somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শৈশবে শোনা জ্বীনের কাহিনি-৩

২০ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




গ্রামের নাম বড় ভাটের চর। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসরগ থেকে যে সংযোগ সড়ক গ্রামের দিকে গেছে তা তখন পাকা হয়নি। কাঁচা রাস্তার মাঝে সরু একটি খাল এখন অবশ্য ব্রীজ হয়ে গেছে। ব্রীজ হওয়ার আগে নৌকা দিয়ে পাড় হতে হতো।

কলিম যুবক। কিছুদিন আগে বিয়ে করেছে। ঘটনাটা যে দিন ঘটে সেদিন বাজার সদাই করে ফিরতি পথ ধরতেই সন্ধ্যা হয়ে গেছে। খাল পেরিয়ে রাস্তায় উঠে বুঝতে পারলো রাম্তা পিচ্ছিল হয়ে আছে বৃষ্টি কারণে। সে তখন ক্ষেতের আল দিয়ে হেটে বাড়ির পথ ধরলো। দুটো জমি পেরোতেই সামনে পাট ক্ষেত। হঠাৎ পাট ক্ষেত থেকে ছোট বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শুনে সে থমকে দাড়াল।

এদিক সেদিক দেখে সে ভাবতে লাগলো এই সন্ধ্যায় এখানে বাচ্চা আসলো কোথা থেকে ? আরও একটু এগিয়ে গেলে সে দেখতে পেল-একটি বাচ্চা হামাগুড়ি দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং কান্না করছে। সে ভাবলো হয়তো কারো ভুল করে গ্রাম থেকে এদিকে চলে এসেছে। ফুটফুটে বাচ্চাটিকে সে পরম মমতায় তুলে নিয়ে কাধে বসিয়ে হাতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে হাটতে লাগলো।

কিছুদূর যাওয়ার পর কলিমের মনে হলো যেন বাচ্চাটার ওজন বেড়ে যাচ্ছে তবুও সে এতটা পাত্তা না দিয়ে হাটতে লাগলো। কিন্তু অবস্থা এমন হলো যে-তার ঘাড় ব্যাথা শুরু হলো। এক মন ওজের বস্তা যেন তার ঘাড়ে। এবার সে বিচলিত হয়ে তার বুকের সামনে ঝুলানো বাচ্চার দুই পায়ে হাত দিয়ে ধরে সে চমকে উঠল। কোথায় বাচ্চার নরম পা। এ যে পাটের আঁশের মত কি যেন লোমশওয়ালা শক্ত চিকন ঠ্যাং।

অজানা আশংকায় ও বিপদের গন্ধ পেয়ে সে হাতের ব্যাগ ফেলে ইয়া আল্লাহ বলে ঘাড় থেকে সেই ওজন ওয়ালা জন্তুটাকে ফেলে দেওয়া চেষ্টা করলো কিন্তু প্রথম চেষ্টায় বিফল হলেও কিছুক্ষণ পরই সে মাটিতে পড়ে গেল। শুরু হলো লড়াই। জন্তুটা ধস্তাধস্তি করে তাকে আচড় কেটে রক্তাক্ত করে ফেলছে। সে শুনেছে মানুষ সাহস ও সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করলে জ্বীনেরা পেরে উঠেনা। এক মূহুর্তে এ কথাটা মনে হওয়ায় তার সাহস বেড়ে গেল সে দোয়া পড়ছে এবং শক্তি দিয়ে জন্তুটাকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। ঘামে শারা শরীর ভিজে গেছে।

আধা ঘন্টা পড়ে সে বুঝতে পারলো জন্তুটা গড়াগড়ি করছে। সে উঠে এক দৌড়ে বাড়ির সামনে গিয়ে অ-মাগো বলে অজ্ঞান হয়ে পড়ল।
তার চিৎকার শুনে মা ও বৌ হ্যারিকেন নিয়ে বেরিয়ে এসে দেখল-কলিম উঠানে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে।

পরে ঈমাম সাহেবকে খবর দিয়ে আনালে তিনি পানি পড়া দিলেন ও তাকে ভালভাবে গোসল করিয়ে দোয়া পড়ে তার শরীল বন্ধ করে দিলেন। ঈমাম সাহেব জানালেন তাকে জ্বীনে ধরেছিল। এর পরের ৩/৪ দিন সে জ্বরে ভোগে এবং সুস্থ হয়ে উঠে।


ছবি : নিজির মোবাইল থেকে নেওয়া।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১২:২৭
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ
একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

একদিন সকালবেলা, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে জাতি খবরের কাগজ খুলে দেখল, দেশের সবচেয়ে বড় পদটির জন্য মনোনীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×