somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আইনস্টাইন, হকিং ও মেরিলিন মনরো

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৮:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ থেকে ১০০ বছর আগে, ১৯১৯ সালের ৬ নভেম্বর স্যার আর্থার এডিংটন তার এক্সপেডিশনের রেজাল্ট প্রকাশ করে বলেন - আইনস্টাইনের থিউরিই ঠিক। ভারী বস্তুর পাশ দিযে আসার সময় আলো বেঁকে যায়। এ যেন কোন সুন্দরী মেয়েকে পাশ কাটানোর সময় তাকে কুর্নিশ করা। বিশেষ করে মেয়েটি যদি মেরিলিন মনরো হন।


অনেকের ধারণা গ্র্যাভিটির ফলে আলোর বেঁকে যাওয়ার ব্যাপারটা আইনস্টাইনই প্রথম বলেছেন। তবে, কথাটা সত্য নয়। ১৭০৪ সালে আইজ্যাক নিউটনও কথাটা বলেছেন। তবে, সেভাবে কোয়ান্টিফাই করতে পারেননি।
আইনস্টাইন অবশ্য একটু সরে আসলেন। তিন বললেন - আলো যে বাঁকে সেটা আসলে পথটা বাঁকা বলে। সূর্যের মতো একটি ভারীবস্তু তার আশেপাশের স্থানকালকে বাঁকিয়ে দেয়। শূণ্যে ভাসমান একটি চাদরে যদি একটা বল ছেড়ে দেন তাহলে সেটি ঘুরে ঘুরে এর কেন্দ্রে গিয়ে হাজির হবে এবং চাদরের মাঝখানে ঝুলে পড়বে। এরপর আপনি যাইই গড়িয়ে দেন না কেন সেটা ঘুরে টুরে ঐ বলের কাছেই যাবে। কারণ এছাড়া আর কোন পথ নাই।
আইনস্টাইন হিসাব করে সেটা বেরও করে ফেললেন ১৯১৬ সালে। প্রকাশের জন্য যখন তিনি তাঁর সাধারণতত্ত্ব প্রকাশকের কাছে পাঠান তখন ফুটনোটে লিখেছেন -"এ নিবন্ধ বোঝার মতো লোক পৃথিবীতে ১২জনের বেশি নাই there were not more than twelve persons in the whole world who would understand it,"
আইনস্টাইনের এই কথা যে কতোটা সত্য সেটা বোঝা যায় কিছুদিন পরে। একদর সায়েন্টিস্ট আইনস্টাইনের বিরোধিতা করে বইই লিখে ফেললেন - 100 Against Einstein'
শুনে আইনস্টাইন বললেন - If I was wrong, one would be enough!
আইনস্টাইনের এই কথাগুলো সমুদ্র পাড়ি দিয়ে যখন ইংলন্ডে পৌছায় তখন সেটি হয়ে যায় 'তিনজন'। এ প্রসঙ্গে একজন সাংবাদিক স্যার আর্থার এডিংটনকে একবার কথা প্রসঙ্গে জানায় - আইনস্টাইন নাকি বলেছেন সাধারণত্ত্ব মাত্র তিনজন লোক বুঝতে পারে?"
জবাবে এডিংটন ভ্রূ কুঁচকে বলেন - আর একজন কে?
সে সময় ইউরোপ জুড়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। কাজে আইনস্টাইনের জন্য জীবনপাত করার কারও খায়েশ হওয়াার কথা নয়। কিন্তু দেখা গেল স্যার আর্থার এডিংটন এবং ডাইসন, ইংলন্ডে বসে পরিকল্পনা করছেন কেমন করে এটি প্রমাণ করা যায়। কিন্তু ফান্ডিং আর নিরাপদে ব্রাজিল যাওয়ার উপায়?
১৯১৮তে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে সেই সুযোগটা আসে। ২৯ মে ১৯১৯ এর পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য দু্টি ব্রিটিশ দল রওনা হলো দক্ষিণ আমেরিকার উদ্দেশ্যে। ব্রাজিলের দলটির তর সয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি ফটোগ্রাফিক প্লেট ডেভেলপ করেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। কারণ আইনস্টাইনই জিতে যাচ্ছেন মনে হয়। এডিংটন অবশ্য ধীরে চলা নীতিতে বিশ্বাসী। তিনি দেশে ফিরে সকল ছবি নিয়ে বসলেন এবং ৬ নভেম্বর রাজকীয় বিজ্ঞান সমিতির একটি কক্ষে সাংবাদিকদের সামনে সব কিছু তুলে ধরলেন।
আইনস্টাইনকে এক সাংবাদিক বললেন - আ্চ্ছা, আপনার তত্ব যদি সত্য প্রমাণিত না হতো তাহলে আপনি কী করতেন?
হাসতে হাসতে আইনস্টাইন বললেন - ঈশ্বরের জন্য করুণা বোধ করতাম!
এই ঘটনা আইনস্টাইনকে রাতারাতি তারকা খ্যাতি এনে দেয়। ৭ তারিখে লন্ডন টাইমস হেডলাইনে লিখেছে -“Revolution in science NEW THEORY OF THE UNIVERSE: NEWTONIAN IDEAS OVERTHROWN.”


