
বন্ধুরা ছড়া পড়ুন। নির্মল বিনোদনে পেট চাপড়িয়ে হাসুন।
(এক)
টুপি
হঠাৎ শুনি মতিঝিলে
চলছে টুপির আকাল,
হাসু আপা বল্ল হেসে
তোরা কি সব মাকাল?
অকালপক্ব মাকাল ফলে
দেশটা আছে ঠাসা,
মুরগী চোরা স্বপন খাঁসি
এখন মোদের আশা।
শোবিজ নামক শো করে দে
ঘন্টি পিটা হাটে,
দাঁত বাঁকা বা প্রমোদবালা
হুমড়ি খাবে ঘাটে।
মতিঝিলের মসজিদে ভাই
টুপির শোকে আহাজারি
শোকে শোকে পাষাণ,
প্রমোদবালার এক ব্রা-তে
দুইটা টুপির আছান।
এমন তত্ব দিছে মোদের
খবিস মুহিত মাল,
ঢাকায় আছে চোদনা স্বপন
চিন্তা কিসের বাল!
(চোদনা স্বপন= বাংলাদেশের বিতর্কিত সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজক।)
১৭/১০/২০১৭
যুক্তরাজ্য।
(দুই)
এমন হেমন্তে
কুয়াশার আঁচড়ে স্মৃতি চিনহ এঁকো
মনের দেয়ালে লিখে রেখ নাম,
বেভুলো বসন্তে ফুল ধরে বল
এইবার ভালবাসিলাম।
রাত্রি নিশিথে একাকী জানালায়
দূরের ল্যাম্পপোস্টে আলোর জোনাকী,
ছুঁয়ে দিও অধর মহুয়ার ভ্রমে
ভেবে নিও আমিও ছিলাম।
আলোর আঁচে দুলে উঠে পাপড়ি
অচল জমিনে আগাছার বাস,
নিপুণ কৃষকে নাঙলের কুটুই
চাষাবাদ দিও বারোমাস।
এমন হেমন্তে দূর্বার ঘাসে,
শিশির রোদে মাখামাখি ভোরে
হয়ে যেও কাম, লেডিবাগ পোকা
জলের উপরে শুঁকনো পাতা
কাছাকাছি যেভাবে ভাসে।
১৯শে অক্টোবর ২০১৭
যুক্তরাজ্য।
(তিন)
এই শীতে
পাতা ঝরে যায়,
হিমেল হেমন্ত আছে অপেক্ষায়
বরফের দিন।
তুমিও অপেক্ষায় হিমেল শুভ্র ফসলের দিনের
কিংবা পিঠেপুলি প্রভাত, রক্তিম কৃষ্ণচূড়া!
আমারও অপেক্ষায় বরফের জল,
ব্যাঙের শীতনিদ্রা কি আর এমন!
ঘুমিয়ে ঘুমিয়েইতো কাটছে প্রহর,
দিবালোকে আঁধারের ঘরে আছি;
এ ঘরে আলোর জন্য নেই কোন তাড়া।
দূলে উঠে আলোর জোনাকী,
ডাকলেই কাছে যাব অমনটা ভেবনা;
হয়তো কখনো তাড়া ছিল প্রভাত কিরণের
কুয়াশার চাদরে ঢাকা ভোরের শিশির;
আজ রাত্রি শেষের পাখির কলতান,
দিবসে ব্যস্ত প্রেমিক-যুগলের হাতে হাত,
কফির কাপে টুংটাং ধ্বনি,
মাঝ রাতে নৈশক্লাবের হুল্লোর-চেচামেচি,
এসবের মধ্যে হৃদয় বেশী বা কম
আলোড়িত হওয়ার জন্য তেমন কোন উপলক্ষ দেখিনা।
শীত আসি আসি,
দরজায় শিষ দেয় হিমেল বাতাস,
অজ্ঞাত প্রাপকের চিঠি ফেলে যায় ডাকপিয়ন;
উচ্ছিষ্ট খাবারের সাথে কিছু অচেনা ফরমান
নিখুঁত কাগজের ভাঁজে প্রতিদিন যথেচ্ছা বিলীন।
একদিন ওসব কাগজে তুমিও ছিলে,
আজ ঝরা পাতার মত স্বপ্নহীন মিছিলে
ভাগাড়ে পড়ে আছ গোলাপি ঝিনুক!
পাতা ঝরে যায়...
এ শীতে আর বিচ্ছেদ নয়,
আমরা বরফের জলে জলে
উষ্ণতা খুঁজে নেব হিমেল তুষারের দিনে;
অমৃতসুধা ঈশ্বর দেবেন শুনেছি,
হাত বাড়ালেই যদি দুষ্প্রাপ্য নয় আরাধ্য স্বপন
তাহলে ঈশ্বর ঘুমাক যেমনটা তিনি করে আসছেন এতকাল,
কার কোন দায় নেই ঈশ্বরের নিদ্রাভঙ্গের।
আমাদের চোখের ভিতর জ্বলে ওঠা জোনাকি
হাতে নিয়ে হেঁটে যাব আঁধারের পথ।
১৯ শে অক্টোবর ২০১৭
যুক্তরাজ্য।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১২:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



