somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুজিব রহমান
সমাজ বদলাতে হবে। অনবরত কথা বলা ছাড়া এ বদ্ধ সমাজ বদলাবে না। প্রগতিশীল সকল মানুষ যদি একসাথ কথা বলতো তবে দ্রুতই সমাজ বদলে যেতো। আমি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে অনবরত বলতে চ

আমাদের শিশুদের উপর চেপে থাকে স্কুল

১০ ই এপ্রিল, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা জানি, জাপানের শিশুরা কখনো কাঁদে না। তাদের স্কুলে কোন পরীক্ষা নেই। বন্ধুকে প্রতিদ্বন্দ্বি কখনোই ভাবতে হয় না। তারা শিখে খেলতে খেলতে, আনন্দ করতে করতে। আর এজন্য জাপানের শিশুশিক্ষা ব্যবস্থাকে বলা হয় পৃথিবীর সেরা শিক্ষা ব্যবস্থা। আর আমাদের? অসংখ্য শিশু বলাৎকারের শিকার হয় প্রতি বছর। মারধর চলতেই তাকে। আর প্রাইভেট, গাইড নোট চেপে আছে দানবের মতো। এই করোনাকালে স্কুল-কলেজ বন্ধ। তাই এখনই সময় শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার, কথা বলার।যাতে আগামী বছর থেকে একটি আধুনিক ও শিশুর জন্য প্রকৃত মানবিক ও সামাজিক বিকাশ ঘটে এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু করা যায়। আজ দুটি দিক নিয়ে বলব-

১। আমাদের ক্লাস শুরুর পরপরই শুরু হয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। সেখানেই শুরু হয় নিপীড়নের সূচনা। প্রতিটি স্কুলেই খেলা শেষ হলেও পুরস্কার নেয়ার জন্য তাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। অতিথি হিসেবে আসে মন্ত্রী, এমপি, নেতারা না হলে মস্ত কোন ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ সাথে নেতা-পাতিনেতাতো থাকেই। শুরু হয় শিশুদের দাঁড়িয়ে থাকা। ওনারা অর্থহীন মিথ্যাচার আর রাজনৈতিক কথা বলতে বলতে শিশুদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলে। দীর্ঘসময় এসব বাজে কথা শুনিয়ে তাদের হাতে খুবই নিম্নমানের পুরস্কার তুলে দেয়। আর অতিথিরা ভূরিভোজ সেরে বিদায় নেয়। বড়দের কুপ্রভাব সরলমতি ও ভালমনের শিশুদের মধ্যে বাজে অনেক ধারণা ঢুকিয়ে দিয়ে যায়। ওরাই শুরু করে শিশুদের নষ্ট করা। তাই স্কুলগুলোর জন্য প্রতিবছর জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে এমন একটি দিন নির্ধারণ করে দিতে হবে যাতে সব স্কুলের খেলা একদিনেই হয়। এতে ওই নষ্ট মানুষরা আর সুযোগ পাবে না শিশুদের নষ্ট করতে। পুরষ্কারও হোক মজার মজার। প্রচলিত দৌড়-ফৌড় এর পরিবর্তে নিয়ে আসতে হবে মজার মজার মজার খেলা। যারা জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিবে তাদের জন্য থাকুক আলাদা ব্যবস্থা।

২। প্রাথমিক পর্যন্ত সকল ধরনের পরীক্ষাই তুলে দিতে হবে। গাইড, নোট, প্রাইভেট একেবারে আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে। প্রতিটি স্কুলেই রাখতে হবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। ছবি আঁকবে, গান গাইবে, কবিতা/ছড়া লিখবে/পড়বে, মাটি দিয়ে মূর্তি গড়বে, অনলাইন জগতে ঢুকে কার্টুন দেখবে, আর লিখতে, পড়তে শিখবে। তারা পড়বে সেরা লেখক/গবেষকদের লেখা নিয়ে তৈরি সেরা পাঠ্য বই। সেখানে কোন জাতীয়তাবাদী, সাম্প্রদায়িক, রাজনৈতিক চেতনা ঢোকানো নিষিদ্ধ থাকবে। ছয় বছর পড়ে তারা হাই স্কুলে যাবে এবং সেখানে তারা দ্বাদশ ক্লাস পর্যন্ত পড়বে। পরীক্ষা দিবে তবে ফলাফল হতে পারে সর্বোচ্চ গ্রেড হিসেবে রোল নং হিসেবে নয়। রোল নম্বর হবে সিক্সে ভর্তির রোল। একই রোল যেমন আগামী বছর যে সবার আগে ভর্তি হবে তার রোল হবে ২০২২ ০১ এবং এটাই থাকবে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। কোন ফেল থাকবে না। দ্বাদশে গিয়ে প্রথম পাবলিক পরীক্ষা দিয়ে তারা গ্রেড অর্জন করবে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কষ্ট থেকে আত্মরক্ষা করতে চাই

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৯



দেহটা মনের সাথে দৌড়ে পারে না
মন উড়ে চলে যায় বহু দূর স্থানে
ক্লান্ত দেহ পড়ে থাকে বিশ্রামে
একরাশ হতাশায় মন দেহে ফিরে।

সময়ের চাকা ঘুরতে থাকে অবিরত
কি অর্জন হলো হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য : মদ্যপান !

লিখেছেন গেছো দাদা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৫৩

প্রখ্যাত শায়র মীর্জা গালিব একদিন তাঁর বোতল নিয়ে মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। বেশ মৌতাতে রয়েছেন তিনি। এদিকে মুসল্লিদের নজরে পড়েছে এই ঘটনা। তখন মুসল্লীরা রে রে করে এসে তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেঘ ভাসে - বৃষ্টি নামে

লিখেছেন লাইলী আরজুমান খানম লায়লা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৪:৩১

সেই ছোট বেলার কথা। চৈত্রের দাবানলে আমাদের বিরাট পুকুর প্রায় শুকিয়ে যায় যায় অবস্থা। আশেপাশের জমিজমা শুকিয়ে ফেটে চৌচির। গরমে আমাদের শীতল কুয়া হঠাৎই অশীতল হয়ে উঠলো। আম, জাম, কাঁঠাল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

= নিরস জীবনের প্রতিচ্ছবি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৪:৪১



এখন সময় নেই আর ভালোবাসার
ব্যস্ততার ঘাড়ে পা ঝুলিয়ে নিথর বসেছি,
চাইলেও ফেরত আসা যাবে না এখানে
সময় অল্প, গুছাতে হবে জমে যাওয়া কাজ।

বাতাসে সময় কুঁড়িয়েছি মুঠো ভরে
অবসরের বুকে শুয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Instrumentation & Control (INC) সাবজেক্ট বাংলাদেশে নেই

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৪:৫৫




শিক্ষা ব্যবস্থার মান যে বাংলাদেশে এক্কেবারেই খারাপ তা বলার কোনো সুযোগ নেই। সারাদিন শিক্ষার মান নিয়ে চেঁচামেচি করলেও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাই বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে সার্ভিস দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×