somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছেলেবেলা - শেষ পর্ব ( যাত্রার শুরু)

১৮ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আগের পর্ব- ছেলেবেলা – তৃতীয় পর্ব ( কাক ও চড়ুইয়ের গল্প )

সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে এসে বাড়ির উঠোনে অপরিচিত কিছু লোক দেখে অবাক হলাম।
মুহূর্তেই বুঝতে পারি যে, আমাদের চিরদিনের তরে চলে যাওয়ার কথা ইতোমধ্যেই চাওড় হয়ে গেছে।

পরের কয়েকটা দিন যেন আমাদের নিজেদের দিন ছিল না। বিগত দিনগুলোতে পার করে আসা দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে নিত্য নতুন অনুভূতি আর ব্যতিক্রমী ঘটনাপ্রবাহের অভিজ্ঞতায় পরবর্তী কয়েকটা দিনে নতুন ভাবে সময় কাটতে থাকে। তখন একবারও মনে হয়নি, এমন আরো ঘটতে পারে। কেই বা জানতো, এ সবে শুরু? যেন, প্রবাহমান ঝর্ণা ধারার উৎসমুখে পর্বত চুড়ায় বরফ গলা পানির বিন্দু মাত্র, যার যাত্রা শুরু হয় সাগরের মোহনায় অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার চূড়ান্ত পরিণতির উদ্দেশ্যে।

কেমন যেন ঘোরের মধ্যে কেটে যাওয়া মুহূর্তগুলো ক্রমান্বয়ে ধীর্ঘতর হতে হতে একটি আরেকটি হতে আলাদা হতে থাকে। অস্তিত্বই অজানা ছিল, এমন দূরদূরান্তের আত্নীয় স্বজনদের পদধূলিতে আমাদের উঠোনের কুন্ঠিত হতে হয়েছে কিনা, জানি না। তবে, আমার মায়ের ব্যস্ততা বেড়েছিল, বহুগুন; সেই সাথে কষ্ট, শারীরিক ও মানসিক উভয়ই। আর আমরা যারা তুলনামুলকভাবে ছোট, কিন্তু কোলে উঠার বয়স পেরিয়ে এসেছি অনেক আগেই, তাদেরকে যখন কেউ কেউ কোলে তুলে নিচ্ছিল – তখন আনন্দের চেয়ে লজ্জা পাচ্ছিলাম ঢেঁড় বেশী।

ঘরের কোনায় কয়েকটা মরিচের চারা লাগিয়েছিল, মা নিজের হাতে। বাবার অভ্যেস হল ভাত খাওয়ার সময় কাচা মরিচ খাওয়া। খাওয়ার সময় ঘরে কাঁচা মরিচ না থাকলে, রান্নাঘর পর্যন্ত না গিয়ে কখনো কখনো মা এই গাছ থেকেই মরিচ এনে দিতেন। চারাগুলো মা প্রতিদিন একবার না একবার দেখতেন, নিজের সন্তানের মত। সেই মরিচের চারাগুলোকে কে যে পানি দিবে? পাতাগুলো যেভাবে নেতিয়ে পড়েছে, সেটা কি আজ কেউ পানি দেয়নি সে কারণে? কে জানে, তারাও হয়ত নিঃশব্দে শোক প্রকাশ করতেই এই পন্থা বেছে নিয়েছে।

ছোট ছোট কয়েকটা বাচ্চা নিয়ে লাল মুরগীটা মায়ের রান্নাঘরের পাশে ঘুর ঘুর করতে থাকে।
কিছু না কিছু একটা খাবার পাবার আশায়। তারা মনে হয় জানে না, কাল থেকে কেউ আর তদের ডাক শুনে এক মুঠো খুদের চাল উঠোনে ছুড়ে মারবে না, রান্নাঘরের ভিতর থেকে।

অনেকে আমাদের সাথে দেখা করতে আসছে, বিদায় জানাতে, শেষ বিদায়। দেখতে আসা মানুষের অভিব্যক্তিই, পরিবেশকে আরো ভারী করে তুলে। আমরা যেন রাঙ্গামাটি নামের এদেশেরই অন্য আরেকটা অংশে যাচ্ছি না, বরং আমরা যাচ্ছি না-ফেরার দেশে; যেখানে বিশাল বনে ভয়ংকর সব হিংস্র প্রাণী বাস করে। যেখানে যাওয়া কালাপানির নামান্তর মাত্র। নিছক অর্বাচীন না হলে কেউই স্বেচ্ছায় পরিবার নিয়ে এমন জায়গায় যাওয়ার কল্পনা করতেও ভয় পায়।

