somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প

২১ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ৯:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বন্ধুরা আজ ৩ পর্বের ধারাবাহিক রাজনৈতিক গল্প আয়নার প্রতিবিম্বে ইবলিশ-এর প্রথম পর্ব, ৩ সপ্তাহে এই গল্পটি শেষ করবো সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আয়নার প্রতিবিম্বে ইবলিশ

এক

আলিফ মিয়াঁর মন খারাপ। তেমন কাউকেই খুঁজে পাওয়া যচ্ছেনা। অথচ তেমন কাউকে না পেলে এবারের উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়াতো দূরের কথা, ভোটে দাঁড়াবার টিকেটই পাওয়া যাবেনা।

আলিফ মিয়াঁ শ্লেষাত্মক হাসিটা ঠোঁটের কোণে ঝুলিয়ে আকাশের দিকে তাকালেন। রৌদ্রের এরকম কাঁকফাটা ভাব সে এর আগে কখনো অনুভব করেনি। রৌদ্রের তাপে দর দর করে ঘামছেন আলিফ মিয়াঁ অথচ তার রঙিন বাদুর ছাতাটা হাতের মধ্যেই পরিপাটিভাবে ভাঁজ করে রাখা। রৌদ্রের তাপ সহ্য করতে না পেরে আলিফ মিয়াঁ একটু দূরে বন উন্নয়ন কতৃপক্ষের লাগানো রাস্তার পাশে মেহগনি গাছের ছায়ার নীচে বসলেন আর তখনি তার হাতে যে মোহনীয় বাদুর ছাতাটা আছে তাও খেয়াল করলেন। আহা ছাতা! এইতো সেদিন জার্মানী থেকে মেয়ে পাঠিয়েছে, তার মেয়ে আম্বিয়ার কথা মনে পড়তেই একরাশ কষ্টের একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসল।

বেশী দিন আগের কথা নয়, মাত্র বছর পনের আগের কথা। গঞ্জের হাটে বটগাছের নীচে বসে পান-সুপারি বিক্রি করত আলিফ মিয়াঁ। অভাবের সংসারে চারটি মুখ তাকিয়ে থাকত তার সপ্তাহের দুই হাটের ইনকামের দিকে। এই টানাটানির মধ্যেও আলিফ মিয়াঁর মনে শান্তি ছিল। সুস্বাদু মিষ্টি পান বিক্রির সুনাম ছিল আলিফ মিয়াঁর সারা গঞ্জ ব্যাপী। এই পান বিক্রি করতে করতেই তার সাথে জানাশোনা হয়ে ওঠে মন্নাস মিয়াঁর। দুই তিনবার মেম্বরির ইলেকশান করার অভিজ্ঞতাও ছিল মন্নাসের, কিন্তু কোন বারই নির্বাচিত হতে পারেনি, নির্বাচন করতে যেয়েই দুই চার গ্রামের দুষ্ট লোক থেকে শুরু করে ভালমন্দ সবার সাথেই একটা সম্পর্ক তৈরী হয় মন্নাসের। রাতারাতি টাকার কুমির বনে যাওয়ার ব্যাপারে মন্নাসের এই পরিচয় অনেকটা কাজে লেগেছে বলে অনেকেই মনে করে। ঝির ঝির করে বৃষ্টি পড়ার সেই সন্ধ্যেটা আলিফ মিয়াঁর এখনো মনে আছে। দুই মাড়ির পাটির দাঁতের ফাঁকে এক খিলি মিষ্টি গুঁজে দিয়ে মান্নাস তাকে যা বলেছিল এখনও তা তার চোখে ভাসে---
- কি মিয়াঁ আলিফ সারা জীবন কি পানই খাওয়াইবা নাকি পোলাও-কোরমাও কিছু জুটবো?
- কি যে কন মিয়াঁ ভাই! একবেলা দুইডা খাইতে দেওয়ারই মুরোদ নাই আবার কন পোলাও কোরমার কথা! তয় আইয়েন গরীবের বাইত্তে পোলাও কোরমা না হউক দুইডা ডাইল-ভাত খাইয়া যাইয়েন।
- আলিফ মিয়াঁ এইডা কি হুনাইলা? ইচ্ছে থাকলে সবই হয়। ক্যান হুনো নাই যার ইচ্ছা নাই তারে উপরওয়ালাও সাহায্য করেনা।
মন্নাস মিয়াঁর কথা শুনে আলিফ মিয়াঁ তার মুখের দিকে অনেকক্ষণ ভাবলেশহীনভাবে তাকিয়ে থাকেন। তার চোখের মধ্যে মুহুর্তেই খেলা করে যায় স্ত্রী জরিনা, দুই কন্যা আম্বিয়া, আমেনা ও পুত্র আব্বাসের সুন্দর, সুখী আর স্বচ্ছ্বল আনন্দময় মুখ। আলিফ মিয়াঁ মন্নাসের মুখের দিকে আবার চেয়ে থাকে তারপর বিষণ্ণভাবে বলে
- তাইলে কি করতে হইবো মিয়াঁ ভাই?
ঝির ঝির বৃষ্টি তখনও ঝরছে, মুখটা একটু খাকারি দিয়ে মন্নাস মিয়াঁ একদলা পানের পিকসহ থুথু ছাপড়া ঘরের বেড়ায় ছিটিয়ে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই তার কাল রঙের টেট্রনের ছাতাটা ফুটিয়ে হন হন কর বের হওয়ার সময় তাকে বলে
- তাইলে আইও, কাইলকেই আইও; সূর্য ওডার আগেই আইও।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ৯:৪৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×