-মায়েরা দুইজন‌ও একে অপরের আপন। কোনো পার্থক্য নেই। জীবনে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম একজন স্ত্রী তার স্বামীকে "পরের ছেলে" বলছে কিংবা শ্বশুরবাড়িতে একটা মেয়ে "পরের মেয়ে" হিসেবেই পরিচিত, তখন খুব অবাক হয়েছিলাম। তারপরে, আরেকটু বড় হ‌ওয়ার পরে জেনেছিলাম- স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক কাঁচের গ্লাসের মতো। আর এই সম্পর্কে কাঁচটা হচ্ছে "বিশ্বাস"। একটি কাঁচের গ্লাস ভেঙে গেলে যেমন আর জোড়া লেগে আগের মতো হয় না, তেমন বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলেও আর জোড়া লাগে না। সম্পর্কের মধ্যে একটা চিড় ধরে যায়। সেই চিড়ের পরিমাণ কখনো বেশি হয়, কখনো কম হয়। তীব্র চিড় দূর থেকে দেখা যায়, কিন্তু সুক্ষ্ম চিড়ের প্রভাব শুধু কাছাকাছি থাকলেই টের পাওয়া যায়। দূর থেকে মনে হয় অত্যন্ত স্বচ্ছ, সুন্দর।

হয়তো... আমরা মন থেকে কমিটেড থাকতে পারি না বলেই সম্পর্কের কাঁচটা ভেঙে যায়। এই পৃথিবীর প্রত্যেকেই যদি তার ওই পাশের মানুষটার প্রতি সত্যিকারভাবেই "কমিটেড" থাকতে পারতো, তাহলে জীবনটা কত সুন্দর, নির্ভেজাল হতো; তাই না?

#মৌরি_হক_দোলা
১৪ই আগস্ট, ২০২১

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১১:২৩
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৯

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।
=======================================
অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি নামের ব্রিটেনের কিছু প্রবাসী বাংলাদেশিদের ছোট সংগঠন থেকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাকাজার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×