বয়স্ক মানুষের কারো কারো চোখে চাঁপা কান্না, আড়াল করার সাধ্য নেই, হয়ত বা সামর্থ্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েও আড়াল করতে পারছে না। পুরো বাড়িটা কেমন যেন গোরস্থানে পরিণত হয়েছে। পার্থক্য শুধু এই যে, মানুষগুলো সবাই জীবিত। কিন্তু সবার চোখে মুখে, বাড়ির বাতাসে অবর্ণনীয় এক কষ্ট আর বেদনার প্রচ্ছন্ন উপস্থিতি। এমন এক অদ্ভুত ভ্যাপসা অনুভূতি, যেখানে কানে না পৌছালেও সবাই শুনতে পারছে, ফোঁপানো কান্নার আওয়াজ। বাইরে গড়িয়ে না পড়লেও লুকানো থাকছে না চোখের জল। এ এমন এক হাহাকার যা নীরব থেকেও সরব। অদেখা কোন কিছু যে এত বাস্তব আর জ্যান্ত হতে পারে, তা নিজে অনুভব না করা পর্যন্ত কোন মানুষ বুঝতে পারবে না। অন্য কাউকে বোঝানোরতো প্রশ্নই উঠে না।

আমাদের যাওয়াটা অন্যদের মত, কয়েকদিনের জন্যে বেড়াতে যাওয়া নয়। সবাই যায়, আবার কিছুদিন পরে ফিরে আসে, কিন্তু আমরা আর আসব না। ভাবতেই বুকটা ভেঙ্গে যায় আমার। প্রতিদিনের খেলার সাথীদের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারি না। সবাই একটু কেমন যেন ভিন্ন আচরণ করতে শুরু করে দিয়েছে আমার সাথে। নাকি, এটা আমার নিজের কল্পনা? ঠিক ধরতে পারি না। নিজেকে অত্যন্ত অসহায় মনে হয়।

কালকে সকালে রওয়ানা হবো, আমরা।

এই পাড়ার আর কেউ যাবে না। সাজাহান কাকারা একবার যেতে চেয়েছিল। কিন্তু পরে বলেছে, না খেয়ে মরতে হলেও এখানেই মরবে। বাপ-দাদার ভিটে ছেড়ে জংগলের রাজপাসাদেও থাকতে রাজী না। তাদের কথা শুনে প্রচন্ড এক অপরাধবোধে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি, গরিব হয়ে জন্মানোর অপরাধে। আমাদের এক টুকরো ভিটে থাকলে হয়ত, আমার বাবাও সপরিবারে আপাতদৃষ্টিতে স্বেচ্ছা মৃত্যুর এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতেন না।

অন্যদিনের মত, সকলের সাথে না এসে,কলার ভেলাটা নিয়ে জুম্মাঘর থেকে একা একাই চলে আসি। হিজল গাছের নিচে, ভেলাটি বেঁধে বাড়ির দিকে হাটা দেই। কয়েক কদম গিয়ে, পিছন ফিরে দেখি, অসহায়ের মত বাঁধা রয়েছে, সাধের ভেলাটি। কালকে থেকে আর আমি চড়তে পারবো না। ভাবতেই বুক ফেটে কান্না এল। আমার যে এত আবেগ আছে, আমি নিজেই জানতাম না। ছেলে মানুষ হয়েও
ছিঁচকাঁদুনে হয়ে পড়ছি, নাতো !

