somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মি. বিকেল
আমি মেহেদি হাসান, মি. বিকেল নামে পরিচিত। আমি একজন লেখক, অভিনেতা, সমাজকর্মী, রেডিও জকি, ওয়েব ও অ্যাপ ডেভেলপার, সম্পাদক, উপস্থাপক, রক্তদাতা, এবং নাট্য পরিচালক। মাইক্রোসফটে ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত এবং গল্প বলা আমার প্রধান পরিচয়।

বাংলা ওয়েব সিরিজ : মহানগর ও মোশাররফ করিমের দুর্দান্ত অভিনয়

২৮ শে জুন, ২০২১ রাত ১১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংলা সিরিজ : মহানগর (২০২১ - বর্তমান)
পরিচালনায় : আশফাক নিপুন
স্ক্রিপ্ট ও স্ক্রিনপ্লে : আশফাক নিপুন
ধরণ : থ্রিলার/ক্রাইম থ্রিলার
অফিসিয়াল সাইট : হইচই (Hoichoi)
দেশ : ভারত ও বাংলাদেশ
ভাষা : বাংলা
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২১ (ভারত)
রেটিং : ৮.৮/১০ IMDB
সিরিজের ট্রেইলার দেখুন এখানে(ক্লিক করুন)




আজ কথা বলতে যাচ্ছি, ভারতীয় ওটিটি প্লাটফর্ম "হইচই" -এ মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশের বিখ্যাত একজন অভিনেতা মোশাররফ করিম অভিনীত "মহানগর" সিরিজ নিয়ে। এই সিরিজটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের পরিচালক আশফাক নিপুন। একই সাথে তিনি স্ক্রিপ্টিং ও স্ক্রিনপ্লেও করেছেন। অনেক থ্রিলিং এবং তাকদীর এর পর আরেকটি দেখার মত বাংলা ওয়েব সিরিজ।

দারুচিনি দ্বীপ - হুমায়ুন আহমেদ স্যার পরিচালিত এই সিনেমায় মোশাররফ করিমের মত গুনী অভিনেতার সাথে আমার প্রথম পরিচয়। তারপর থেকে একের পর এক বাংলা নাটক আমাদের উপহার দিয়েছেন। কখনো কখনো তিনি আলোচনায় এসেছেন আবার কখনো কখনো তিনি সমালোচনাতেও পড়েছেন।

তিনি ক্রমাগত মূল অভিনয় থেকে ছিটকে পড়ছিলেন বলে বাংলাদেশের দর্শকদের বিশ্বাস হওয়া আরম্ভ হয়। কিন্তু এবার সত্যিই হইচই -এ বেশ হইচই ফেলে দিয়েছেন মোশারররফ করিম তার কারিশমাটিক অভিনয় দিয়ে। এই সিরিজটি মোট ৮টি এপিসোডে নির্মিত হয়েছে এবং চিত্র ধারণ করা হয়েছে ঢাকা ও কলকাতায়।

গল্পটির খুব বেশি সাব-প্লট নেই। মূলত একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর ছেলের কার এক্সিডেন্ট নিয়ে গল্পটির যাত্রা শুরু হয়। তারপর ব্যাক টু ব্যাক থ্রিলিং মোমেন্ট কাটে ঢাকার কোতোয়ালি থানায়। মোশাররফ করিম এখানে ওসি হিসেবে দায়িত্বে আছেন। "হিট এন্ড র‍্যান" - কেস হয়ে যেতে পারতো এই সহজ গল্পটি। আর ছাড় পেয়ে যেতেন প্রভাবশালী ব্যবসায়িক এর আলালের ঘরের দুলাল। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত এত পেঁচানো যে, মুগ্ধ করেছে আমাকে।

মলয় কুমার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। তিনি তার অভিনয় দক্ষতা দিয়ে সহজেই দর্শকদের মন কাড়বেন। বাংলাদেশের আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারি মম এসে আবার ভিন্ন মাত্রা দিয়েছেন এই গল্পটিকে। মন্দের ভালো তত্ত্ব দিয়ে গল্পটি বর্ণনা করা হয়েছে এবং অনেক বেশি এঙ্গেজিং। প্রথমে মনে হবে, গল্পটির ভিলেন কে? থানার ওসি হারুন? না কি ব্যবসায়িক নেতার ছেলে?

