somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অ্যাস্ট্রো-নটি (Astro-Naughty)

১২ ই মে, ২০০৯ রাত ১২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১১ জুলাই। চাঁদের মাটিতে পড়ল মানুষের প্রথম পদচিহ্ন। অ্যাপলো-১১ এর খণ্ডিত অংশ চন্দ্রতরী ঈগল নেমে এলো চাঁদের মাটিতে। খানিকটা দ্বিধা আর অভূতপূর্ব অবাক চাহনী নিয়ে চাঁদে নেমে এলেন নীল আর্মস্ট্রং। তিনি সেখানে হাঁটলেন। হাঁটার চেষ্টা করলেন বলাই ভাল। ছবি তুললেন। মার্কিনীদের পতাকা উড়িয়ে দিলেন। কিছু স্পেসিমেন সংগ্রহ করলেন।

আওড়ালেন তার সেই বিখ্যাত উক্তি, 'এ স্মল স্টেপ অফ এ ম্যান অন দ্য মুন গিভস এ বিগ লিপ টু দ্য ম্যানকাইন্ড।'

কয়েক কোটি পৃথিবীবাসী অবলোকন করছিল তার এই পদচারণা, কর্মকান্ড আর কথাগুলো। পৃথিবীবাসী তখন লাইভ দেখতে পায়নি। লাইভ দেখতে পাচ্ছিল কেবল নাসাতে তার সহকর্মীরা।

ঘুরে চলে তারপর হঠাৎ কী মনে পড়তে সামান্য মুচকি হাসলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মুচকি হাসিটা আরও বিস্তৃত হল। আর তিনি বিড় বিড় করে আওড়ালেন, 'গুড লাক মি. গোরস্কি।'

নাসাতে তার সহকর্মীদের মধ্যে রীতিমতো হৈ চৈ পড়ে গেল। এ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন চালান করে দিল নিরবে, কে এই মি. গোরস্কি? কিন্তু কেউ তার কোনও জবাব দিল না। মুহূর্তে ডাটা বেসে টাইপ হতে লাগল, মি. গোরস্কি। ধরেই নেয়া হয়েছিল, মি. গোরস্কি নিশ্চয়ই আর্মস্ট্রংয়ের কোনও রাশান প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন। নাম তো তাই বলে।

কিন্তু ডাটা বেস সন্তোষজনক কোনও তথ্য দিল না। আরও খোঁজা হতে লাগল। বিফল। অতপর অপেক্ষা নীল আর্মস্ট্রং-এর প্রত্যাবর্তনের। তার মুখ থেকেই শোনা যাবে, ব্যাপারটা কী? এ তো শেখানো পড়ানো কথা নয়? তাহলে?

নীল আর্মস্ট্রং এলেন। সাংবাদিক সম্মেলন হল। নানা কথা হল। প্রযুক্তি, উন্নয়ন, নানা কথা। অবশেষে এলো সেই মুহূর্ত। এক সাংবাদিক প্রশ্নটা করেই বসলেন। নীল আর্মস্ট্রং কেবল হাসলেন। মুচকি হাসি। উত্তর দিলেন না।

বেশ কয়েক বছর পর কোনও একটা সভায় আবারও বক্তৃতার পর ধরা হল নীল আর্মস্ট্রংকে। একই প্রশ্ন। একই সাংবাদিক। তিনি এবার আরও নাছোড়বান্দা। আর্মস্ট্রং এবার আর কেবল হেসে পার পেলেন না। তাকে বাধ্য হয়ে বলতে হল, ভাই, ব্যপারটা ব্যক্তিগত। থাক নাহয়।

প্রায় কুড়ি বছর বাদে আবারও সেই প্রশ্ন। এবার আর্মস্ট্রং আর পালাতে পারলেন না। কে এই মি. গোরস্কি? বলতেই হবে। কী সেই রহস্য? চাঁদে মানুষের পায়ের ছাপ ফেলার সাথে কী সম্পর্ক মি. গোরস্কির?

আর্মস্ট্রং কিছুটা ভাবলেন। তারপর বললেন, এখন বলা যায়। মি. এন্ড মিসেস গোরস্কি দু'জনেই এখন পরলোকে। এখন বললে আর তারা বিব্রত হবেন না। আর্মস্ট্রং একটু হাসলেন। তারপর বললেন, সেই গল্প।

আমি তখন খুব ছোট। বাড়ির উঠানে বেসবল খেলছিলাম। আমার প্রতিবেশি ছিলেন মি. আর মিসেস গোরস্কি। খেলতে খেলতে বলটা গিয়ে পড়ল গোরস্কিদের ঘরের কাছে। একেবারে তাদের বেডরুমের জানালার নিচে। আমিই মেরেছিলাম। কাজেই আমাকেই যেতে হল বলটা আনতে। বলটা তুলে উঁচু হতেই চোখ গেল তাদের বেডরুমের ভেতরে। দেখলাম মিসেস গোরস্কি চেঁচাচ্ছেন। মি. গোরস্কি কিছুটা বিব্রত।

মিসেস গোরস্কি বলছেন, 'তুমি ওরাল সেক্স চাচ্ছ? তা তুমি পাবে, পাশের বাড়ির পিচ্ছি যেদিন চাঁদে পা দেবে, সেইদিন তুমি সেটা পাবে। এখন আমাকে বিরক্ত কর না।'

নীল আর্মস্ট্রং আর কিছু বললেন না। গোরস্কিদের স্মরণে তার মনটা কিছুটা স্মৃতিকাতরই হয়ে উঠল বা।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০০৯ রাত ১২:৫৩
১৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেড ইন বাংলাদেশ ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২২


দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা আমাদের দেশে ঋতুভেদে বদলায়। তবে ২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এক নতুন ধরনের সিজনাল দেশপ্রেম দেখলাম। একে বলা যেতে পারে "রিটার্ন টিকিট দেশপ্রেম"। যারা দেশে বিদেশে আরাম-আয়েশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×