
কিচেনের জানালায় নুরজাহান রোডের অনেকখানি দেখা যায়। রান্নার কালি-ঝুলে বাতাবরণ নোংরা হয়ে আছে। তবুও এ জানালাটাই খুব পছন্দ আমার। বিশেষ করে এই বন্দি জীবনের যেদিন শুরু তখন থেকে।
প্রথম কারণটা প্রথমেই বলেছি; বাইরের অনেকখানি দেখতে পাওয়া।
পরের কারণঃ এটা দিয়ে বাইরে চাইলেই কেন যেন মনে হয়--
"আরেহ্! একটু পরেই সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে; বাইরে যেতে পারব।" আত্মপক্ষে যুক্তি দেখায় মন-- "এই লকডাউন/ফকডাউন, ভাইরাস এসব কিছুই না। এসব তোমার মনের গড়া। যেমন করে গল্পের চরিত্রদের গড়ো।"
মনটা কেমন চনমনে চাঙ্গা হয়ে ওঠে!
গত রাতের বেঁচে যাওয়া খাবারটুকু গরম করতে চুলায় বসিয়ে জানালায় উঁকি দিতেই প্রথমে ঝকঝকে পরিষ্কার রাস্তাটা নজরে এল। 'ঝাড়ু বুড়ি' আসেনা দশ-পনেরো দিন। তবুও কী পরিষ্কার!
আরেকটু দূরে ফ্লেক্সিলোডের বন্ধ দোকানটার সামনে দু'জন প্রৌঢ় বসে গল্প করছে। প্রায়ই করে। পোশাক তাদের গরীবী হালের পরিচয় দেয়। এখন আর কাছাকাছি বসে না। সামাজিক দূরত্ব মেনে বসে।
দ্বিতীয় কারণটা মনে এলো। "সব ঠিক হয়ে যাবে..."
হঠাৎ কী মনে করে জানালার শিকে খেয়াল হল। মনের পর্দায় ভেসে উঠল গত কদিন আগে বন্য প্রাণি অধিকার সংরক্ষণের শেয়ার করা লেবাননের চিড়িয়াখানার হাড় জিরজিরে সিংহটার ছবি!
আচ্ছা, চিড়িয়াখানার প্রাণিগুলোও কী বন্দি প্রাণে এমনি করেই ভাবে? জানালায় চাতকের চোখ রেখে নিজের মনকে নিজেই এমনি সান্ত্বনা দেয়?
"আরেহ্! একটু পরেই সব ঠিক হয়ে যাবে; বাইরে যেতে পারব...
বনে বাদাড়ে ঘুরে বেড়াতে পারবো। এ লোহার খাচার বন্দিত্ব এ সবি মিছে, সবি মিছে ভাবনা আমার।" মনকে সান্ত্বনার সুরে কী বলে--
"কোনো এক গাছের ছায়ায় ক্লান্তি মাখা চোখে ভাবছি এসব। আমারে কে বন্দি করবে!"
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৭:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




