
✍
লেখার শুরুতেই মাথায় রাখার জন্য অনুরোধ করছি যে, একজন সমালোচক(Critic) দেশদ্রোহী নয়। আমার মতে, তারা দেশকে নিয়ে বরং অন্যদের তুলনায় দুই-এক ইঞ্চি বেশি ভাবেন এবং দেশকে দুই-এক ইঞ্চি বেশি ভালবাসেন। তাই রাষ্ট্রযন্ত্রের কোন সিস্টেমে শ্যাওলা পড়লে তারা সেটা নিয়ে লিখে থাকেন বা বলে থাকেন।
Herd Immunity & Android Boot Log
বুদ্ধিজীবী কে? একেক জনের সংজ্ঞায় এটা একেক রকম হতে পারে। বাংলাদেশের কনসেপ্টে বুদ্ধিজীবী হলো, যিনি বা যে ব্যক্তি বুদ্ধি বৃত্তিক চর্চা করেন এবং এটা করে জীবিকা নির্বাহ করা সম্ভব নয় তাকে বুদ্ধিজীবী বলে। যখন আপনি বুদ্ধিজীবী বলছেন কাউকে এবং তার কোন কথা বা লেখার বিরুদ্ধে লিখছেন তখন আপনিও সেই বুদ্ধিজীবীদের সংজ্ঞায় পড়ে যাচ্ছেন। অন্তত কোন বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য হলেও সামান্যতম জ্ঞান ভিত্তিক চর্চা আপনাকেও করতে হচ্ছে।
একদিন আমি আমার এক বন্ধুকে(জয় কে) বললাম, "আচ্ছা, বন্ধু এই স্মার্টফোনের বুটলগ আবার কি!"
আমি সাহিত্যের ছাত্র, স্মার্টফোন হাতে থাকলেও অনেক কিছুই অজানা আমার। সে সংক্ষেপে আমাকে বুঝানোর উদ্দেশ্যে বললো, "এটা এমন এক ধরণের সমস্যা যা তোমার পুরো ফোনটাকে বিপদে ফেলে দিবে। কোন আপ্লিকেশন তুমি ভাল করে চালাতে পারবে না। নতুন আপ্লিকেশন নিলে মরি-বাঁচি অবস্থা হবে। উপর্যুপরি ফোনটা বুটলুপে চলে যেতে পারে। চালু হবে আবার বন্ধ হবে, আবার চালু হবে, ফোনে চার্জ থাকবেনা। মানে সোজা বাংলায় আমাদের এলাকায় ওটাকে বলে 'ভাঙ্গারি'(যার অর্থ স্রেফ কাঠামো ফোন বা বাচ্চাদের টুং টাং ফোন)"।
মুশকিলের ব্যাপার হলো, এত রেটোরিকস্ দিয়ে তো রাষ্ট্রের তো দূর, আত্মসমালোচনাও করা যায় না। সাইবার ক্রাইম/আই.সি.টির সংশোধিত আইনগুলো আমাদের সেটা করতেই অনেকটা বাধ্য করছে। এটিএন বাংলায় কে গান করবে সে সম্পর্কে মন্তব্য জানাতে পারবো না(জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি)। "অ্যাই আম *** ভিডিও" - নিয়ে কোন কটুক্তি করা যাবে না(বিশেষ ব্যক্তিকে কটাক্ষ)। অনন্ত জলিল সাহেবের "নিঃস্বার্থ ভালবাসা" এত নিঃস্বার্থ কেন? অভিনয় কোথায়? সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। তিনি একজন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলে অনেকেই মনে করেন। