ঈশ্বরের জয় হোক
আমরা কেউ ঈশ্বরের সৃষ্টি নই,
একমাত্র হয়ত ঈশ্বরই ঈশ্বরের সৃষ্টি;
ঈশ্বর ভয়ানক স্বার্থপর,
পৃথিবীতে প্রবাহমান ঝর্ণাধারারতো কমতি নেই কোথাও!
ঈশ্বরের সীমাহীন তেষ্টা মিটানোরও কতকি আয়োজন!
কোন কোন ঝর্ণা নায়েগ্রার স্ফটিক জলের মত স্বচ্ছ,
কোনকোন ঝর্ণা ইউফেরিতাসের মতই প্রবাহমান,
আরাকানের আকিয়াবের পাশ দিয়ে প্রবাহমান যে নাফ
তারও স্রোত শান্ত পাহাড় থেকে নেমে আসা
রক্তলাল ঝর্ণার মত;
ঈশ্বর টিয়ে পাখির মত লম্বা চঞ্চু দিয়ে নির্বিকারভাবে
হাত বা শরীরে নিখুঁত স্পর্শহীন দক্ষতায়
সেখান থেকে জলপান করেন।
আমরা ঈশ্বরের এই অভাবনীয় দক্ষতায়
মোহন বাশিওয়ালার সুরে চমৎকৃত হওয়ার মত
তার বন্দনায় এক আকাশ নক্ষত্রকে আলো জ্বেলে দিতে বলি;
অতঃপর আরও কিছু রক্তাভ নদী দেখে
খুশিতে খুশিতে ঈশ্বরের জন্য খুলে দেই সব প্রার্থনালয়ের দরজা।
ঈশ্বর হয়ত ঘুমান না।
নিখুঁত দক্ষতায় তিনি যখন তার লম্বা চঞ্চু দিয়ে
রঙিন পানিয়ে মজে থেকে একটু ঝিমান
আমরা তখন ঈশ্বরের নৈশভোজের কাবাবের জন্য মাংস খুঁজি;
কখনো কখনো লোকালয় থেকে, কখনো কখনো গহীন জঙ্গল থেকে
কখনোবা নদীর পানিতে ভাসমান সরিসৃপ গুলোকে একত্রিত করে
ঈশ্বরের নৈশভোজের জন্য অগ্নিকুণ্ড জ্বেলে দেই,
ঈশ্বর ঝিমুনি থামিয়ে যখন একটু নড়েচড়ে ওঠেন
আমরা বুঝতে পারি কাবাবের গন্ধ বেশ পছন্দ ঈশ্বরের;
ঈশ্বর যখন খেতে বসেন
আমরা আবার ফিরে যাই প্রার্থনালয়ে,
প্রার্থনালয়ের ঘন্টীগুলো বেজে উঠতেই আমাদের উর্ধমূখী হাত
ঈশ্বরের সকালের প্রাতরাশের জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠে।
আমরা যে যার মত কোরাস করে গেয়ে উঠি
'মানবতার জয় হোক, ঈশ্বরের জয় হোক'।
১১ই সেপ্টেম্বর ২০১৭
যুক্তরাজ্য।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সকাল ৮:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



