somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চিপা সেলিম ও গুরু ব্যাঙ চাঁদ সমাচার

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ভোর ৫:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আর কয়েকদিন পরে চিপা সেলিমের ১৭তম বিবাহ বার্ষিকী। চিপা তার বউকে কি উপহার দেবে তা ভেবে ভেবে সে প্রায় গলদঘর্ম। চিপার মাথায় সাধারণত টাকা ইনকামের ব্যাপার ছাড়া খরচের ব্যাপারগুলো তেমন একটা আসেনা।


চিপার মনে আছে আজ থেকে অনেকটা বছর আগে চিপা যখন বিবাহ করেছিল তখন কিভাবে খরচ কমানো যায় সে জন্য চিপা তার বাড়ির পাশে টঙ দোকান পাতিয়ে ব্যাবসা করা এক জ্যোতিষীর কাছে গিয়েছিলেন। জ্যোতিষী চিপা সেলিমকে আরাকানের তামরুক মুল্লুক নগরীর জিগাতুল আলমাইশ পর্বত থেকে নিয়ে আসা নীল কন্ঠ পাথর দিয়েছিল আর খেতে দিয়েছিল বিষকাটালী পাতার তৈরী এক কাল কুচকুচে বটিকা প্রাসাদের ভিতর লুকিয়ে। চিপা সেলিম সেই বটিকা খেয়ে নীল কন্ঠ পাঁথরের আঙ্গুরীয় হাতে করে যখন বাসায় ফিরলেন তখন বেলা দ্বিপ্রহর। বাসায় কিভাবে ফিরলেন কেন ফিরলেন তা চিপা সেলিম আজও মনে করতে পারেন না। শুধু তার মনে আছে তার মা তার মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে কেঁদে কেঁদে জিজ্ঞেস করেছিল 'বাবা এই তিন দিন কই আছিলি? আরেকটু হইলেইত তোর বিবাহটা মাটি হইয়া গেছিল। চল তাড়াতাড়ি রেডি হইয়া বিয়ার অনুষ্ঠানে চল।' চিপা সেলিমের মা সবাইকে সবিস্তারে চিপা সেলিমের কি দশা হয়েছিল এবং সে এই তিন দিনে কি অবস্থায় কোথায় ছিল সেই কাহিনী বলে গেল। সকলেই এসে বলতে লাগল 'সোনার টুকরা পোলা ফিররা আইছে এইডাই বেশী। বিয়ার বাজার সওদার কথা বাদ দেন।' চিপা যখন বিবাহ অনুষ্ঠান থেকে তার বউ বিলকিস আক্তারকে নিয়ে বাসায় ফিরলো তখন গভীর রাত। আলমারি খুলে বিয়ের বাজারের ৩ লাখ টাকা অক্ষত আছে দেখে হাতে পরা নীল কন্ঠ আঙ্গুরীয়তে চুম্বন করে মনে মনে আহ্বালাদিত হয় ফিসফিস করে বলে উঠলেন ' জয় ব্যাঙ চাঁদ গুরু, জয় ব্যাঙ চাঁদ গুরু।' চিপা সেলিমের বউ বিলকিস আক্তার ঘোমটার ফাঁক দিয়ে চিপাকে বিড়বিড় করতে দেখে ভাবতে লাগলেন 'লোকটার মাথা কি এখনো ঠিক হয় নাই!'


চিপা সেলিমের মাথায় আজ আবার নতুন করে ব্যাঙ চাঁদ গুরুর স্মৃতি খাবি খেতে লাগল। সকাল হতে না হতেই চিপা প্রাত ভ্রমনের কথা বলে ব্যাঙ চাঁদ গুরুর আস্তানায় হাজির হলেন। ব্যাঙ চাঁদ গুরু ৫০০ টাকার তিনটে চকচকে নোট পকেটে রেখে চিপার মাথায় হস্ত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল 'ব্যাটা এইবার আর তোরে কোন বটিকা সেবন করতে দেবনা, তোর বউরে নিয়া আয়, ওকে এমন বটিকা খাওয়াব ৩ দিন পরে যখন হুশ ফেরবে ততদিনে তোর বিবাহ বার্ষিকী শেষ হয়ে যাবে। চিপা গুরুর অসীম পান্ডিত্যে আবারও আরেকবার মুগ্ধ হয়ে গুরুকে প্রনাম করে তার বউ বিলকিসকে এসে বলল 'চল তোমাকে ব্যাঙ চাঁদ গুরুর কাছে নিয়ে যাই। গুরুর দেয়া নীল কন্ঠ পাথর পরলে চাকুরীতে তোমার প্রমোশন কেউ আটকাতে পারবেনা।' ৬ বছর যাবত প্রমোশন না হওয়া বিলকিস আক্তার ব্যাঙ চাঁদ গুরুর আস্তানায় যেয়ে হাতে নীল কন্ঠ আঙ্গুরীয় পরিধান করলেন ও গুরুর দেয়া বিষকাটালী বটিকা মিশ্রিত প্রসাদ ভক্ষণ করলেন। চিপা সেলিম রাতের আঁধারে সন্তর্পণে আলমারিতে রাখা বউয়ের জেদের কারণে বিবাহ বার্ষিকী পালনের জন্য যে ৫০ হাজার টাকার ৫ টি চকচকে বান্ডিল ব্যাংক থেকে তুলেছিলেন তাতে চুমা খেয়ে মনে মনে ভাবতে লাগলেন 'যাক অতিরিক্ত ৫০০০০ টাকায় আগামী কোরবানীটা নেহায়েত খারাপ হবেনা।' চিপা সেলিম তার অসীম বুদ্ধিমত্তায় নিজেই আরেকবার মুগ্ধ হলেন এবং হাহা অট্টহাসিতে ঘর প্রকম্পিত করে কখন যে ঘুমিয়ে গেলেন তা নিজেই টের পেলেন না।


সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ভোর ৫:৪৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×