somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মৌরি হক দোলা
যদিও আমি ইংরেজী সাহিত্যের ছাত্রী, অন্যান্য ভাষার সাহিত্যও পাঠ করতে ভালোবাসি। নিজেকে সাহিত্যের জালে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

ভোলগা থেকে গঙ্গার আলোকে বহুগামিতা

২১ শে অক্টোবর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রাগৈতিহাসিক কালের উন্মুক্ত যৌন জীবন ব্যবস্থা সময়ের স্রোতে ভেসে অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। বহুগামিতা থেকে সরে এসে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একগামিতার ধারণা। তবুও কখনো কখনো বর্তমান সমাজে প্রায়ই একটা দাবির ছড়াছড়ি দেখা যায় যে- ‘মানুষ প্রাকৃতিকভাবে বহুগামী। তাহলে তাকে একগামিতার দোহাই দিয়ে সংযমের শৃঙ্খলে বন্দি করার চেষ্টা কেন?’ অনেকের মতে এই বহুগামিতা স্বাভাবিক প্রবৃত্তি বলেই যখন কেউ বৈধভাবে নিজের প্রবৃত্তি মেটাতে বাধা পায়, তখন সমাজে ধর্ষণ ও পরকীয়ার উৎপত্তি হয়।

কিন্তু মানব সমাজে বহুগামিতার থেকে সরে এসে একগামিতার ধারণা হঠাৎ করেই সৃষ্টি হয়নি। এর একটি আপাত ধারাবাহিক ইতিবৃত্ত পাওয়া যায় সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা রাহুল সাংকৃত্যায়নের "ভোলগা থেকে গঙ্গা" ব‌ইয়ে। এটা যদি ধরে নেওয়া হয় যে, এই ব‌ইয়ে বর্ণিত একেকটি সময়কালের সাথে সম্পৃক্ত সমাজ ব্যবস্থা একেবারে ভিত্তিহীন নয়, বরং তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে- তাহলে দেখা যাবে প্রথম অনুচ্ছেদে উপস্থাপিত দ্বন্দের একটা সম্ভাব্য উত্তর পাওয়া যাবে।

"ভোলগা থেকে গঙ্গা" ব‌ই অনুসারে, প্রাগৈতিহাসিক কালের গোষ্ঠী সমাজে বিবাহের কোনো ধারণা ছিল না। সকলেই সকলের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারত। "নিশা" ও "দিবা" পর্বে দেখা যায়, কখনো কখনো নারী তার সন্তানকে কিংবা ভাইকেও বেছে নিচ্ছে যৌনসঙ্গী হিসেবে। এমনকি "কনসেন্ট"এর কোনো ধারণাও "নিশা" পর্বে দেখা যায় না। তবে খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দ সময়কালে বর্ণিত "দিবা" পর্বে কাঙ্ক্ষিত সঙ্গীকে মুগ্ধ করার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়; যদিও কোনো নারীই পুরুষ সঙ্গীর কামনার আহ্বান ফিরিয়ে দিত না কখনো। কিছু কিছু পুরুষের ক্ষেত্রে লজ্জার অনুভূতি থাকলেও নারীদের মধ্যে তা অলক্ষিত।

"অমৃতাশ্ব" পর্ব অনুসারে, প্রায় ৫ হাজার বছর আগের সমাজে প্রথম বিবাহ প্রথা চালু হয়। তবে তখন নারীরা বিয়ের পরেও অস্থায়ী প্রেমিক রাখতে পারত। কখনো কখনো স্বামীই তার স্ত্রীকে উপহার হিসেবে অন্য পুরুষের নিকট পাঠাতেন। অর্থাৎ সে সময় প্রাগৈতিহাসিক কালের মতো উন্মুক্ত যৌনাভ্যাস না থাকলেও বহুগামিতা চলমান ছিল। এই ধারা প্রায় আরও হাজার বছর ধরে চলে।

আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার বছর আগের সময়কালে বা তার কাছাকাছি সময়েই সম্ভবত "ওয়ান-টু-ওয়ান" প্রেমসম্পর্ক গড়ে উঠতে থাকে নারী-পুরুষের মধ্যে। "সুদাস" পর্বের অপলা ও জেতার ভালোবাসার গল্প এই ধারণাই দেয়। এই সময়ের প্রায় আটশ বছর পরেও এক‌ই ধরণের সম্পর্ক দেখা যায় লোপা ও প্রবাহণের মধ্যে, যা নাগদত্ত-সোফিয়ার জীবন পেরিয়ে বর্তমান সময়‌ও বিদ্যমান।

তাই বলা যায়, সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষের অনুভূতির বিবর্তন ঘটেছে, ফলত মানুষ ধীরে ধীরে একগামী হয়ে উঠেছে‌। অর্থাৎ একগামিতা সভ্যতার পরিণতি। আর মানুষ সভ্য বলেই নিজের বহুগামিতা প্রবৃত্তিকে দমন করে আমাদের সমাজে গ্রহণযোগ্য জীবনব্যবস্থা বেছে নিতে চায় (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে), আর এটাই নৈতিক বলে সমাজে প্রতীয়মান হয়।

শনিবার
১৪ জুন, ২০২৫
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে অক্টোবর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:২৫
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট পোস্ট!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯


জুলাই সনদে স্বাক্ষরের দিন ড. ইউনুস বলেছেন, “এই সনদে স্বাক্ষর করলে আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতায় উন্নীত হবো।”
আর গতকাল উনি বলতেছেন বাঙালি হচ্ছে বিশ্বের মাঝে সবচেয়ে জালিয়াত জাতি! তো জুলাই সনদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯

তিন শ' এক//
আমার সাহস দেখে, জানি. তুমি খুব রেগে যাবে।
ঘরহীন, সর্বহারা ভালোবাসা জানায় কিভাবে ?

তিন শ' দুই//
চোখের মালিক ঘোর নিঃশ্বতার আঁধারে ডুবেছে;
তবুও বেকুব চোখ সুন্দরের নেশায় ডুবেছে!
...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশী ১৭৫৭, বাংলাদেশ ২০২৬ঃ সিরাজের বাহিনি ও বিএনপি

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০



সামনের ইলেকশনে যদি ডিপস্টেট, জামাত ও এঞ্চিপির যৌথ প্রচেষ্টায় 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' বা 'মেকানিজম' হয় (যেটার সম্ভাবনা নিয়ে অনেকেই আলোচনা করছেন অনলাইন-অফলাইন-দুই জায়গাতেই), তবে কি বিএনপি সেটা ঠেকাতে পারবে? পারবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জালিয়াতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪৯



জালিয়াতি -১
কয়েক মাস আগে, লন্ডন থেকে আমার এক আত্মীয় ফেসবুকে ম্যাসেজ করলেন যে, ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের সাথে আমার একটি ফোটোকার্ড ইন্টারনেট দুনিয়া কাঁপিয়ে দিচ্ছে। আমি চমকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নাই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৩


ঢাকার মিরপুরে পরিচয় গোপন করে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের এক পোড়খাওয়া নেতা টাইম ম্যাগাজিনের তারেক রহমান কে নিয়ে লেখা বাংলা অনুবাদ পড়ছিলেন । প্রচ্ছদে তারেক রহমানের ছবি, নিচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×