somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডকুমেন্টারি ফিল্ম মানেই ওয়াইল্ড শ্যুটিং না

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশের তরুণরা সৃজনশীল কাজ হিসেবে প্রথম যে কর্মটি করেন সেটি হল কবিতা। তাদের অনেকেই বিরাট কবি, সন্দেহ নাই। কিন্তু অচিরেই বেশির ভাগেরই কবিতার লেখার ইতি ঘটে। নানা কারণে। কেউ কেউ টিকেও থাকেন, কেউ কবিতার জোরে। কেউ গায়ের জোরে।

আমাদের দেশের তরুণ ফিল্মমেকাররা তাদের প্রথম ছবি হিসেবে বানান ডকুমেন্টারি। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য (ফিকশনের মতো) কোনো প্রস্তুতি নিতে হয় না, স্ক্রিপ্ট লাগে না, স্ক্রিন প্লে লাগে না (অনেকেই তাই মনে করেন)। ক্যামেরা একটা বগলদাবা করে বের হয়ে গেলেই হল। জায়গা মতো গিয়ে ক্যামেরা খুলে ইচ্ছামতো ঘুরালে আর মানুষজনের সাক্ষাৎকার নিলেই মুটামুটি কর্মটি সারা হয়ে যায়। এরপর বাকী থাকে সম্পাদনা, যেখানে টাইটেল আর মিউজিক বসানো ছাড়া অন্য কাজ খুব কমই করা হয়।

সাক্ষাৎকার সম্পাদনার সময় কথার মাঝখানের কাটা ভরাট করার জন্য ইনসার্ট ঢোকানো হয়। সেই ইনসার্টের কোনো অর্থ থাকে না। কেবলই কাটা ভরার দরকারে তা সম্পন্ন হয়।

দ্বিতীয় কারণটা হল, আনকমন একটা বিষয় নিয়ে ডকুমেন্টারি দেখাতে পারলে নিজেকে তাদের কলম্বাস কলম্বাস লাগে। তারা এমনও বলে বসে যে অমুক গ্রামটা, তমুক চরটা আমরা 'আবিষ্কার' করেছি।

ডকুমেন্টারির দোষত্রুটির কথা বলতে গেলে তারা মুখস্ত জবাব দিয়ে জানান যে যথেষ্ট বাজেট ছিল না, বাজেট থাকলে হাতী-ঘোড়া মেরে দেখাতাম। কোন শটের ত্রুটির কথা তুলতে গেলে বলেন, এটি চলচ্চিত্রের নতুন গ্রামার। তারা গ্রামার ভাঙছেন। তারা সাবেকী ব্যাকরণ মানেন না। কেউ কেউ এক কাঠি বেড়ে বলেন, ওসব গ্রামার পুঁজিবাদী। ওসব মানতেই হবে, এই মনোভাব হচ্ছে ঔপনিবেশিক মনোভাব, পরাধীন মনোভাব।

কিন্তু তারা জানেন না চলচ্চিত্রের একটা বিশেষ ভাষা আছে। একটা রিয়েল জিনিসকে ক্যামেরায় ধারণ করলে তা আর রিয়েল থাকে না। ফ্লাট হয়ে যায়। চলচ্চিত্রের ভেতরকার বাস্তবতা হচ্ছে ভারচুয়াল বাস্তবতা, সেটা তৈরি করতে হয়, কেবল ধারণ করে সেটা তৈরি করা যায় না। এই ভারচুয়াল বাস্তবতা তৈরি করতে হয় মূলত সম্পাদনার মাধ্যমে। কখনও কখনও স্পেশাল এফেক্টের মাধ্যমে, শব্দ বা আবহ সঙ্গীতের মাধ্যমে। সম্পাদনার কথা মাথায় রেখে, সে অনুযায়ী দৃশ্য ধারণ করার মাধ্যমেই তার ভিত্তিভূমি প্রস্তুত করতে হয়। সেই বাস্তবতা বা রিয়েলিটি তৈরি করার জন্য কখনও কখনও (এমনকি প্রায়শই) মিথ্যা বা সাজানো দৃশ্যও ধারণ করতে হয়। তবেই সেই বাস্তবতা ফুটে ওঠে।

আর এটা করতে গেলে সেই জায়গার অন্ধি অন্ধি চিনতে হয়। সেখানে ছয়মাস-একবছর আগে কাটাতে হয়। তাহলে সেখানকার বাস্তবতাটাকে কিভাবে ভারচুয়াল বাস্তবতায় রূপান্তর করা যায় সেটা বোঝা যায়।

ধরা যাক একটা বাস ও রিক্সার অ্যাক্সিডেন্টের কথা। অ্যাক্সিডেন্ট ঘটতে বাস্তবে সময় লাগে এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশ। কিন্তু সেই অ্যাক্সিডেন্ট চিত্রায়িত করতে হলে, প্রতিটি ডিটেল দেখাতে হলে সেটার দৈর্ঘ্য দশ সেকেন্ডেরও বেশি হতে পারে। বাসের দ্রুতগতিতে আসা, রিক্সাওয়ালার সময়মতো সরতে না পারা, যাত্রীদের চেহারায় শংকা, বাসের ড্রাইভারের শেষ মুহূর্তে দুর্ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা এই সবকিছুর পরিস্ফূটন করা হলে দেখা যাবে তার দৈর্ঘ্য অনেক বেশি। এখানেই বাস্তবতা আর ভারচুয়াল বাস্তবতার পার্থক্য। ভারচুয়াল বাস্তবতায় টাইম আর স্পেসের মাত্রা অন্যরকম।

এই ভিন্ন ল্যাংগুয়েজ না শেখা পর্যন্ত চলচ্চিত্র বানানোর চেষ্টা কামারের অলংকার বানানোর মতো। সেখানে শ্রেণীচৈতন্যের বিলোপ থাকতে পারে, কিন্তু আর্ট নয়।
২৯টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেড ইন বাংলাদেশ ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২২


দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা আমাদের দেশে ঋতুভেদে বদলায়। তবে ২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এক নতুন ধরনের সিজনাল দেশপ্রেম দেখলাম। একে বলা যেতে পারে "রিটার্ন টিকিট দেশপ্রেম"। যারা দেশে বিদেশে আরাম-আয়েশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×