
বাংলা সিরিজ : মহানগর (২০২১ - বর্তমান)
পরিচালনায় : আশফাক নিপুন
স্ক্রিপ্ট ও স্ক্রিনপ্লে : আশফাক নিপুন
ধরণ : থ্রিলার/ক্রাইম থ্রিলার
অফিসিয়াল সাইট : হইচই (Hoichoi)
দেশ : ভারত ও বাংলাদেশ
ভাষা : বাংলা
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২১ (ভারত)
রেটিং : ৮.৮/১০ IMDB
সিরিজের ট্রেইলার দেখুন এখানে(ক্লিক করুন)
আজ কথা বলতে যাচ্ছি, ভারতীয় ওটিটি প্লাটফর্ম "হইচই" -এ মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশের বিখ্যাত একজন অভিনেতা মোশাররফ করিম অভিনীত "মহানগর" সিরিজ নিয়ে। এই সিরিজটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের পরিচালক আশফাক নিপুন। একই সাথে তিনি স্ক্রিপ্টিং ও স্ক্রিনপ্লেও করেছেন। অনেক থ্রিলিং এবং তাকদীর এর পর আরেকটি দেখার মত বাংলা ওয়েব সিরিজ।
দারুচিনি দ্বীপ - হুমায়ুন আহমেদ স্যার পরিচালিত এই সিনেমায় মোশাররফ করিমের মত গুনী অভিনেতার সাথে আমার প্রথম পরিচয়। তারপর থেকে একের পর এক বাংলা নাটক আমাদের উপহার দিয়েছেন। কখনো কখনো তিনি আলোচনায় এসেছেন আবার কখনো কখনো তিনি সমালোচনাতেও পড়েছেন।
তিনি ক্রমাগত মূল অভিনয় থেকে ছিটকে পড়ছিলেন বলে বাংলাদেশের দর্শকদের বিশ্বাস হওয়া আরম্ভ হয়। কিন্তু এবার সত্যিই হইচই -এ বেশ হইচই ফেলে দিয়েছেন মোশারররফ করিম তার কারিশমাটিক অভিনয় দিয়ে। এই সিরিজটি মোট ৮টি এপিসোডে নির্মিত হয়েছে এবং চিত্র ধারণ করা হয়েছে ঢাকা ও কলকাতায়।
গল্পটির খুব বেশি সাব-প্লট নেই। মূলত একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর ছেলের কার এক্সিডেন্ট নিয়ে গল্পটির যাত্রা শুরু হয়। তারপর ব্যাক টু ব্যাক থ্রিলিং মোমেন্ট কাটে ঢাকার কোতোয়ালি থানায়। মোশাররফ করিম এখানে ওসি হিসেবে দায়িত্বে আছেন। "হিট এন্ড র্যান" - কেস হয়ে যেতে পারতো এই সহজ গল্পটি। আর ছাড় পেয়ে যেতেন প্রভাবশালী ব্যবসায়িক এর আলালের ঘরের দুলাল। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত এত পেঁচানো যে, মুগ্ধ করেছে আমাকে।
মলয় কুমার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। তিনি তার অভিনয় দক্ষতা দিয়ে সহজেই দর্শকদের মন কাড়বেন। বাংলাদেশের আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারি মম এসে আবার ভিন্ন মাত্রা দিয়েছেন এই গল্পটিকে। মন্দের ভালো তত্ত্ব দিয়ে গল্পটি বর্ণনা করা হয়েছে এবং অনেক বেশি এঙ্গেজিং। প্রথমে মনে হবে, গল্পটির ভিলেন কে? থানার ওসি হারুন? না কি ব্যবসায়িক নেতার ছেলে?
ঢাকাইয়া ভাষার নিখুঁত ব্যবহার করা হয়েছে সংলাপে। দুই এক জায়গায় একটু এদিক-ওদিক হলেও অন্যায় হয়নি খুব একটা। মহানগর এমন একটি স্থান, যেখানে সবাই জানে, এখানে কি হয়? বা কি হতে চলেছে? সবকিছু প্রেডিক্টবল ধরে নেওয়া। কিন্তু ওসি সাহেবের বারবার বলা তার দুটি বিশেষ কথা শুনতে ভালো লাগলেও এক সময় ভাড় ঠেকেছে।
এর মধ্যে একটা হলো, "ক্রিমিন্যাল আর টাকা, যদি থাকে নসীবে; আপনা-আপনি আসিবে"। কিন্তু যদি শেষের সংলাপের দিকে লক্ষ্য করা যায় তাহলে মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়। নাম-পরিচয়হীন লাশের সামনে একজন মহিলার মায়া কান্না। সকাল অবধি কেসটা ধরে রাখা। উপর মহল থেকে চাপ। বিনয়-নম্রতার সাথে কড়া এক ডায়ালগ, "কত লাশ ফেলে আমি এখানে এসেছি জানো? মলয়?"
হইচই - এক পর এক এই ধরণের ব্যতিক্রমধর্মী কাজ আমাদের উপহার দিয়ে চলেছে।
"মলয়, আমি জানি এই খবরটা তুমি দিয়েছো। সেই স্কুলের Honesty is the best policy - থেকে এখনো বের হতে পারোনি। এখানে সোজা আঙুলে কিছু হয় না। এই সিস্টেমের কোণায় কোণায় ভূত।"
এটা শোনার পর চোখে জল এলে এসেছিলো। পাশপাশি কিছু জিনিস সহজ হয়ে যাচ্ছে, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবন তেমন একটা অর্থ রাখে না। আবার মোরাল পুলিসিং প্রথমে তুঙ্গে মনে হয়েছিলো কিন্তু পরে ন্যায় করা হয়। নিজ থানায় ওসি চড় খাচ্ছেন একজন বাচ্চা ছেলের কাছে, ব্যাপারটা ভয়াবহ লেগেছে। আবার তারকা শিল্পীদের সাথে ব্যবসায়িকদের সম্পর্ক টাকার বা সম্পদের আনুপাতিক।
সাংবাদিকদের বলা কথা, আরেহ্, কিচ্ছু হবে না। টাকা খেয়ে ছেড়ে দিবে। কিন্তু পুরো রাত একটা থানায় কাটানো এবং সেখানেই পুরো সিরিজ তুলে আনা নিশ্চয় সহজ ছিলো না। রুমানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিশাত। আসলেই তো তাই, এমন প্রেমিকা থাকার চেয়ে খুনের দায় নেয়া ভালো যেটা এই গল্পের সহকারী অভিনেতা বুঝিয়েছেন। যিনি খুব একা, আমি এই লোকটার প্রতি করুণা দেখাতে চাই।
আর শ্যামল মওলা, বর্তমান বাংলা অভিনেতাদের মধ্যে এরকম দুই একজন আছেন। আলালের ঘরের দুলাল অভিনয়ে যথার্থ করেছেন, স্যালুট!
উনাকে নিয়ে আরো বিশেষণ যুক্ত করার আগে দেরি না করে নিজেই দেখে নিন। উনার কথা বলার স্টাইল, আচরণে একরোখা এবং কার্ড খেলায় গরম মাথা। পাশপাশি অন্যর গার্লফ্রেন্ডকে প্রোভোক করা, শেষমেশ ধর্ষণ! এসব আছে তো? জানতে হলে দেখতে হবে।
সিরিজটির প্রথম সেশন এই পর্যন্তই ছিলো। ধন্যবাদ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


