somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইহা আমি কি পড়িলাম

০৮ ই জুলাই, ২০১২ রাত ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আল্লাহর দরবারে সাঈদীর ফরিয়াদ ... পুরান নিউজ পড়তে যাইয়া নিউজটা চোখে পড়লো। যে ভাষায় যেভাবে নিউজটা করা হয়েছে তাতেতো চান্দি গরম অবস্থা। আপনাদের সাথে শেয়ার না করে পারলাম না। আমার জানামতে সামুই গদামের জন্য সবচেয়ে উত্তম জায়গা। তাই আপনাদের জন্য পুরা নিউজটা কপি পেস্ট করে দিলাম।

"আমি মজলুম। হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে বিচার চাই। আমি গত ৫০ বছর ধরে সারা দেশে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তোমার কোরআনের কথা প্রচার করেছি। আজ আমাকে বলা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধী। হে আল্লাহ তোমার ইজ্জতের কসম,তোমার জাতের কসম, তুমি সাক্ষী ১৯৭১ সালের কোনো কাদা এবং কাদার এক ফোটা পানিও আমার গায়ে লাগেনি।’ বড় ছেলে রাফকী বিন সাঈদীর জানাজার নামাজের পূর্বে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী একথা বলেন। মতিঝিল বয়েজ স্কুল মাঠে সন্ধ্যার পূর্বে অনুষ্ঠিত জানাজায় বিশাল মাঠের গন্ডি পেরিয়ে পুরো রাজারবাগ এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। স্থবির হয়ে পড়ে ওই এলাকার সকল রাস্তাঘাটের চলাচল ব্যবস্থা।

মাওলানা সাঈদী অগনিত মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেন,‘হে আল্লাহ আমি তোমার জন্য শহীদ হতে প্রস্তুত আছি। তবে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে, হত্যাকারী হিসেবে, ধর্ষণকারী হিসেবে, চোর, লুন্ঠনকারী হিসেবে আমি ফাঁসি কেন একদিনেরও সাজা চাইনা। এসব অপবাদ নিয়ে আমি মরতে চাইনা। হে আল্লাহ আমি মজলুম। মজলুমের দোয়া এবং তোমার মাঝে কোনো পর্দা নাই। আমি তোমার কাছে বিচার চাই।’ এরপর মাওলানা সাঈদী বলেন,‘হে আল্লাহ তুমি হয় জালিমকে হেদায়েত দাও,না হয় তাদের বিদায় কর। হে আল্লাহ ১৬ কোটি মুসলমানের দেশ বাংলাদেশকে তুমি কাশ্মীর বানিও না, আফগান বানিও না, ইরাক বানিও না। বাংলাদেশকে তুমি রক্ষা কর।’

তিনি আরো বলেন, ‘হে আল্লাহ মুসলমানের দেশে আজ মুসলমান তার পরিচয় নিয়ে চলতে পারে না। তাদের বেইজ্জতি করা হচ্ছে।’

৬টা ১০ মিনিটে মাওলানা সাঈদীকে প্রিজন ভ্যানে করে কড়া পুলিশী নিরাপত্তায় মাঠে নিয়ে আসা হয়। এসময় উপস্থিত জনতা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকাবর বলে স্লোগান দেয় তারা। তবে মাইকে কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো ধরনের স্লোগান দিতে নিষেধ করেন এবং মাওলানা সাঈদীকে নির্বিঘে মাঠে প্রবেশে সহায়তা করতে অনুরোধ করেন।

মাওলানা সাঈদী ছেলের লাশের কাছে আসলে জানাজা আয়োজক কর্তৃপক্ষ মাওলানা সাঈদীকে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে সালাম জানানোর অনুরোধ করেন তাকে পাহারাত পুলিশের প্রতি। এরপর মাওলানা সাঈদী মাইক নিয়ে উচ্চস্বরে সালাম দেন। এরপর ইন্নালিল্লাহ পড়েন। এসময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নার রোল এসময় ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত শোকাহাত হাজারো জনতার মাঝে। সবাই হুহু করে কাঁদতে থাকেন মাওলানার সাথে।

কান্না থামিয়ে মাওলানা সাঈদী এরপর বলেন, ‘হে আল্লাহ কয়েক মাস আগে এই এখানে আমি আমার মায়ের জানাজা পড়িয়েছি। আমাকে আমার বাসায় যেতে দেয়া হয়নি। আমাকে আমার পরিবার পরিজনের সাথে বাসায় গিয়ে মিলিত হতে দেয়া হয়নি। আজ এখানে আমার ছেলে আমার কলিজার টুকরার জানাজায় আমাকে নিয়ে আসা হল।’

তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহ দুনিয়াতে সবচেয়ে ভারী বোঝা হল পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ। আমার ছেলে রাফীককে আমি বলতাম তুমি আমার জানাজা পড়াবা। রাফীক বলত, না তুমি আমার জানাজা পড়াবা। আজ আমি তার জানাজা পড়াচ্ছি।’এসময় আবার তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সাথে সাথে কাঁদতে থাকেন জানাজার জন্য উপস্থিত ব্যক্তিরা।

মাওলানা সাঈদী বলেন,‘আমার বড় ছেলে গতকাল বুধবার বিকালে মারা গেছে। আজ আছরের সময় আমাকে জানানো হয়েছে। একথা বলে তিনি আবারো কাঁদতে থাকেন।’

মাওলানা সাঈদী বলেন, 'হে আল্লাহ আমার কলিজার টুকরা,হে আল্লাহ আমার কলিজার টুকরা,হে আল্লাহ আমার কলিজার টুকরা রাফীককে তুমি বেহেশত দান কর। তার কবরকে তুমি জান্নাতের টুকরা বানিয়ে দিও। তার কবরের সাথে তুমি জান্নাতের সরাসরি রাস্তা করে দিও।

মাওলানা সাঈদী বলেন, আমার ছেলে গতকাল ট্রাইব্যুনালে ছিল। কোর্ট রুম থেকে বের হয়ে যাবার সময় আমাকে বলে যেতে পারেনি। আমি বুঝতে পারিনি ওটাই ছিল আমার সামনে তার শেষ যাত্রা।

এরপর মাওলানা সাঈদী উপস্থিত সবাইকে নিয়ে হাত তুলে দোয়া করেন আল্লাহর দরবারে।
তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহ রাফীকের তিনটা ছেলে মেয়ে আছে। আমি তার সন্তান এবং তার স্ত্রীকে তোমার উপর সোপর্দ করলাম।’ তারপর সাড়ে ছয়টার দিকে তিনি জানাজা পড়াতে শুরু করেন তিনি।

নিজ চোখে দেখতে
পিবিসি নিউজ পড়ুন আর গদাম দিন ।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১২ রাত ১২:৩৬
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি তো আমাকে হারিয়ে ফেলেছি || নতুন গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬

আমি তো আমাকে হারিয়ে ফেলেছি
সবুজে প্লাবিত পল্লীর গাঁয়
তুমি কি দেখেছো আড়িয়াল গ্রাম
অবাক সুচারু এই বাংলায়?

সারি সারি ধান শাপলার শাখা
ডগা তুলে খায় দোল
বৃষ্টির ফোঁটা জলের কপোলে
যেন অনুপম টোল
আবার কখনো হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলঃযাঁর হাত ধরে পাকিস্তানের জন্ম

লিখেছেন কিরকুট, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের ভূমিকা একদিকে যুগান্তকারী, অন্যদিকে গভীরভাবে বিতর্কিত। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মপ্রক্রিয়ায় তিনি ছিলেন একেবারে কেন্দ্রীয় চরিত্র। অথচ কয়েক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি অসভ্য জাতির রাজনীতি!

লিখেছেন শেরজা তপন, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২১


সাল ২০০৮। ব্লগারদের দারুণ সমাগম আর চরম জোশ। ব্লগে ঝড় তুলে দুনিয়া পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন তখন সবার।
বিএনপি আর জামায়াত জোট তখন ভীষণ কোণঠাসা। কেউ একজন মুখ ফসকে ওদের পক্ষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মাছে ভাতে বাঙালি - যায় না আর বলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫


মাছে ভাতে আমরা ছিলাম বাঙালি,
উনুন ঘরে থাকতো, রঙবাহারী মাছের ডালি
মলা ছিল -:ঢেলা ছিল, ছিল মাছ চেলা,
মাছে ভাতে ছিলাম বাঙালি মেয়েবেলা।

কই ছিল পুকুর ভরা, শিং ছিল ডোবায়
জলে হাঁটলেই মাছেরা - ছুঁয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃস্বঙ্গ এক গাংচিল এর জীবনাবসান

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৯

বিয়ের পর পর যখন সৌদি আরব গিয়েছিলাম নতুন বউ হিসেবে দারুন ওয়েলকাম পেয়েছিলাম যা কল্পনার বাইরে। ১০ দিনে মক্কা-মদিনা-তায়েফ-মক্কা জিয়ারাহ, ঘোরাফেরা এবং টুকটাক শপিং শেষে মক্কা থেকে জেদ্দা গাড়ীতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×