somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোম ও আগুন

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সালমান মাদ্রাসার ছাত্র সে লজিং থেকে পড়ালেখা করে। সালমান যে বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে সে বাড়ির মালিক হাবিবুর রহমান সাহেব এলাকার একজন স্বনামধন্য ব্যক্তি। এলাকার সবাই তাকে অনেক সম্মান করে। হাবিবুর রহমানের দুই ছেলে এক মেয়ে। শাহিন ও আশিক ঢাকায় থেকে চাকরি করে সাথে তাদের স্ত্রী সন্তানরাও থাকে। হাবিবুর রহমান তাদের বাপের ভিটা ছেড়ে ঢাকায় যেতে রাজি হয়নি তাই গ্রামেয় থাকে তার ছোট মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে। হাবিবুর রহমানের ছোট মেয়ের নাম নুরজাহান।

সালমান আজ মাদ্রাসায় যাওয়ার সময় এলাকার বখাটে ছেলেরা তাকে অপমাণ করেছে। গ্রামের বখাটে ছেলেদের লিডার পল্টু। পল্টু নুরজাহানকে ভালবাসে তাই সে তার চেলাপেলাদেরকে নিয়ে নুরজাহানদের বাড়িতে যে ছেলেই লজিং থাকতে আসে তাকে যেকোন উপায়ে বেড় করে দেয়। তারি দারাবাহিকতায় সালমানকেও টার্গেট করে। সালমানকে কটু কথা বলে রাগানোর চেষ্টার করে কিন্তু তাদের চেষ্টা বিফলে যায়। কারণ সালমান তাদের সাথে জগড়া না করে মাথা নিচু করে অপমান সহ্য করে বাড়িতে চলে আসে।

সালমান মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে আসার পর নুরজাহান তার চেখারা দেখেই বুজতে পেরেছে যে আজও বখাটে ছেলেরা তাকে অপমান করেছে।

সালমান প্রতিদিন নুরজাহানকে উর্দু আর আরবি বিষয়ে পড়ায়। নুরজাহান নামে যেমন সুন্দুর বাস্তবেও তাই। সে সারা জাহানের নুর না হলেও নিঝুমপুর গ্রামের নুর ঠিকি। তার রূপে এলাকার জোয়ান থেকে বুড়ু বয়সের পুরুষরা পর্যন্ত হাবুডুবু খায়। নুরজাহান স্কুলে যাওয়ার সময় এলাকার ছেলেরা লাইন দরে। কিন্তু নুরজাহানের একটাই দুঃখ সে এত সুন্দরী হওয়া সত্বেও তাদের বাড়িতে একটিবারের জন্যও সালমান তার দিকে তাকালো না এটাই তার দুঃখ। সালমান ইসলামের নিয়মকানুন মেনে চলার কারণে বেগানা নারীর প্রতি নজর দিতে পারে না যদিও বাধ্য হয়ে তাকে একবেলা পড়াতে হয়।

নুরজাহান মনে মনে সালমানের প্রেমে পড়েগেছে তার এই সততা দেখে কিন্তু তার ভালবাসার কথা প্রকাশ করতে পারে না। যদিও ইশারা ইঙ্গিতে প্রকাশ করেছে। একদিন সালমান আবার সেই বখাটে ছেলেদের মার খেয়ে বাড়িতে আসার পরে নুরজাহান অনেক রেগে গিয়ে সালমানকে উদ্দেশ্য করে বলে-
আপনি কি মানুষ নাকি অন্যকিছু? আপনি কি পুরুষ না কি অন্যকিছু? আপনার কি কোন পুরুষ্যত্ব নাই? আল্লাহ কি আপনারে রাগ অভিমান, প্রেম ভালবাসা কোন কিছু দেন নাই? আপনাকে প্রতিদিন সেই ছেলেগুলো অপমান করে আর মারে আপনি কোন কিছু না বলে চুপ করে কাপুরুষের মতো চলে আসেন কেন? আপনার গায়ে কি রক্ত নেই?
নুরজাহানা এই কথাগুলো বলার সময় হঠাত মনের অজান্তে সালমানের হাত ধরেফেলে। কিছু সময়ের জন্য কেউ কোন কথা না বলে কল্পনার জগতে হারিয়ে গিয়েছিল।

সালমান নুরজাহানের এসকল কথা শুনে তার পুরুষত্বে আঘাত লাগে তাছাড়া নুরজাহানের হাতের ছুয়া পেয়ে তার অন্তরের মুম গলতে শুরু করে। আর নুরজাহানের সকল কথাগুলো তার অন্তররে গেতে যায়। তাই সে আজ যখন মাদ্রাসায় যাচ্ছিল রাস্তায় বখাটের দলেরা আক্রমণ চালাতে এইবার চুপ না থেকে একজন একজন করে দরে পুকুরে ফেলে দিয়েছে। আর তাদের দলের লিডার হাতে ছুড়ি নিয়ে সালমানকে আঘাত করতে আসলে সালমান প্রতিহত করতে গিয়ে সেই ছুরির আঘাতে লিডার মারা যায়।

পুলিশ এসে সালমানকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় খুনের অপরাধে। সব সাক্ষী প্রমাণের পর সালমানের ছয় বছর জেল হয়। আর নুরজাহান তাকে চিটি দিয়ে জানায় যে, এই ছয় বছর সে সালমানের জন্য অপেক্ষা করবে। সে সালমানের ফিরে আসার পথপানে চেয়ে চেয়ে দিন পার করবে।

গল্পের সার্মম হলোঃ আগুনের ধর্ম হলো পুরানো আর মোমের ধর্ম হলো আগুনের লেলিহান শিখায় পুরে পুরে নিজেকে শেষ করে দেওয়া। নারী হচ্ছে আগুন আর পুরুষ হচ্ছে মোম। মোম যেমন আগুনের স্পর্শে গলে যায় ঠিক তেমনে একটি নারীর সঙ্গ পেলে পুরুষ নিজেকে যতই সহি রাখতে চাই তা সম্ভব নয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৪৭
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি শোক সংবাদ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:০৯



পেটের দায়ে সপরিবার নীলফামারি থেকে কুমিল্লা শহরে এসে,
ব্যাটারি চালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন মোঃ শরিফুল ইসলাম;
তিনি এখন মরহুম! স্ত্রী ও ২ কন্যা নিয়ে ছিলেন কোনোরকমে বেঁচেবর্তে।

গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব বিষয়ক ভাবনা

লিখেছেন করুণাধারা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩



সংখ্যাওয়ালা কোনো লেখা দেখলে হিসাব ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা আমার অভ্যাস। ইদানিং বিভিন্ন রকম সংখ্যাওয়ালা কিছু বিজ্ঞাপন সামনে আসছে, এগুলো ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনে যেসব সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুনাফেকি নাকি Diplomatic situationship?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০


গত শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উদযাপিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×