somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুজিব রহমান
সমাজ বদলাতে হবে। অনবরত কথা বলা ছাড়া এ বদ্ধ সমাজ বদলাবে না। প্রগতিশীল সকল মানুষ যদি একসাথ কথা বলতো তবে দ্রুতই সমাজ বদলে যেতো। আমি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে অনবরত বলতে চ

কলম্বাসকে টেনে নামানোতে অভিনন্দন!

১১ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকারী আপনাদের অভিনন্দন জানাই ইতালীয় লুটেরা-খুনি ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ভাস্কর্যকে টেনে ভূপাতিত করার জন্য। ১০ ফুট উচ্চতার ব্রোঞ্জের ভাস্কর্যটিকে গ্রানাইটের ভিত্তি থেকে ফেলে দেয়া মানে হল, ১৪৯২ সালে কলম্বাস ওই ভূখণ্ডবাসীদের সাথে যা করেছিল তার সঠিক ইতিহাস উন্মচনের সূচনা করা। আটলান্টিকের দাস ব্যবসা আর গণহত্যা-নির্যাতনে আমেরিকা মহাদেশের আদি বাসিন্দাদের হঠিয়ে শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয়দের ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ঘটনাপ্রবাহ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে কলম্বাসের একটি স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর করে পাশের হ্রদে ফেলে দেওয়া হয়। বস্টনে কলম্বাসের আরেকটি ভাস্কর্যের মাথা খুলে ভেঙে ফেলা হয়। সেইন্ট পলের বাসিন্দারাই বুধবার কলম্বাসের ভাস্কর্যের মূলোৎপাটন করেন। এসব ক্ষতচিহ্ন সরিয়ে ফেলার এখনই সময়। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু বৃথা যাবে না।


বিশ্বজুড়েই বর্ণবাদ ও মৌলবাদকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। গত রোববার ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে সপ্তদশ শতকের দাস ব্যবসায়ীর এডওয়ার্ড কোলস্টোনের স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে সাগরে ফেলে দেয় বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। এরপর মঙ্গলবার লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস বারা থেকে ব্রিটিশ দাস ব্যবসায়ী রবার্ট মিলিগানের ভাস্কর্য সরানো হয়।


বর্ণবাদীরা ছড়িয়ে দিয়েছে যে কৃষ্ণাঙ্গরা কম বুদ্ধিমান, কম রোজগেরে, কম মেধাবী আর বিপরীতে তারা অধিক হিংস্ত্র, কর্মবিমুখ, অধিক প্রতারক..।তারা কাটছাট করা প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং মিডিয়াকে ব্যবহার করে তার প্রমাণ করতে চায়। বহু আগেই এসব মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের পেশির জোর বেশি বলে নিন্দা করা হয় আবার মেয়েদের পেশির জোর কম বলেও নিন্দা করা হয়।


ওই ভূখণ্ডের মানুষ, যাদের আমরা রেড ইন্ডিয়ান বলে জানি (সে নামটিও তাদের নিজেদের দেয়া নয়) তাদের জন্য কলম্বাস কি শুভ বার্তা নিয়ে গিয়েছিল? না! কলম্বাস নিয়ে গিয়েছিল অশুভ বার্তা! বিভিন্ন কৌশলে স্থানীয় আদিবাসীদের পরাজিত করতে সক্ষম হয় কলম্বাসরা। স্থানীয়দের দাসে পরিণত করে। মারাত্মক প্রতিকূল পরিবেশে পতিত হন স্থানীয়রা। মাত্র ২০ বছরের মধ্যে ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে স্থানীয়রা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। আজ আমেরিকায় যে নিগ্রোদের দেখেন তারা স্থানীয় মানুষ নন। ইউরোপিয়ানরা তাদের ধরে নিয়ে আসেন আফ্রিকা থেকে। ব্যবহার করেন দাস হিসেবে। রেডইন্ডিয়ানরা কলম্বাসকে বিশ্বাস করেছিল আর পেয়েছিল নিষ্ঠুর প্রতারণা আর মৃত্যু। মিথ্যাচার আর প্রতারণা করেই স্প্যানীয় প্রতারকগণ পুরো আমেরিকাকে দখলে নিয়েছিল। ইনকার মতো বহু সভ্যতাই তারা বিলীন করে দিয়েছে।

কলম্বাস হিটলারদেরই পূর্বসূরি আর ট্রাম্প হল কলম্বাসেরই উত্তরসূরি। আমেরিকা জুড়ে আজ সিংহভাই শেতাঙ্গ আর কৃষ্ণাঙ্গ। যে কলম্বাস আমেরিকার লক্ষ লক্ষ আদিবাসীদের জন্য নিয়ে এসেছিলেন বিপন্ন হওয়ার বার্তা তার মূর্তি এই সভ্য যুগে আমেরিকাতে মানানসই নয়। কলম্বাসকে দুঃসাহসী-অভিযাত্রী না বলে লুটেরাদের সর্দার বলাই উত্তম। তাকে আমেরিকা থেকে উৎখাত করাই যৌক্তিক। সমস্ত পাঠ্যবইতে তাকে মহান হিসেবে না দেখিই এখনই লুটেরা ও খুনি হিসেবেই দেখানো উচিৎ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:৪১
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এরা কারা, কী এদের পরিচয়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:৪৮


যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, ঠিক তাই ঘটছে। ‘আজাদ পার্টি’ নামের একটি নতুন ভূঁইফোড় রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে গতকাল ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে যে মিছিল এবং ঘেরাও কর্মসূচি করা হলো, তা কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×