আমাকে একদিন এক কবি বললেন
বুঝলে 'বেশী বেশী পড়বে কিন্তু কম লিখবে,'
কবিদের অত বেশী প্রসব বেদনায় কাতর হতে নেই'।
আরেকদিন এক পত্রিকার সম্পাদকও একই কথা বললেন;
তিনি আরও বললেন কবিকে তার চলার পথ নিজেকেই করে নিতে হয়।
আজকাল কাগজে আর কলমে
কেউ আল্পনা আঁকার রিহার্সেল দেয় না,
যন্ত্রের খটখট শব্দে শুধু আঙুলগুলো বৈরী বাতাসে স্বমেহনের মুগ্ধতা ছড়ায়;
আর যে কবি বলেছিলেন 'অত বেশী লিখতে নেই'
তার বয়সের ভারে খসখসে চুলগুলোও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
প্রতিক্ষণের প্রসব উন্মাদনায় কেশবতি সুকন্যা হয়ে ওঠে।
সেই যে সম্পাদক যিনি বলেছিলেন 'কবিকে তার চলার পথ নিজেকেই করে নিতে হয়'
তিনি বিভিন্ন ফিচারে অভিন্ন এক অনামিকাকে নিয়ে লিখেই যাচ্ছেন কত শ্রুতিময় বাক্য,
'ইনি খুব শিল্প পাগল হে! ফিরিঙ্গি ভষার স্কুলে কোমলমতি শিশুদেরও শিখিয়েছেন অনেক শিল্পের কথা'।
ঘরে ফিরে কবি বসুমতি সুকন্যার গালে কপট চিমটি কেটে দূরের জানালায় তাকান,
তার উদাসী চোখ এখনও অনেক বঞ্চনার স্বাক্ষী।
আর ঐ যে সম্পাদক যিনি কোন বিপন্ন কবিকে বলেছিলেন
চলার পথের নুড়িময় পাঁথরের কথা,
তিনি ঘরে ফিরে ঘুমন্ত স্ত্রীর চোখের দিকে তাকিয়ে ম্লান হেসে অস্ফুটে বলে ওঠেন
'এভাবে আর কতকাল নিজেকে বিকিয়ে তোমাকে সাজানো?'
অতঃপর যিনি লেখেন অর্থাৎ কবি,
যিনি বিজ্ঞাপনের রঙিন মোড়কের মত কবিকে ব্যাঙময় করে তোলেন অর্থাৎ সম্পাদক,
আর তৃতীয় একজন যিনি উল্লিখিত দু'জনের মত কি--ছু একটা হতে চান
তাদের সকলের কাছেই একটি কাল কুচকুচে লোহার পিপার ভিতরে রক্ষিত 'তেল'
খুব বেশী উপাদেয় হয়ে ওঠে।
যার যথার্থ ব্যবহারে ছিঁচকে মস্তান থেকে বড় নেতা,
চায়ের স্টলের চারণ কবি থেকে রমনার বটমূলে মুগ্ধতা ছড়ানো কবি,
আর অজপাড়াগায়ের পত্রিকার রিপোর্টার হয়ে ওঠেন দাড়িগোঁফ ওয়ালা জ্ঞানগর্ভ সম্পাদক।
অতঃপর অতঃপর সেই একজন যে কবি হতে চেয়েছিল
পেন্ডুলামের দোদুল্যমান কাটার মতই
তার স্বপ্ন অনবরত দোল খেতে খেতে----
দোল খেতে খেতে--------
তেলের যথার্থ ব্যবহারে তাকে অপটুই মনে হয়।
২৩ শে মে ২০১৬
যুক্তরাজ্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০১৬ সকাল ৮:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



