somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধনী প্রবৃদ্ধির হার শীর্ষে নাকি শীর্ষে লূটতরাজের প্রবৃদ্ধি !

১২ ই অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




আমাদের দেশ বেশ কিছু অদ্ভুদ অভ্যুত্থানে বিশ্বে শীর্ষস্থান এবং র্যা ঙ্কিয়ের প্রথম সারি দখল করে আছে ! বিশ্বের বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য শহরের প্রথম স্থান দখল করে আছে হচ্ছে ঢাকা,বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতি শহরটাও এই ঢাকা,সেরা দূর্নীতি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৭ তম আর এশিয়া মহাদেশে সমীক্ষে ২য় ! অবৈধ অর্থ পাচারে বাংলাদেশের অবস্থান ৩য় ! সুইচ ব্যাংঙ্কে বাংলাদেশী অর্থ বৃদ্ধি,ব্যাংকিং খাতে লুটতরাজ তো লেগেই আছে।

কপালে চোখ উঠে যাওয়ার মতো ধনকুবেরের সঙখ্যার প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশী এবং শীর্ষস্থান দখল করে আছে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির হার যেখানে গণচীনকে (১৩.৪ শতাংশ) পিছনে ফেলে ১৭.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে! একটা দেশে এই ধনকুবেরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার নেপথ্যে কারণ কি ?

যেহেতু ধনকুবেরদের তাদের ধন কিংবা পুঁজি অর্থাৎ অর্থের ওজনে তাদের জরিপ করা হয় সেহেতু তাদের ধন বৃদ্ধির উৎস,কারণ পুঁজিবাদ তত্ত্ব দ্বারা একটু বিশ্লেষণ করে আসি…

কার্ল মার্ক্সের পুঁজিবাদ নিয়ে ভবিষ্যৎ তত্ত্ব বলছে কাল্পনিক চাহিদা বেড়ে যাবে যেমন হালের ফ্যাশান, সমসাময়িক স্মাটফোনের সামান্য পরিবর্তন করে ভোক্তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা, লাভের জন্য পুঁজিবাদের যে তীব্র ক্ষুধা, সেজন্য মানুষের যা প্রয়োজন তার চেয়ে উৎপাদন অনেক বেশি হবে এবং শ্রমিকের মজুরি এতই কমবে যে তারা নিজেদের উৎপাদন করা পণ্য কিনতে পারবে না,একাধিপত্য বিস্তার এবং মধ্যবিত্ত সংকোচন পুঁজিবাদের ধরণ অনুযায়ী মুনাফার জন্য বড় ব্যবসায়ীরা কর্মীদের বেতন ও সুবিধাদি কমিয়ে দেয়। এতে মধ্যবিত্ত ক্রমে গরীব হতে থাকে। এর ফলে একটি বড় অংকের নগদ অর্থ অল্প কিছু মানুষের হাতে জমতে থাকে। আজকের পৃথিবীতে তিন শো সত্তুর কোটি মানুষের যা সম্পদ, তার চেয়ে বেশি সম্পদ আছে মাত্র ৪২ জন ধনী মানুষের হাতে। চীন, ভারত আর যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত জনসংখ্যা তিন শো সত্তুর কোটি। আর মোটা দাগে বৈষম্যেও বড় কারণ এই পুঁজিবাদ আবর্তনে।
এখন আসা যাক বাংলাদেশের সার্বিক প্রেক্ষপট নিয়ে আমাদের দেশে ধনকুবরের সংখ্যা বৃদ্ধির হার রেকর্ড পরিমান কেন আর নেপথ্যের কারণই বা কি? স্বাধীনতার পর থেকেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে বড় ধরনের ধাক্কা সেই থেকে উঠে ধারানোর সুযোগ আর হয়নি। সামরিক শাসন,আমলাতন্ত্রের মারপ্যাচে গণতন্ত্রের নামে এ দেশে লুটতরাজই বেশী হয়েছে এবং হচ্ছে। আমাদের দেশে ৮০ শতাংশ রাজস্ব আয় আসে গারমের্ন্টস ফেক্টরি থেকে অথচ সেখানেই মানুষ বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বেতন বৈষম্য,নারীপুরুষ বৈষম্য। কার্ল মাক্সের পুঁজিবাদ নিয়ে ভবিষৎ বাণী সহজেই মিলে যায়। বেতন কাঠামো নিয়ে কর্মচারীদের ঘন ঘন আন্দোলন তার প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করে। মানুষ যে সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে বৈষম্যের আকার আরো বৃহৎ হচ্ছে তার জন্য বেশীদূর দৃষ্টিজ্ঞাপন করতে হবে না। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আন্দোলন তার সাক্ষ্য বহন করে। নন এমপিও শিক্ষকদের বেতন স্কেল ঠিক করে এমপিও ভুক্ত করার জন্য শিক্ষকদের অনশন কর্মসূচি সাথে আন্দোলন,কোটা সংঙ্কার আন্দোলন,গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মৌলিক কারণ হচ্ছে সাধারণ জনগণের মধ্যে বৈষম্য তৈরী করা এবং সুবিধা বঞ্চিত করে জিম্মি করে রাখা। ফলে আমাদের সমাজে,রাষ্ট্রে পুঁজিবাদের বিপন্ন ধাবানলে একদল ধনী থেকে আরো ধনী হচ্ছে আরেকদল গরিব থেকে আরো গরিব হচ্ছে।

যদি কার্ল মাক্সের পুঁজিবাদের কালজয়ী ভবিষৎ বাণী আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থার সাথে মিলিয়ে দেখি তাহলে আক্ষরিক অর্থে তা হুবুহু মিলে যায়। কাল্পনিক চাহিদা বৃদ্ধিতে হালের ফ্যাশন,বেতন কাঠামোতে বৈষম্য,একাধিপত্য বিস্তার,মধ্যবিত্ত সংকোচন এবং সর্বোপুরি বৈষম্যের যে আবেহ পরিবেশ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না গণেতন্ত্রের আড়ালে দাপিয়ে বেড়ানো পুঁজিবাদ সমাজ ব্যবস্থা আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে কিভাবে ঘ্রাস করছে। যেভাবে অতি ধনীদের উণ্থান হচ্ছে তা আমাদের দেশের জন্য মোটেও সুখকর খবর নয় !
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১:৩৯
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×