
যখন বলা হচ্ছে- শুধু বঙ্গবন্ধু বা জিয়াউর রহমানের নয় দেশ থেকে সব ভাস্কর্যই ভাঙ্গা হবে। এর মানে বুঝতে আমাদের অসুবিধা হয় না। এটা স্পষ্ট হয়ে উঠে এই বক্তব্যের নেপথ্যের উদ্দেশ্য। ভাষাআন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধের পরাজিত শক্তির ডিসেম্বর এলে আর কষ্টের সীমা থাকে না। ডিসেম্বর পেরুলেই জানুয়ারীর পরে আসে ফেব্রুয়ারি এর পরেই মার্চ। কষ্টগুলো ভীষণ থেকে ভীষণতম হয়ে উঠে। এ সময়ে যখন দেশের কোটি কোটি মানুষ স্মরণ করে ভাষা শহীদদের এবং একাত্তরের স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসগীকৃত প্রাণকে তখন তাদের সকল রোষ গিয়ে পড়ে ঐ ইট-পাথরের ভাস্কর্যের উপর। তারা মনে করে ভাস্কর্য না থাকলে মানুষ শ্রদ্ধা জানানোর জায়গা পাবে না, ফুল দেয়ার সুযোগ পাবে না। কিন্তু শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধ ভাঙ্গার কথাতো সরাসরি বলা যায় না তাই তারা নিয়েছে ভিন্ন কৌশল। যে গভীর ষড়যন্ত্রের কথা আমরা বলছিলাম তাদের শেষ বক্তব্যে উঠে এসেছে সে কথাই। সমস্ত ভাস্কর্যই তারা ভাঙ্গতে চায়- শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধতো সমস্তর বাইরে নয়।
মাঝের মিনারটি আনতমস্তকে স্নেহময়ী মাতা এবং ছোট অবয়ব চারটিকে সন্তান ধরেই শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে। যেহেতু একজন নারী ও তার চার সন্তানের বিমূর্ত প্রতিকৃতি তাই তারা এটাকে ছাড়বে কেন? তাদের আন্দোলনটাইতো এটি ভাঙ্গার জন্য। বায়ান্ন ও একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই তারা শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধ ভাঙ্গতে চান- এটা বুঝতে না পারার কিছু নেই। স্মৃতিসৌধও একাত্তরের শহীদদের স্মরণে নির্মিত একটি স্মারক ভাস্কর্য। দুটির সাথেই সম্পর্ক রয়েছে মানুষের তথা শহীদদের। এই ভাস্কর্য দুটি ভাঙ্গার স্বপ্ন সুদীর্ঘকাল দেখে আসছে তারা। আজ আরো কাছে চলে এসেছে। সারা দেশ থেকে যদি সকল শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধ ভেঙ্গে ফেলতে পারে তাহলে মানুষ ভাষা-বিরোধী ও স্বাধীনতা-বিরোধীদের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করার সুযোগ পাবে না। মানুষকে ভুলিয়ে দিতে পারবে ভাষা আন্দোলনের কথা, স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা।
তারা দীর্ঘকাল বলে আসছিল- শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার বিরুদ্ধে। তাদের কথা মানুষ পাত্তা দেয়নি। মানুষ বিজয় দিবস, ভাষা দিবস ও স্বাধীনতা দিবস এলেই ছুটে যায় শহীদ মিনারে, স্মৃতি সৌধে ফুল হাতে। তাদের মনোবাসনা পূর্ণ হয় না। তারা যদি সফল হয় তবে তাদের মূল লক্ষ্য পূরণ করবেই। সেই সাথে দেশ হয়ে উঠবে আইএস অথবা আফগানিস্তানের মতো। ধ্বংসস্তূপ, বর্বরতা, নৃশংসতা, অমানবিকতা ছাড়া আর কিছু থাকবে না। সমস্ত মানবিক দিক, সমস্ত সুকুমার বৃত্তি, সমস্ত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শেষ হয়ে, হয়ে উঠবে বিরাণভূমি। শেষ হবে পাখিদের গান, শিশুদের হাসি, তারুণ্যের উল্লাস। বলাৎকার হবে জাতীয় ক্রীড়া, খুন হবে উৎসব, তলোয়ারের ঝনঝন হবে জাতীয় সংগীত।
এখনই কথা বলুন! নইলে এমন দিন আসবে যখন কথা বলার কথা ভাবতেও পারবেন না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