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় থাকার উদ্দেশ্য ঠিক সফল হলো না, মানে দরকার পড়ছে না। উল্টো নিউম্যানের "আইডিয়া অব এ্য ইউনিভার্সিটি" পড়ে কোন লাভ নেই, আপনাকে বুদ্ধিজীবী বলে গালি দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি বা সমালোচনা করা যাবে না, অথচ এটা গণতান্ত্রিক দেশ। প্রধানমন্ত্রী তো দূর মন্ত্রীগোষ্ঠীর কাউকে নিয়ে মন্তব্য করলে বাপের নাম খগিন হয়ে যাবে। মানে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে প্রশ্ন করা বন্ধ করে দিন, এবং চুপচাপ যা হচ্ছে মেনে নিন। অথচ আপনি স্বাধীন দেশের বলিষ্ঠ নাগরিক, আপনার কাজ হলো নিয়মিত কর, ট্যাক্স ও ভ্যাটগুলো জমা দেয়া। সোজা বাংলায়, সমালোচনা বা প্রশ্নের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
আপনি নিশ্চয় জানেন, বাংলাদেশে এখনো তিন কোটিরও অধিক মানুষ তিনবেলা ঠিকঠাক খাবার পায় না। পায়ের নিচে মাটি নেই, মাথার উপর ছাদ নেই। এখন এদের "Herd Immunity" কোত্থেকে জন্ম নিবে? হাওয়া থেকে? তবুও সে হাওয়া যদি বিশুদ্ধ হত! ঢাকার বাতাস বিশ্বে দূষণে এক নম্বরে অবস্থান করছে।
গণতান্ত্রিক চিন্তা আমার মতে খারাপ নয়, কিন্তু সেটার পরিচর্যায় দরকার আছে বলে মনে করি। কিন্তু পরিচর্যাতে জল ঢালা হলো প্রশ্ন করা বন্ধ করে দিয়ে, তাই নয় কি!
ইউরোপীয়ান দেশগুলোতে এত মানুষের মৃত্যুর মিছিলে একবারও মনে হয়নি, ওরা খায় কি? থাকে কোথায়? আর ওদের "Immunity" কোন পর্যায়ের?
উড়িয়ে দিলে চলবে না, ব্যাপারটা ভীতিকর। তবুও তারা কিন্তু টিকতে পারছে না এই করোনা মহামারীতে। আর আমরা তো দিন এনে দিন খাই, আমাদের "Herd Immunity" এর উপর ভরসা করতে হবে! বাহ্!
একটা হাস্যকর কথা মনে পড়লো, "বাংলায় অস্কার থেকে নোবেল আছে কিন্তু একজন বস্কার কোন গেমে স্বর্ণপদক এনে দিতে আজ পর্যন্ত পারলো না ! অন্তত আমার কাছে সেই তথ্য নেই।
যে দেশের অধিকাংশ লোক দিয়ে গার্মেন্টসে নাম মাত্র বেতনে কামলা খাটিয়ে নেওয়া হয়, বিদেশে এদেশের প্রচুর পরিমানে অশিক্ষিত লোক পাড়ি জমাচ্ছেন লাখ লাখ টাকা দিয়ে তারপর সেখানে গিয়েও কামলা দিচ্ছেন বা রিস্কি কাজ করে পরিবার কে বাঁচিয়ে দেশকে রেমিট্যান্স দিচ্ছেন(তাহলে দেশে কাজ পাচ্ছেন না, মানে কর্মসংস্থান অন্তত এদেশে ওদের জন্য নেই, এর জন্য রাষ্ট্রযন্ত্র দায়ী নয় কি? না কি এটা নিয়েও তর্ক করার কিছু আছে?), কৃষকদের অবস্থা সবারই জানা। জীবন দিয়ে উৎপাদন করা শস্যের(ধান) দাম গতবার ৫০০টাকা বা তারও কোম টাকা মণ করে বিক্রি হলো। মনে আছে আমাদের? নেই, থাকলে এই " Herd Immunity" - শব্দটা আসতো না।
অধিক উঁচু পরিবারের ছেলেরা আজ আর দেশের মাটিতে থাকেন না, কেন? দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন না কেন? বিভিন্ন দেশে গড়ে উঠে বাংলাদেশের বিভিন্ন পল্লী/এলাকা/অঞ্চল এদেশের এই পরিশ্রমের টাকা দিয়ে। করোনাকালে ইতালিও এক ভদ্রলোক এয়ারপোর্টে যা বলেছেন, খারাপ কি বলেছেন! তাই তো!