১০ নভেম্বর নিউ ইয়র্ক টাইমস এটিকে প্রধান শিরোনাম করে। সেদিন প্রথম পাতায় ছয় কলামে এই সংবাদ ছাপা হয়।


আর এভাবে আমাদের মিলোভার স্বামী হয়ে উঠেন বিশ্বজন। আইনস্টাইনের ১২ জনের সংখ্যাটা বাড়তে সময় নেয়ে ম্যালাদিন।

[এই শিরোনামে একটি সিরিজ লিখতে শুরু করি আমি বেশ কিছুদিন আগে। ফেসবুকেই লিখেছি। কাল সোহানীর লেখা পড়ে মনে হলে এই সিরিজটা সামহোয়্যার ইনে লিখলে মন্দ হয় না। সেই কারণে এখানে লেখা। মুক্ত সামু ব্লগে লিখতে পারাটাও একটা আনন্দের ব্যাপার। ]
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৪৯
২৬টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্যরচনা : ইয়ে

লিখেছেন গেছো দাদা, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১:১৪

এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক সহজাত হাসি দিয়ে বললেন - আজ্ঞে আমার ইয়েতে একটু সমস্যা আছে!!
বাঙ্গালী এখনো এঁটো আর যৌনতা নিয়ে পুরোপুরি সাবলীল হয় নি। তবু বিশদে জানতে জিজ্ঞেস করলাম -... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাপান ভ্রমণের শতবর্ষ পর নীলসাধু জাপান পৌঁছলেন

লিখেছেন নীলসাধু, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৪২











কিছুক্ষণ আগে আমার প্রকাশিতব্য বই নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছি। এই বইমেলায় আমি ব্লগে কম আসছি। তাই ভাবলাম স্ট্যাটাস নিয়েই সহ ব্লগারদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমলা শ্রেণীকে গাড়ি, বাড়ি, মোটা বেতনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে জনগণকে আরো কঠিন অবস্থার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে

লিখেছেন সাখাওয়াত হোসেন বাবন, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:১৯

সঞ্চয় পত্রের সুদের হার কমানোর অর্থ হচ্ছে, মানুষকে সঞ্চয়ে নিরুৎসাহিত করে সঞ্চয়পত্র কেনা টাকাগুলোকে বাজারে নিয়ে আসা । ইতিমধ্যে নানা অকার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়পত্র কেনা থেকে নিরুৎসাহিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্বীনের ক্ষমতা- ২

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৩৬



খিলগাঁও, বাগিচা এলাকায় আমরা আড্ডা দিতাম।
বাগিচা মসজিদের ঠিক উলটো পাশেই চুন্নুর চায়ের দোকান। এই চায়ের দোকানে একসময় রোজ আড্ডা দিতাম, আমরা চার পাচজন বন্ধু মিলে। বিকাল থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেগম জিয়াকে ছেড়ে দেয়ার কথা উঠলে, মনটা খারাপ হয়ে যায়

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:১৮



বেগম জিয়ার বয়স বেশী হয়েছে, এই বয়সে আত্মীয়স্বজন থেকে দুরে, জেলে বাস করা সহজ নয়, এটা বুঝতে কারো কষ্ট হওয়ার কথা নয়; এবং সেটার সমাধানও আছে; উনাকে উনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×