যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকারী আপনাদের অভিনন্দন জানাই ইতালীয় লুটেরা-খুনি ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ভাস্কর্যকে টেনে ভূপাতিত করার জন্য। ১০ ফুট উচ্চতার ব্রোঞ্জের ভাস্কর্যটিকে গ্রানাইটের ভিত্তি থেকে ফেলে দেয়া মানে হল, ১৪৯২ সালে কলম্বাস ওই ভূখণ্ডবাসীদের সাথে যা করেছিল তার সঠিক ইতিহাস উন্মচনের সূচনা করা। আটলান্টিকের দাস ব্যবসা আর গণহত্যা-নির্যাতনে আমেরিকা মহাদেশের আদি বাসিন্দাদের হঠিয়ে শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয়দের ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ঘটনাপ্রবাহ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে কলম্বাসের একটি স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর করে পাশের হ্রদে ফেলে দেওয়া হয়। বস্টনে কলম্বাসের আরেকটি ভাস্কর্যের মাথা খুলে ভেঙে ফেলা হয়। সেইন্ট পলের বাসিন্দারাই বুধবার কলম্বাসের ভাস্কর্যের মূলোৎপাটন করেন। এসব ক্ষতচিহ্ন সরিয়ে ফেলার এখনই সময়। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু বৃথা যাবে না।

বিশ্বজুড়েই বর্ণবাদ ও মৌলবাদকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। গত রোববার ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে সপ্তদশ শতকের দাস ব্যবসায়ীর এডওয়ার্ড কোলস্টোনের স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে সাগরে ফেলে দেয় বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। এরপর মঙ্গলবার লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস বারা থেকে ব্রিটিশ দাস ব্যবসায়ী রবার্ট মিলিগানের ভাস্কর্য সরানো হয়।

বর্ণবাদীরা ছড়িয়ে দিয়েছে যে কৃষ্ণাঙ্গরা কম বুদ্ধিমান, কম রোজগেরে, কম মেধাবী আর বিপরীতে তারা অধিক হিংস্ত্র, কর্মবিমুখ, অধিক প্রতারক..।তারা কাটছাট করা প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং মিডিয়াকে ব্যবহার করে তার প্রমাণ করতে চায়। বহু আগেই এসব মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের পেশির জোর বেশি বলে নিন্দা করা হয় আবার মেয়েদের পেশির জোর কম বলেও নিন্দা করা হয়।

ওই ভূখণ্ডের মানুষ, যাদের আমরা রেড ইন্ডিয়ান বলে জানি (সে নামটিও তাদের নিজেদের দেয়া নয়) তাদের জন্য কলম্বাস কি শুভ বার্তা নিয়ে গিয়েছিল? না! কলম্বাস নিয়ে গিয়েছিল অশুভ বার্তা! বিভিন্ন কৌশলে স্থানীয় আদিবাসীদের পরাজিত করতে সক্ষম হয় কলম্বাসরা। স্থানীয়দের দাসে পরিণত করে। মারাত্মক প্রতিকূল পরিবেশে পতিত হন স্থানীয়রা। মাত্র ২০ বছরের মধ্যে ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে স্থানীয়রা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। আজ আমেরিকায় যে নিগ্রোদের দেখেন তারা স্থানীয় মানুষ নন। ইউরোপিয়ানরা তাদের ধরে নিয়ে আসেন আফ্রিকা থেকে। ব্যবহার করেন দাস হিসেবে। রেডইন্ডিয়ানরা কলম্বাসকে বিশ্বাস করেছিল আর পেয়েছিল নিষ্ঠুর প্রতারণা আর মৃত্যু। মিথ্যাচার আর প্রতারণা করেই স্প্যানীয় প্রতারকগণ পুরো আমেরিকাকে দখলে নিয়েছিল। ইনকার মতো বহু সভ্যতাই তারা বিলীন করে দিয়েছে।
কলম্বাস হিটলারদেরই পূর্বসূরি আর ট্রাম্প হল কলম্বাসেরই উত্তরসূরি। আমেরিকা জুড়ে আজ সিংহভাই শেতাঙ্গ আর কৃষ্ণাঙ্গ। যে কলম্বাস আমেরিকার লক্ষ লক্ষ আদিবাসীদের জন্য নিয়ে এসেছিলেন বিপন্ন হওয়ার বার্তা তার মূর্তি এই সভ্য যুগে আমেরিকাতে মানানসই নয়। কলম্বাসকে দুঃসাহসী-অভিযাত্রী না বলে লুটেরাদের সর্দার বলাই উত্তম। তাকে আমেরিকা থেকে উৎখাত করাই যৌক্তিক। সমস্ত পাঠ্যবইতে তাকে মহান হিসেবে না দেখিই এখনই লুটেরা ও খুনি হিসেবেই দেখানো উচিৎ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



