somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শৈশবে শোনা জ্বীনের কাহিনি-০২

০৫ ই জুন, ২০১৮ সকাল ১১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :






মেঘনা ব্রিজের কাছেই টেংগারচর নামক গ্রামে অনেক বছর আগে হঠাৎ করে জ্বীনের উৎপাত বেড়ে গেল। গ্রামের মানুষ এহেন জ্বীনের যন্ত্রনায় অতিষ্ট হয়ে বড় মাপের হুজুর ও কবিরাজের দারস্থ হয়ে জানতে পারলো তাদের গ্রামে জ্বীন চালান দেওয়া হয়েছে।

কিছুদিন পর গ্রামবাসী টের পেল সদ্য জন্ম নেওয়া দুধের শিশুরা গায়েব হয়ে যাচ্ছে। এ কাজ যে দুষ্টু জ্বীনদের তা জানতে আর তাদের বাকি রইলনা। পেরেশানীর মধ্যেই তাদের দিন-রাত কাটতে লাগলো।

কারো ঘরে নতুন অতিথিরে আগমনে খুশির রেশ কেটে গিয়ে আতঙ্ক দেকা দেয় কবে আবার জ্বীনের নজড় পড়ে। কবে জানি শিশুটিকে জ্বিনেরা নিয়ে যায়।

রাবেয়া বেগমের ১ বছরের শিশুকে নিয়ে সে বেশ চিন্তিত। সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখে। তার স্বামী ঢাকাতে চাকরী করে বিধায় সেখানেই থাকে। শাশুড়ি থাকেন রাবেয়া বেগমের সাথে। কিন্তু তিনি বয়স জনিত কারণে ক’দিন ধরে অসুস্থ। শিশুটি বুকের দুধ তেমন পান করেনা।
সেদিন সন্ধ্যার পর বেশ কান্না কাটি করছিল। তাকে একা রেখে বাহিরে রান্না ঘরে গিয়ে দুধ জ্বাল দিতে সাহস পাচ্ছেনা রাবেয়া। এদিকে আবার রোগের ঘোরে প্রলাব বকছে শাশুড়ি মা।

বাচ্চাটির কান্না থামাতে না পেরে অগত্যা দুধ জ্বাল দিতে বাহিরে গেলেন রাবেয়া। এদিকে সন্ধ্যার আজান শেষ হয়ে রাত নামতে শুরু করেছে। সুন্দর বাচ্চাটিকে একা দেখতে পেয়ে দুই জ্বীন তাকে চুরি করার ফন্দি আঁটে। একজন ভিতরে গিয়ে শিশুটিকে হাতে নিয়ে বাহিরের জনের নিকট দিয়ে নিজেই শিশুর রূপ ধরে আরও জোরে কান্না শুরু করে। ইতিমধ্যে মসজিদের ইমাম সাহেব নামাজ শেষে এদিক দিয়েই কোথাও যাচ্ছিলেন তিনি জ্বীনদের কান্ড দেখে সূরা পড়তে পড়তে ঘরের কাছে পৌঁছলে বাহিরে অবস্থানকারী জ্বীনটি হুজুরের উপস্থিতি টের পেয়ে উধাও হয়ে যায় এবং শিশুটিকে হুজুর কোলে করে নিয়ে মসজিদে চলে যান।

রাবেয়া তার কান্নারত শিশুকে যতই দুধ খাওয়াতে চান শিশু ততই কেঁদে চলছে। কিছুতেই শিশুকে আর সারারাত দুধ খাওয়াতে পারলেন না এবং তার কান্নাও বন্ধ করাতে পারলেনা।

শেষ মেষ উপায় না দেখে তিনি সকালে মসজিদের হুজুরের নিকট গিয়ে পড়া পানি বা তাবিজ চাইলে হুজুর বলল- তোমার বাচ্চা আর কোন দিন দুধ খাবেনা। কাথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়েন রাবেয়া। তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন- হুজুর একটা ব্যবস্থা করেন।

হুজুর বলল-ব্যবস্থা একটা আছে। যদি বাচ্চাকে সুস্থঅবস্থায় ফিরে পেতে চাও তবে আমার কথা মত কাজ করতে হবে। তুমি বাচ্চাটাকে আমার এখানে রেখে যাও আর যোহর নামাজের পর আসবে। রাবেয়া চলে যাওয়ার পর মসজিদের মাইকে ঘোষণা করা হলো- আজ দুপুরে মসজিদে সবাইকে আসার জন্য অনুরোধ করা হলো। আজ আপনাদের সামনে জ্বীন বন্দি করা হবে।

যোহর নামাজের পর গ্রামের মানুষ মসজিদে সমবেত হলে হুজুর বড় এক কড়াইতে তেল গরম করে সরিষা দিয়ে সেই বাচ্চাটিকে গরম তেলে ছেড়ে দিলে উপস্থিত জনতা হতভম্ব হয়ে গেল এবং রাবেয়া তার সন্তনের এহনে পরিণতি দেখে মূর্ছা গেল।

কিছুক্ষণ পর দেখা গেল বাচ্চার পরিবর্তে সেই কড়াইতে একটা কালো কাক ভাজা হয়ে আছে। রাবেয়ার জ্ঞান ফিরলে হুজুর তাকে তার আসল বাচ্চা ফিরিয়ে দিল।

এর পর সেই গ্রাম থেকে চিরতরে জ্বীনেরা পালিয়ে যায়।



ছবি : নিজের তোলা।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০১৮ সকাল ১১:০৪
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন: আরও একটি প্রশ্ন

লিখেছেন মুনতাসির, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫০

প্রথম আলোতে মুনির হাসানের ‘পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন’ লেখাটি পড়লাম। পাকিস্তানে Google-এর নিজস্ব অফিস চালু হওয়াকে সামনে রেখে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একসময় খুব বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×