
ইবনে সিনা, আল রাযী, আল ফারাবী, আল বিরুনী, জাবির, আল খোয়ারিজমি, আল কিন্দি, ওমর খৈয়াম, ইবনে রুশদ .. . আরো অনেক নাম৷ তাঁরা অনেকেই বহুমাত্রিক প্রতিভাধর৷ তারা দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, সাহিত্যসহ বহুদিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন৷ আমরা আজও তাদের নিয়ে গর্ববোধ করি৷ সারা পৃথিবীও শ্রদ্ধা জানায়৷ তাঁরা কখনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছেন, কখনো চরম নিগৃহিত হয়েছেন৷ নিগৃহিত হওয়া চূড়ান্ত হলেই বন্ধ হয়ে যায় মুসলিমদের জ্ঞান সাধনা, যা আজও চলছে৷
দার্শনিক আল কিন্দি বলেছিলেন, 'আল্লা জগতের স্রষ্টা কিন্তু তিনি জগতের কোন কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন না৷' তিনি ছিলেন মোতাজিলা সম্প্রদায়ের৷ পুরো মতবাদটিকেই নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়৷
আল ফারাবী স্রষ্টার সর্বাধিপত্য স্বীকারের পাশাপাশি সৃষ্টিকেও শাশ্বত বলে মনে করতেন৷ বলেছিলেন, স্রষ্টা জড় বস্তুর উৎস৷
ইবনে সিনা বলেছেন, 'জগতের প্রতিটি বস্তুই অসম্পূর্ণ এবং এ অসম্পূর্ণ বস্তুগুলো পূর্ণতা পাওয়ার জন্য সচেষ্ট৷' এ বক্তব্য বিবর্তনবাদকেই সমর্থন করে৷ তিনিও সে বিতর্কিত প্রশ্নটি করেছিলেন, 'তাহলে স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করেছেন?' তিনিও বহু নিপীড়নের স্বীকার হন৷
আল বিরুনী বলেছেন, 'বৃত্তিক গতিতে পৃথিবী ঘোরে৷' সূর্যগ্রহণের নকশা করেছিলেন৷ জাবির একজন আল কেমি ছিলেন৷ কেমিষ্ট্রির জনক বলা হয় তাকে৷ আল খোয়ারিজমিকে বলা হয় এলজেবরার জনক৷ তাঁর একটি বইর নাম থেকেই নামটি এসেছে৷ তাঁরা সকলেই কখনো পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছেন৷ কখনো থেকেছেন দৌড়ের উপর৷
ওমর খৈয়াম বিখ্যাত হয়েছেন কবি হিসেবে৷ তবে তিনিও বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী ছিলেন৷ তিনি একটি রুবাইতে লিখেছেন, 'পাপীরা যদি বেহেস্তে না যায় তবে সেটা দয়া নয়৷'
ইবনে রুশদ বলেছেন, 'অজ্ঞতা থেকে ভীতি তৈরি হয়, ভীতি ঘৃণার সৃষ্টি করে আর ঘৃণা থেকে আসে হিংস্রতা৷' তিনি আরো বলেছেন, 'যে ব্যক্তির যৌক্তিকতা পৃথিবীকে যতবেশি বুঝতে সক্ষম হয়, তিনি তার কাজে কর্মে তত বেশি যৌক্তিক এবং নৈতিক হন৷' শুরুতে তিনি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন৷ শেষে তাকে নাস্তিক বলেই তাড়ানো হয়৷ তাঁর সমস্ত বই পুড়িয়ে দেয়া হয়৷ শেষ জীবনে আর লিখবেন না এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশে ফিরতে পারেন৷
আজ যাদের নিয়ে গর্ব করি একসময় তাদেরই নিদারুণ নিপীড়ন করেছি৷ হুমায়ুন আজাদ এজন্যই বলেছিলেন, 'আজ যারা আমাকে হত্যা করতে চাচ্ছেন তারাই শত বছর পরে আমাকে নিয়ে গর্ব করবে৷' কাজী নজরুলও নাস্তিক খেতাব পেয়েছিলেন৷ পূজনীয় হতে শত বছর লাগেনি৷
বিজ্ঞান ও জ্ঞান চর্চাকে উগ্রপন্থী মুসলিমরা ঘৃণার চোখে দেখে৷ হুমায়ুন আজাদসহ কয়েকজন খুন হওয়াতে অনেক জ্ঞানী মানুষই দেশ ছেড়েছেন৷ যারা জ্ঞানীদের খুন করতে চান তারা প্রায় সকলেই হয় স্বল্প শিক্ষিত না হয় উগ্র মতাদর্শের মানুষ৷ রাষ্ট্রও জ্ঞানীদের রক্ষায় এগিয়ে আসে না৷ যদি এভাবে জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা হুমকির মধ্যেই থাকে তাহলে মুসলিম জাতির সেই স্বর্ণযুগ আর ফিরে আসবে না৷
