somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভূত নিয়ে কিছু জানা না জানা পাঁচ মিশালী প্যাচল ।

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী ভূত হল একটি মৃত ব্যক্তির আত্মা, যা জীবিত ব্যক্তিদের সামনে দৃশ্য আকার গ্রহণ বা অন্য কোনো উপায়ে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম । এমনকি ছায়াও হতে পারে । ভৌতিক অভিজ্ঞতার গল্প প্রায়শই আমরা শোনে থাকি । এই সকল বিবরণীতে ভূতকে নানাভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, কখন অদৃশ্য বা অস্বচ্ছ বায়বীয় সত্ত্বায় বা কখনও বাস্তবসম্মত সপ্রাণ মানুষের বা অন্য কোন জীবের আকারেও হতে পারে । আমরা সাধারনত প্রেতাত্মার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে ভবিষ্যদ্বাণী করার বিদ্যাকে নেক্রোম্যান্সি বা কালো জাদু বলে থাকি ।
প্রাক শিক্ষিত সংস্কৃতিগুলোর সর্বপ্রাণবাদ এবং পূর্বপুরুষ পূজার মধ্যে ভূতের প্রথম বিবরণ পাওয়া যায় । সেযুগে কিছু নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রথা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, ভূত তাড়ানো অনুষ্ঠান এবং জাদু অনুষ্ঠান আয়োজিত হত মৃতের আত্মাকে তুষ্ট করার জন্য । প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, ভূতেরা একা থাকে, তারা নির্দিষ্ট কিছু স্থানে ঘুরে বেড়ায়, জীবদ্দশায় যেসকল বস্তু বা ব্যক্তির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল সেগুলিকে বা তাদের তাড়া করে ফেরে । তবে ভূত বাহিনী, ভৌতিক ট্রেন, ভৌতিক জাহাজ এমনকি ভৌতিক জীবজন্তুরও অনেক কথা আমরা অনেক রূপকথার গল্পে শুনেছি ।
আসলে আত্মা হল মানুষ বা কোন জীবের অংশ যা কোন শরীর নয় । দেহ যখন জীবিত থাকে, তখন এর ভেতরে একটি আত্মা থাকে । আর মৃত্যুর সময় আত্মা আমাদের দেহ থেকে বেরিয়ে যায় ।
খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করেন যে সর্গে এবং নরকে আত্মা বসবাস করেন । আধ্যাত্মিক বিশেষজ্ঞরাও বিশ্বাস করেন যে আত্মা মানুষের সাথে কথা বলতে পারে এবং পৃথিবীর যে কোন জিনিসকে বদলে দিতে পারে একটি আত্মা । অনেক ধর্ম এই ধরনের আত্মার সাথে সকল অবস্থায় যোগাযোগ করতে নিষেধ করে । কিন্তু কিছু ধর্ম আবার একে তাদের রীতিনীতির অংশ হিসেবে চর্চা করে থাকে ।
সর্বপ্রাণবাদ হচ্ছে মানব বিহীন সত্ত্বাগুলোতে প্রাণীসমূহ ও উদ্ভিদসমূহ এবং প্রাণহীন বস্তুসমূহ বা ইন্দ্রিয়গোচর বস্তুসমূহে আধ্যাত্মিক নির্যাস বিরাজিত থাকা । অন্য অর্থে হচ্ছে প্রকৃতির সব কিছুকেই সপ্রাণ মনে করা সব ক্রিয়াকলাপের পেছনে প্রাণের অস্তিত্বকে অনুভব করাই হল সর্বপ্রাণবাদ ।
সর্বপ্রাণবাদ শব্দটি দ্বারা ধর্মের নৃবিজ্ঞানে কিছু আদিবাসী গোত্রভিত্তিক জনগনের বিশ্বাস প্রক্রিয়াকে, বিশেষভাবে সংগঠিত ধর্মের আগের বিশ্বাস প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে । ভূতুরে রেলগাড়ি হলো ভূতুরে যানবাহন এর অন্তর্ভূক্ত কোন রেলগাড়ি বা ট্রেন যা মানুষের কাছে অস্বাভাবিক বলেই মনে করা হয় ।

সিলভারপাইলেন সিলভার এরো হলো স্টকহোম মেট্রো রেলগাড়ি যা নিয়ে অনেক শহুরে কিংবদন্তী প্রচলিত এবং বিশ্বাস করা হয় রেলগাড়িটিতে রেল ভূত রয়েছে । সেন্ট লুইস ভৌতিক রেলগাড়ি সেন্ট লুইস লাইট নামেই অধিক পরিচিত । রাতে প্রিন্স আলবার্ট এবং সেন্ট লুইস সাসকাচেওয়ানের মাঝামাঝি কোন এক পরিত্যক্ত রেল লাইনে দেখতে পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস করা হয় । এটি নিয়ে দুজন ছাত্র তদন্ত করে পুরস্কার জিতেছে তাদের মতে এরকম ঘটনা দূরের কোন রেলের লাইটের আলোর বিচ্ছুরনের ফলে ঘটে থাকে আর লোকে এটাকেই ভূতুরে ট্রেন মনে করে ভুল করেন । লোককাহিনী অনুসারে একটি ভৌতিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ট্রেনকে নিয়মিত আব্রাহাম লিংকনের মৃত্যুবার্ষীকির সময়ে ওয়াশিংটন ডি.সি. থেকে স্প্রিংফিল্ড ইলিনয়ের দিকে যেতে দেখা যায় এবং যাওয়ার পথে এটি বিভিন্ন স্থানে থামে এবং যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করে থাকে ।

ভূতুরে রেলগারি নামে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের নাটক, টেলিভিশন অনুষ্ঠান, চলচ্চিত্র, অ্যালবাম, সঙ্গীত এবং অন্যান্য সৃষ্টিকর্ম তৈরি করা হয়েছে । তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলোঃ
দ্য ঘোস্ট ট্রেন এটি একটি নাটক আর এটিকে ১৯২৩ সালে নাট্যকার এবং অভিনেতা আরনোল্ড লেখছেন । নাটকটির কাহিনী লেখকের একটি ট্রেন ভ্রমনকে কেন্দ্র করে এবং নাটকটি বেশ জনপ্রিয়তাও অর্জন করে । ১৯৪৮ সালে এনিড ব্লেটন তার ফেমাস ফাইভ সিরিজে । ফাইভ গো অফ টু ক্যাম্প বইয়ের প্রচ্ছদ হিসেবে একটি ট্রেনের নাম দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে এটি টেলিভিশনে এবং রেডিওতে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে । ১৯৯৭ সালের ডিরেক্ট টু ভিডিও কমেডি ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্র কাসপার অ্য স্পিরিটেড বিগেনিং এর চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছিল একটি ভূতুরে ট্রেনকে ও ভূতুরে স্টেশনকে কেন্দ্র করে । ১৯৯৬ সালে হেই, আর্নোল্ড এপিসোডে, ভূতুরে ট্রেন নামে একটি পর্ব ছিল ।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:৩৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সত্যকে স্বীকার করার সাহস কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

সত্যকে স্বীকার করার সাহস কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে?

আমাদের দেশে এখন অদ্ভুত এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। আপনি কোনো দলের সমালোচনা করলে- আপনি সেই দলের শত্রু।
আপনি কোনো দলের একটি ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×