somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যাদের দেখার কেউ নেই

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অফিসের কাজের চাপের কারণে এই শীতকালেও একটু দেরিতে বাসায় ফিরতে হয়। অফিস থেকে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম রাত ১০টায়, এমনিতে শীতকাল তারপর কটু বৃষ্টি হওয়াতে প্রচণ্ড ডান্ডা লাগতেছে। মতিঝিল শাপলা চত্বরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম বাসের জন্য কিন্তু বাস না পেয়ে রিক্সা ঠিক করলাম। রিক্সায় যখন উঠতে যাব তখন পিছন থেকে একটা টুকায় বলতেছে স্যার দুইডা টেহা দেন ভাত খামু।
.
আমি কিছু না বলে রিক্সায় উঠে বসলাম, এমনি দেখলাম রিক্সাওয়ালাকেও বলতেছে আমাকে ইত্তেফাকের মোড়ে নামাই দিবেন আমি রিক্সার পিছনে লটকি দিয়ে চলে যাব। পিছন থেকে আরেক রিক্সাওয়ালা বলতেছে তুই উপরে বসে যা, তোর টাকা লাগবে না। আমি যে রিক্সায় বসেছি সেই রিক্সাওয়ালা বলতেছে না তুই পিছনেই বস তোর ময়লা কাপড় থেকে ময়লা লাগবে স্যারের গায়ে। আমি টুকায়টাকে ডাক দিয়ে আমার পাশে বসালাম। তারপরঃ
.
কিরে তুই দুই টাকা চাইছিলি কেন?
ভাত খাইব
দুই টাকা দিয়ে কি ভাত খাওয়া যায়?
না স্যার ১০টেহা লাগে
কি কস ১০টাকায়ও ভাত পাওয়া যায়?
হ স্যার, যাত্রাবাড়িতে রাস্তার লগে বইসা ১০ টেহায় ভাত খামু।
তুই থাকিস কোথায়?
যাত্রাবাড়ী ফ্লাই ওভার ব্রিজের নিছে থাকি।
তোর মা বাপ নাই?
মা বাপ থাকলে কি আর ভিক্ষা কইরা খাইতাম!
অহ তাওত ঠিক, তবে তুই ঢাকায় আসলি কীভাবে?
আমাদের বাড়ি থাইক্কা টেইনের (ট্রেনের) পিছন দিয়া আইয়া ফরছি।
ভাল কথা,তুই এইভাবে ঢাকায় থাকিস ভিক্ষা না করে কোন কাজ করলেওত পারিস?
কেউ কাজ দেয় না
অহ, এত শীতে শুধু একটা কাপড় গায়ে রাইতে থাকিসযে শীত করে না?
শীত করলে কিতা করাম?
আচ্ছা তুই কি কোনদিন হিরাঝিল হোটেলে খেয়েছিস?
কিতা কন স্যার হেইডার নামও হুনি নাই।
তাইলে চল আজ তোই সেই হোটেলে আমার সাথে বসে ভাল ভাল খাবার খাবি।
আমার এত টেহা কইত্তে?
টাকার চিন্তা করিস না, আমি দেমু যা লাগে।
তাইলে আইয়েন হিদা লাগছে ভাত খামু।
.
রিক্সাওয়ালাকে আবার রিক্সা ঘুরিয়ে মতিঝিলে নিয়েগেলাম। সেইখানে তাকে সাথে নিয়ে ভাল খাবার খাওয়ালাম নিজেও খেলাম একসাথে। হোটেলটা যেহেতো একটু নামিদামী তাই সেইখানে সব বড় লোকের সাওয়ালরাই আসা যাওয়া করে। টুকাইকে সাথে নিয়ে খেতে বসতে মানা করতেছে হোটেলের এক কমর্চারী। বলতেছে স্যার আপনি তাকে যাকিছুই খাওয়ান কিনে দিয়ে দিন সে রাস্তার পাশে বসেই খাবে। এই কথা শুনে মেজাজটা এতই খারাপ হয়েছিল তখন কন্ট্রোল রাখতে পারলাম না। তাই রেগে গিয়ে বললাম এই বেটা সে টুকাই বলে কি তোর হোটেলে স্যারদের আশেপাশে বসে খেলে কারও ইজ্জত চলে যাবে নাকি? আমি উত্তেজিত হয়েগেছি দেখে পাশের এক ভদ্রলোক বলল এই মিয়া আমরাত কিছুই মনে করছিনা সে তাকে সাথে নিয়েই খাবে। আর তোমরা সবাই সাহেবগীরি না করে এই শীতে গরিব লোকদের কিছুটা হেল্প কর তাহলেই উনার মতো উদার মনের মানুষেরা এক টেবিলে বসে নিজেদের খাবার গরিবদের বন্টন করে দিতে হবে না।
.
যাইহোক ওখান থেকে খাবার শেষ করে, রাজধানী মার্কেটের পাশ থেকে একটা কাপড় দুকান থেকে ৪০০ টাকা দিয়ে একটা কম্বল কিনে দিলাম যাতে পিচ্ছিটা অন্তত কিছুটা হলেও শীতকে কভার করতে পারে।
.
আপনি আমি এত শীতের রাতে কম্বল গায়ে জড়িয়ে আরামে রাত কাটায় কিন্তু আমাদের আশেপাশের গরিব মানুষগুলো সামান্য টাকার জন্য শীতের রাতে ঘুমাতে অনেক কষ্ট করতে হয়। আর যারা রাস্তার মানুষ তাদের কথা আর কি বলব। ঝড় তুফান সবি তাদেরকে রাস্তায় মুকাবেলা করতে হয়। যাদের আল্লাহ অনেক টাকা পয়সা দিয়েছে তারা সামান্য একটু চেষ্টা করলেই হয়ত শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন। আপনারা যে যার মতো পারেন গরিবদেরকে হেল্প করার চেষ্টা করেন। আমাদের দেশে যেই হারে বড় লোক দেখা যায় তারা যদি সামান্য টাকাও এই গরিবদের পিছনে খরচ করতে তাহলে দেশে দারিদ্রতার হার অনেকটাই কমে যেত। আর জাতী পেত একটা দারিদ্র মুক্ত দেশ।
অবশেষে একটা আফসুস রয়েই গেল, আল্লাহ আমাকে বিশাল একটা মন দিছে কিন্তু দনসম্পদ দেয়নি।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:২৯
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি শোক সংবাদ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:০৯



পেটের দায়ে সপরিবার নীলফামারি থেকে কুমিল্লা শহরে এসে,
ব্যাটারি চালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন মোঃ শরিফুল ইসলাম;
তিনি এখন মরহুম! স্ত্রী ও ২ কন্যা নিয়ে ছিলেন কোনোরকমে বেঁচেবর্তে।

গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব বিষয়ক ভাবনা

লিখেছেন করুণাধারা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩



সংখ্যাওয়ালা কোনো লেখা দেখলে হিসাব ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা আমার অভ্যাস। ইদানিং বিভিন্ন রকম সংখ্যাওয়ালা কিছু বিজ্ঞাপন সামনে আসছে, এগুলো ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনে যেসব সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুনাফেকি নাকি Diplomatic situationship?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০


গত শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উদযাপিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×