মেচেরদের বাড়ি পাশ দিয়ে আসার সময় কুলছুমের সাথে দেখা হয়। আমাকে দেখেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে কুলছুম। তার সেই অঝোর কান্না, আমার বুকেও কান্নার ঝড় তোলে। কিন্তু, লাভা হয়ে অগ্ন্যুৎপাত হতে পারে না। সে মেয়ে বলে অবলীলায় তার কষ্ট প্রকাশে নোনা জলের বান ডাকতে পারে। অথচ আমি ছেলে বলে, আমার কষ্টটা কাউকে জানাতে দেয়ার অধিকারও যেন আমার নেই। কুলছুমকে সান্তনা দেয়ার কোন ভাষা আমার জানা নেই। তাই, কিছুক্ষন চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে, মাটির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে পা বাড়ালাম নিজের বাড়ির দিকে।

মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন আকুপাকু করতে শুরু করে। কুলছুমের সাথে আমার সম্পর্কটা কি ধরণের? আগে কখনো এমন মনে হয়নি, কিন্তু এখন ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে তার জন্যে এমন লাগছে কেন? কতদিন কথা বলেছি, কখনো মনে হয়নি যে, তার সান্নিধ্য আমার মনের ভিতরে সুর তুলে। কিন্তু এখন কেন মনে হচ্ছে যে, তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি আরো কিছুক্ষণ? একেই কি তাহলে প্রেমে পড়া বলে? আমার মনের কথা কি সে কোনদিন টের পেয়ে যাবে?

প্রিয় বিড়ালটাকে কোলে নিয়ে চুপ চাপ বসে আছি। পশুরা নাকি অনেক কিছু বুঝে। বিড়ালের চোখে অব্যক্ত কান্না আমি অতি সহজে ধরতে পারলাম। এই পোষা বিড়ালও যেন বুঝতে পেরেছে, আমাদের দেশান্তরী হওয়ার কথা। আমরা চিরতরে চলে যাচ্ছি, এই জীবনে আর দেখা হবে না। তাই, কোল ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে না। বারান্দার চৌকির নিচে দুইটা ইঁদুর একবারে কাছে দিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে, অনেক নির্ভার। তারাও জানে, আজ বিড়াল মামা’র মন খারাপ – আত্নার এক বাঁধন এমনিতেই টুটে যাচ্ছে। সেখানে অন্য কোন আত্নার সমাপ্তির কারণ হওয়ার বিন্দুমাত্র অভিপ্রায় বিড়াল মামার নাই। বরং জীবনের যতটুকু মুহূর্ত সম্ভব একত্রে বৈষয়িক বিবাদবিহীন কাটানোর সুযোগ নষ্ট করতে চাচ্ছে না।

কোন মতে, আমাদের জন্যে দোয়া করো - বলে জেঠীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মা চলে আসে। বলতে বলতেই চোখ দু’টি ছল ছল করে উঠে, চাঁপা কান্নায় গলাটা ধরে আসে। আঁচলে মুখ ঢেকে পা বাঁড়ায় নৌকার দিকে। নৌকায় বসার পরে যেন, কান্না আরো বাড়ল। এখন, কান্নার দমকে পুরো শরীর একটু পর পর কেঁপে কেঁপে উঠছে। কান্না ঢাকতে শাড়ির আচল দিয়ে নতুন বউয়ের মত ঘোমটার আড়ালে নিজেকে লুকাতে পারলেও শরীরের ঝাঁকুনি দেখেই সবাই বুঝতে পারে কান্নার ভয়াবহতা। নিজেকে অবাক করে দিয়ে, আমার দু’চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়তে শুরু করে। মুখ দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছে না। কিছুক্ষনের মধ্যেই কান্নায় বুক ভরে যায়, অথচ কোন শব্দ নেই আমার মুখে। মাঝে মাঝে শুধু শরীরটা ঝাকুনি দিয়ে কেঁপে উঠছে।

ঘাট ছেড়ে দেয়ার পরে, নৌকায় থেকে তাদের অবয়ব ক্রমেই অস্পষ্ট হতে লাগল। এক সময় পুরো ঝাপসা হয়ে গেল। তবে যতটা না দুরত্বের কারনে, তার চেয়ে বেশী চোখে পানি চলে আসায়। চোখের পানি গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়লেও মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকালাম না। এখন আর কান্নায় লজ্জা নেই,। বিচ্ছেদের বেদনার তুলনায় কান্নার লজ্জা এখন নিতান্তই নগণ্য বলেই বিবেচনা করছি। মোদ্দা কথা, এই পরিস্থিতিতে লজ্জার চেয়ে বেদনার প্রকাশ অনেক অনেক বেশি দাপুটে আর জাজ্বল্যমান।

