somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবিতা

২০ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ৮:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সদানন্দের সন্তান প্রাপ্তি

উঠোন পেরিয়ে দূরের বটগাছটার দিকে তাকায় সদানন্দ,
তার ঘরে চারুলতা যেদিন বউ হয়ে আসলো
সেদিন সন্ধ্যায় বটগাছের নীচে
পুজোর প্রসাদ রেখে আসছিল সদানন্দ একথা তার এখনো মনে আছে;
বটগাছের নীচে গেরুয়া পরা ঠাকুর বাবা তার মাথায় হাত রেখে বলেছিল
'যা ঘরে যা, আমি আর্শীবাদ করি ভগবান তোর মনস্কামনা পূর্ণ করুন।'

গত ছয় বছরে সদানন্দের তেমন কোন ইচ্ছেই অপূর্ণ রাখেননি ভগবান,
তার একটা ঝুপড়ির মত কাপড়ের দোকান থেকে তিন তিনটা কাপড়ের দোকান হয়েছে;
ছোট্ট টিনের ছাউনীর একটা কাঁচা ঘর থেকে দোতলা বিল্ডিং করেছেন সদানন্দ।
দুপুরের খাবার খেতে যখন মাঝে মাঝে বাড়িতে আসেন সদানন্দ
তখন চারুলতার অনেক সুখী সুখী একটা মুখের মধ্যে
কেমন যেন একটা দুঃখ দুঃখ ভাব লক্ষ্য করেন সদানন্দ।
সদানন্দ বোঝেন কিন্তু কোন এক অচীন অক্ষমতার লজ্জায়
তিনি তার বউকে কিছুই বলেন না;
আজকের এই দুপুরের নির্জনতা ভেদ করে
সদানন্দের মাথায় ঝন ঝন করে বেজে ওঠে এক অলীক সম্ভাবনা,
তিনি নারিকেলের শলাকা দিয়ে দাঁত খেঁচতে খেঁচতে
অনেকদিন পর ঠাকুর বাবার কথা আবার ভাবলেন;
সদানন্দ কালবিলম্ব না করে চারুলতাকে তার মনোবাসনা শুধাতেই
চারুলতা বললেন ' আইজ্ঞে আপনের যা ইচ্ছা'।

ধ্যানে মগ্ন ঠাকুর বাবা দূর থেকে সদানন্দকে স্ত্রী সমেত আসতে দেখেই হিসেব কষলেন,
'আহা গত ছয় বছরে অন্ততপক্ষে চারুলতা ষাট বারেরও বেশী সময় আসা যাওয়া করেছে তার সামনে দিয়ে',
ঠাকুর বলরাম তার অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝেছেন
এই পেশায় শিকার পুরাপুরি খাঁচায় না ঢোকা পর্যন্ত তাকে বধ করতে নেই।
পায়ে মানব হস্তের স্পর্শ আর কানে অলঙ্কারের শব্দ আসতেই
ঠাকুর বলরাম চোখ বুজেই বলে উঠলেন 'কিরে এতদিনে সময় হোল?'
'যা ওপাশের ঘরে যা হারাধনই তোকে সব বুঝিয়ে দেবে'।
ঠাকুর বলরামের শিষ্যরা পাশ থেকে সমস্বরে বলে উঠলেন 'জয় বাবা বলরাম, জয় বাবা বলরাম;'
ঠাকুর বাবার বেশ প্রতিপত্তি বেড়েছে, বিষণ্ণ বটগাছের সেই উদোম ফাঁকা যায়গা নেই;
এসব কথা ভেবে ভেবে চারুলতাকে নিয়ে পাশের রুমে হারাধনের কাছে যেতে যেতে
দরজার আড়ে মাথায় টাক খেলেন একবার সদানন্দ।

স্ত্রী চারুলতাকে ছাড়া এই প্রথম রাত্রি যাপন করছেন সদানন্দ,
'আহা কি আনন্দ! ঠাকুর বাবার ইচ্ছেয় বছর না ঘুরতেই তাদের সংসারে নতুন অতিথি আসবে।
এখন রাত্রি দ্বিপ্রহর,
ঠাকুর বাবা সদানন্দকে বলেছেন এমন সময় তিনি যখন মন্ত্র পাঠ করবেন
তখন চারুলতাকে চন্দ্র ও ভগবানের সংগম দেখতে হবে ঠাকুর মন্দিরের জানালার ফাঁক দিয়ে,
এমন করে একমাসে তিনবার তার স্ত্রী চারুলতাকে চন্দ্র ও ভগবানের সংগম দেখতে হবে।
আহা কি আনন্দ! ভাবতে ভাবতেই বিষণ্ণ সদানন্দ কখন ঘুমিয়ে গেলেন টের পেলেন না।
পরদিন ভোরবেলা চারুলতা যখন বাড়িতে এসে দরজার কড়া নাড়ল
সদানন্দ দরজা খুলে স্ত্রীকে ঘরে ঢুকিয়ে জিজ্ঞেস করল
'এই তুমি চন্দ্র এ ভগবানের সংগম দেখেছ?'
'হুম দেখেছি', স্বগোক্তির মত করে বলে উঠলো চারুলতা,
সেই যে ঠাকুর বাবা লেবু শরবতের পানি দিল তার পর থেকেই এখনো তার মাথা ভন ভন করছে।

তারও দশ মাস পরে সদানন্দ যখন তার স্ত্রী চারুলতা ও শিশু পুত্র গঙ্গারামকে নিয়ে
ঠাকুর বাবার কাছে দেখা করতে গেল
তখন ঠাকুর বলরাম তার শিষ্য হারাধনকে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন
কোন ড্রয়ারে চেতনা নাশক ও কোন ড্রয়ারে চেতনা উত্তেজক বটিকা রাখতে হবে।
'এত এত বটিকা! বাবা কি ঔষধের দোকান খুলবেন নাকি?'
সদানন্দের প্রশ্ন শুনে ও তাকে হঠাৎ দেখে চমকে উঠলেন ঠাকুর বলরাম;
সম্বিৎ ফিরে পেতেই বলে উঠলেন
'নহে বৎস নহে, এসব ভগবান পাঠিয়েছেন, আমি কেবলি রক্ষক মাত্র।'

২০শে মার্চ ২০১৭
যুক্তরাজ্য।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×