এখন সারা অঙ্গে ব্যাথা, ঔষুধ দিবো কোথা! ফেসবুকীয় বা ইউটিউব ভিত্তিক বুদ্ধিজীবীরা দেশ চালায় না। বরং কোন আইন বা কোন অপরাধ কেন হলো তার একটা সঠিক বিচার ও সুরাহা চান। আর যেটা স্পটলাইটে আসে সেটার বিচার হয়, অনেকক্ষেত্রে কতখানি হয় তাও আমরা জানি(সাগর-রুনি হত্যা কান্ডের সেই ২৪ঘন্টা আর শেষ হলো না, বরঞ্চ মামলা উঠে গেলো)।
যখন, এত "Herd Immunity" নিয়ে মাথা ব্যাথা তখন এটা আবার বাদ যাবে কেন?
Definition of Herd Immunity: Herd immunity is achieved when the majority of population becomes immune to an infectious disease, either because they have become infected and recovered, or through vaccination.
Source: Economic Times
যারা ইংরেজি বুঝেন না: এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তখন-ই অর্জন করা সম্ভব যখন একটা দেশের অধিকাংশ মানুষ এই ভাইরাসের এন্টিবডি নিজের দেহে গঠন করে নিবে নিজে থেকে, বা ভাক্সিন নিয়ে।
তাহলে তিন কোটিরও বেশি মানুষের পক্ষে সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকা প্রায় অসম্ভব। সুতরাং এটার দ্রুতি, বেগ, সরণ, ত্বরণ বাসায় বসে হোমওয়ার্ক করুন এখন।
আরো একটা কথা, মন্তব্য করা সহজ নয়। কারণ মন্তব্য করতে গেলেও প্রচুর পড়াশোনা করতে হয় সেই বিষয়ে। ফেসবুকে কিছু বুদ্ধিজীবী কি-বোর্ড ধরেছে বলে বা আন্দোলন করেছে দেখে সিদ্ধান্ত নিবেন? না কি রাষ্ট্র যন্ত্রের স্বতন্ত্র কোন ক্রিয়াকৌশল থাকবে? কারণ স্বতন্ত্র ক্রিয়াকৌশল নিয়ে সমালোচনা করা যায় বা করা উচিত, এতে করে সেই কৌশল আরো তীক্ষ্ণ ও সুক্ষ্ম হবে। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকার জিরো টলারেন্স দেখালে মুখ বন্ধ, কলম বন্ধ, এবং সিন্থেসিস কিছুই সম্ভব হবে নয়। সোশ্যাল মিডিয়া/ব্লগ/ইউটিউব স্রেফ কিছু আইডিয়া দিয়ে থাকে, দেশ চালায় না। তাই রাষ্ট্রযন্ত্রের উচিত নিজস্ব ক্রিয়াকৌশল নেয়া, টিভি পর্দায় ভাট বকা নয়। তাদের দায়িত্বের মধ্যে স্বচ্ছতা থাকা দরকার।
বামপন্থী দলগুলো সুবিধে করতে পারেনি এদেশে, আমার জীবনকালেও পারবে বলে মনে হয় না। তার বিশেষ কারণ বাম নেতাদের হোমওয়ার্ক জাতের নয় বা বাংলাদেশের কনসেপ্টের নয়। ধার করা ডোমিনেটেড আইডিয়াগুলো নিয়ে একটা সিন্থেসিস তারাও করতে পারতেন। কিন্তু পুঁজিবাদী সমাজের চর্চা এত নোংরা কেন ভেবে লজ্জা লাগে, শেষ খবর দেখে আমি রীতিমতন চমকে উঠেছি,
" উন্নত মানের পি.পি.ই দেবার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র"।
- ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন
সবাই সুস্থ থাকুন, সেই কামনায়।
ধন্যবাদ
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০২০ বিকাল ৪:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