লঞ্চ ঘাটে এসে দেখি আরো কয়েকটা পরিবার আমাদের মতোই রাঙামাটি যাচ্ছে। স্কুলের পাশের বাড়ির ফজলু কাকাকে দেখে অবাক হলাম। আমার জানা মতে, উনারা বেশ স্বচ্ছল এবং জমিজিরাৎ ভালোই ছিল। পরে জানতে পেরেছিলাম যে, নদীর ভাঙ্গনে উনাদের ভিটেসহ সমস্ত কিছু নদী গর্ভে তলিয়ে যায়। প্রায় রাতারাতি পুরো পরিবার পথে বসতে বাধ্য হয়। উনার ছোট ভাই, শহরে চলে গেছে। কিন্তু উনি পরিবারকে রেখে যাওয়ার মত কোন জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। শেষমেশ উপায়ন্তর না দেখে সপরিবারে রাঙামাটি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

লঞ্চের জন্য বেশ খানিকটা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সাজাহান কাকা, মেচের আর অন্য যারা এসেছিল, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তাদের কেউই আমাদের ঘাটে রেখে ফিরতে রাজী হল না। আমাদের প্রতি এদের এত দরদ যদি আগে বুঝতে পারত, তাহলে কি বাবা এদের ছেড়ে যেতে সিদ্ধান্ত নিতেন? মানুসের ভালবাসা কি সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য আর প্রাচুর্যের চেয়ে বেশি মূল্যবান ? অভাব কি সত্যিই ভালোবাসার চেয়ে বেশি শক্তিশালী ?

আসতে দেরী হলেও, লঞ্চ ছাড়তে মোটেও দেরী হল না। আমরা তড়িঘড়ি করে গাঁটটি –বোঁচকা আর হাড়ি-পাতিল নিয়ে লঞ্চে উঠে পড়লাম। পুরোপুরি মনে না পড়লেও, আবছাভাবে মনে পড়ে যে, বড় গাঁটটিতে দুইটা হাতে সেলাই করা কাঁথা আর আমাদের কয়েকটা জামা ছিল। একটা পাতিলে রান্না করা খিচুড়ি জেঠী দিয়ে দিয়েছিলেন। এর বাইরে খেজুর পাতার একটা পাটি আর ছোট ছোট দুইটা বালিশ ছিল। লঞ্চে উঠার সময় বাবার মাথায় ছিল বড় গাট্টিটা, এক হাতে ছিল পাটের দড়ি দিয়ে বাঁধা কয়েকটা হাড়ি-পাতিল, আরেক হাতে আমাকে টেনে নিয়ে এগুচ্ছিলেন কাঠের পাটাতনের উপর। মার হাতে ছিল আরেকটা ছোট বোঁচকা। আর বড় ভাইয়ের মাথায় ছিল পাটি আর ছোট একটা গাট্টি যেখানে অল্প কিছু চাল আর ডাল ছিল, যেগুলো সাজাহান কাকারা দিয়েছিলেন। আমি শক্ত হাতে ধরে রেখেছিলাম খিচুড়ির হাড়িটা।

অবশেষে পিতৃভূমি ছেড়ে আমাদের যাত্রা শুরু হল। নদীর পাড়ে বাড়ী-ঘর, মানুষ, গাছ-পালা ইত্যাদি পার হয়ে যাচ্ছে, একের পর এক। চির পরিচিত কিছু কিছু দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটছে চোখে সামনে - এক পাল গরু নিয়ে রাখাল নদীতে নামছে, মেয়েরা কলসি নিয়ে ঘাটে যাচ্ছে, পাট বোঝাই বিরাট নৌকা পাল তুলে রাজসিক ভঙ্গিতে এগিয়ে চলছে। নদীর পার ঘেঁষে কয়েকজনকে গুণ টানতে দেখা যাচ্ছে। কখনো কখনো তিনকোণা জালের পাশে বকের মত দাঁড়িয়ে আছে জেলে নিজেই। এসব দেখেতে দেখতেই লঞ্চ এগিয়ে চলছিল।