ইবনে সিনা, আল রাযী, আল ফারাবী, আল বিরুনী, জাবির, আল খোয়ারিজমি, আল কিন্দি, ওমর খৈয়াম, ইবনে রুশদ .. . আরো অনেক নাম৷ তাঁরা অনেকেই বহুমাত্রিক প্রতিভাধর৷ তারা দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, সাহিত্যসহ বহুদিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন৷ আমরা আজও তাদের নিয়ে গর্ববোধ করি৷ সারা পৃথিবীও শ্রদ্ধা জানায়৷ তাঁরা কখনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছেন, কখনো চরম নিগৃহিত হয়েছেন৷ নিগৃহিত হওয়া চূড়ান্ত হলেই বন্ধ হয়ে যায় মুসলিমদের জ্ঞান সাধনা, যা আজও চলছে৷
দার্শনিক আল কিন্দি বলেছিলেন, 'আল্লা জগতের স্রষ্টা কিন্তু তিনি জগতের কোন কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন না৷' তিনি ছিলেন মোতাজিলা সম্প্রদায়ের৷ পুরো মতবাদটিকেই নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়৷
আল ফারাবী স্রষ্টার সর্বাধিপত্য স্বীকারের পাশাপাশি সৃষ্টিকেও শাশ্বত বলে মনে করতেন৷ বলেছিলেন, স্রষ্টা জড় বস্তুর উৎস৷
ইবনে সিনা বলেছেন, 'জগতের প্রতিটি বস্তুই অসম্পূর্ণ এবং এ অসম্পূর্ণ বস্তুগুলো পূর্ণতা পাওয়ার জন্য সচেষ্ট৷' এ বক্তব্য বিবর্তনবাদকেই সমর্থন করে৷ তিনিও সে বিতর্কিত প্রশ্নটি করেছিলেন, 'তাহলে স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করেছেন?' তিনিও বহু নিপীড়নের স্বীকার হন৷
আল বিরুনী বলেছেন, 'বৃত্তিক গতিতে পৃথিবী ঘোরে৷' সূর্যগ্রহণের নকশা করেছিলেন৷ জাবির একজন আল কেমি ছিলেন৷ কেমিষ্ট্রির জনক বলা হয় তাকে৷ আল খোয়ারিজমিকে বলা হয় এলজেবরার জনক৷ তাঁর একটি বইর নাম থেকেই নামটি এসেছে৷ তাঁরা সকলেই কখনো পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছেন৷ কখনো থেকেছেন দৌড়ের উপর৷
ওমর খৈয়াম বিখ্যাত হয়েছেন কবি হিসেবে৷ তবে তিনিও বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী ছিলেন৷ তিনি একটি রুবাইতে লিখেছেন, 'পাপীরা যদি বেহেস্তে না যায় তবে সেটা দয়া নয়৷'
ইবনে রুশদ বলেছেন, 'অজ্ঞতা থেকে ভীতি তৈরি হয়, ভীতি ঘৃণার সৃষ্টি করে আর ঘৃণা থেকে আসে হিংস্রতা৷' তিনি আরো বলেছেন, 'যে ব্যক্তির যৌক্তিকতা পৃথিবীকে যতবেশি বুঝতে সক্ষম হয়, তিনি তার কাজে কর্মে তত বেশি যৌক্তিক এবং নৈতিক হন৷' শুরুতে তিনি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন৷ শেষে তাকে নাস্তিক বলেই তাড়ানো হয়৷ তাঁর সমস্ত বই পুড়িয়ে দেয়া হয়৷ শেষ জীবনে আর লিখবেন না এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশে ফিরতে পারেন৷
আজ যাদের নিয়ে গর্ব করি একসময় তাদেরই নিদারুণ নিপীড়ন করেছি৷ হুমায়ুন আজাদ এজন্যই বলেছিলেন, 'আজ যারা আমাকে হত্যা করতে চাচ্ছেন তারাই শত বছর পরে আমাকে নিয়ে গর্ব করবে৷' কাজী নজরুলও নাস্তিক খেতাব পেয়েছিলেন৷ পূজনীয় হতে শত বছর লাগেনি৷
বিজ্ঞান ও জ্ঞান চর্চাকে উগ্রপন্থী মুসলিমরা ঘৃণার চোখে দেখে৷ হুমায়ুন আজাদসহ কয়েকজন খুন হওয়াতে অনেক জ্ঞানী মানুষই দেশ ছেড়েছেন৷ যারা জ্ঞানীদের খুন করতে চান তারা প্রায় সকলেই হয় স্বল্প শিক্ষিত না হয় উগ্র মতাদর্শের মানুষ৷ রাষ্ট্রও জ্ঞানীদের রক্ষায় এগিয়ে আসে না৷ যদি এভাবে জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা হুমকির মধ্যেই থাকে তাহলে মুসলিম জাতির সেই স্বর্ণযুগ আর ফিরে আসবে না৷
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০২০ রাত ৮:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