ঢাকাইয়া ভাষার নিখুঁত ব্যবহার করা হয়েছে সংলাপে। দুই এক জায়গায় একটু এদিক-ওদিক হলেও অন্যায় হয়নি খুব একটা। মহানগর এমন একটি স্থান, যেখানে সবাই জানে, এখানে কি হয়? বা কি হতে চলেছে? সবকিছু প্রেডিক্টবল ধরে নেওয়া। কিন্তু ওসি সাহেবের বারবার বলা তার দুটি বিশেষ কথা শুনতে ভালো লাগলেও এক সময় ভাড় ঠেকেছে।

এর মধ্যে একটা হলো, "ক্রিমিন্যাল আর টাকা, যদি থাকে নসীবে; আপনা-আপনি আসিবে"। কিন্তু যদি শেষের সংলাপের দিকে লক্ষ্য করা যায় তাহলে মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়। নাম-পরিচয়হীন লাশের সামনে একজন মহিলার মায়া কান্না। সকাল অবধি কেসটা ধরে রাখা। উপর মহল থেকে চাপ। বিনয়-নম্রতার সাথে কড়া এক ডায়ালগ, "কত লাশ ফেলে আমি এখানে এসেছি জানো? মলয়?"

হইচই - এক পর এক এই ধরণের ব্যতিক্রমধর্মী কাজ আমাদের উপহার দিয়ে চলেছে।

"মলয়, আমি জানি এই খবরটা তুমি দিয়েছো। সেই স্কুলের Honesty is the best policy - থেকে এখনো বের হতে পারোনি। এখানে সোজা আঙুলে কিছু হয় না। এই সিস্টেমের কোণায় কোণায় ভূত।"

এটা শোনার পর চোখে জল এলে এসেছিলো। পাশপাশি কিছু জিনিস সহজ হয়ে যাচ্ছে, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবন তেমন একটা অর্থ রাখে না। আবার মোরাল পুলিসিং প্রথমে তুঙ্গে মনে হয়েছিলো কিন্তু পরে ন্যায় করা হয়। নিজ থানায় ওসি চড় খাচ্ছেন একজন বাচ্চা ছেলের কাছে, ব্যাপারটা ভয়াবহ লেগেছে। আবার তারকা শিল্পীদের সাথে ব্যবসায়িকদের সম্পর্ক টাকার বা সম্পদের আনুপাতিক।

সাংবাদিকদের বলা কথা, আরেহ্, কিচ্ছু হবে না। টাকা খেয়ে ছেড়ে দিবে। কিন্তু পুরো রাত একটা থানায় কাটানো এবং সেখানেই পুরো সিরিজ তুলে আনা নিশ্চয় সহজ ছিলো না। রুমানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিশাত। আসলেই তো তাই, এমন প্রেমিকা থাকার চেয়ে খুনের দায় নেয়া ভালো যেটা এই গল্পের সহকারী অভিনেতা বুঝিয়েছেন। যিনি খুব একা, আমি এই লোকটার প্রতি করুণা দেখাতে চাই।

আর শ্যামল মওলা, বর্তমান বাংলা অভিনেতাদের মধ্যে এরকম দুই একজন আছেন। আলালের ঘরের দুলাল অভিনয়ে যথার্থ করেছেন, স্যালুট!

উনাকে নিয়ে আরো বিশেষণ যুক্ত করার আগে দেরি না করে নিজেই দেখে নিন। উনার কথা বলার স্টাইল, আচরণে একরোখা এবং কার্ড খেলায় গরম মাথা। পাশপাশি অন্যর গার্লফ্রেন্ডকে প্রোভোক করা, শেষমেশ ধর্ষণ! এসব আছে তো? জানতে হলে দেখতে হবে।


সিরিজটির প্রথম সেশন এই পর্যন্তই ছিলো। ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০২১ রাত ১১:৫৩
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×