কলম্বাস আর নীল আর্মস্ট্রং যাত্রা শুরু করেছিল, আবিস্কারের নেশায়। ইন্ডিয়ানা জোন্স রাজ্যের কৌতুহল আর অ্যালেক্সান্ডার রাজ্য জয়ের নেশার টানে পথে পা বাড়িয়েছিলেন। কারণ যাই হোক না কেন, এদের প্রত্যেকেরই নিজ ভুমে পরিচিতদের মাঝে ফেরার প্রত্যাশা ছিল। আর আমি মালেক মিয়া যে যাত্রা শুরু করেছিলাম, অজানার উদ্দেশ্যে নিতান্তই জীবিকার সন্ধানে, অনন্যোপায় হয়ে। আমি জানতাম যে, আমার পরিচিত মানুষদের মাঝে ফিরে আসার সম্ভাবনা শুন্য। দুনিয়ার ভিন্ন এক কোনায় অতি পরিচিত আপনজনেরা দিন কাটাচ্ছে, অথচ সারাজীবনে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই – এটা ভাবতেও বুকে কাপন ধরে, দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়। কিন্তু এটা জেনেই শুরু হয়েছিল আমাদের যাত্রা – অজানার উদ্দেশ্যে। এমন এক গন্তব্যে যার জন্যে আমাদের মত অন্যরাও মোটেও প্রস্তুত ছিল না। এ এক নতুন জীবন, ভিন্ন এক দুনিয়ায় – যেখানে অনিশ্চয়তা আর পদে পদে মৃত্যুর ঝুঁকিই ছিল নিত্য দিনের সঙ্গী। বেঁচে থাকার জন্যে অবর্ণনীয় সংগ্রামের কোন বিকল্প যেখানে কোন কালেই ছিল না, এমনকি আজো নেই।

ছবিঃ ফ্লিকর (@ md rahmath ullah)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ২:৩৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আলী জাকের মারা গেছেন

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:১৪


ভোর বেলা আজ তাড়াতাড়ি উঠে গেছি , কেন জানিনা । পি সি খুলে কেউ একজন বাংলা একাডেমী ইন্টারন্যাশনাল সাইটে দুসংবাদটি দিল । পত্রিকায় আসেনি তখনো । ক্যান্সারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকার শিক্ষক, কবি, লেখক, অভিনেতা, সমাজকর্মী, উচচ-পদস্হ কর্মচারীরা চুপচাপ মরছেন!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৫০



যাযাবর সম্প্রদায়ের গৃহকর্তা পানি খাবে; পানি আনার জন্য অর্ডার দেয়ার আগে, ছেলেমেয়ে, বা বউকে কাছে ডাকবে; যে'জন কাছে আসবে, তার হাতে একটা থাপ্পড় দেবে জোরে, বিনাকারণে এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ কাব্য

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৫৮



হতেই পারে এই রাত শেষ রাত
হতেই পারে এই দিন শেষ দিন,
হতেই পারে এই লেখা শেষ লেখা
হতেই পারে এই দেখা শেষ দেখা।

হতেই পারে এই চোখ শেষ আঁকা
হতেই পারে এই চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রায় দেড় মিলিয়ন ভিউসংখ্যার ভিডিওটিসহ আমার ইউটিউব চ্যানেলের শীর্ষ ১৫টি মিউজিক ভিডিও

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:৫৩



আপনারা অনেকেই জানেন, আমি ব্লগিং করার পাশাপাশি ভ্লগিংও (ইউটিউবিং) করে থাকি, ফেইসবুকিং-এর কথা তো বলাই বাহুল্য। আজ এ পোস্ট ফাইনাল করতে যেয়ে দেখলাম, ইউটিউবে আমার অ্যাকাউন্ট ওপেন করার তারিখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন সেতু পদ্মা-- ফটোব্লগ

লিখেছেন সাদা মনের মানুষ, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:২৪


স্বপ্ন সেতু পদ্মা নির্মিত হচ্ছে অনেক দিন হল। এই নির্মান যজ্ঞ দেখার জন্য বেশ কিছু দিন যাবৎ যাই যাই করেও যাওয়া হচ্ছিল না। অবশেষে শিকে ছিড়ল কয়েক দিন আগে। পদ্মা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×