somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্য লাস্ট রাজা অব ওয়েস্ট পাকিস্তান

০৩ রা অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৮:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দ্য লাস্ট রাজা অব ওয়েস্ট পাকিস্তান হলেন পূর্ব পাকিস্তানের বর্তমান বাংলাদেশ চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের জীবনীমূলক একটি গ্রন্থ। এই বইয়ের লেখক প্রিয়জিৎ দেবসরকার।তিনি লন্ডনে বসবাসরত একজন ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক। বইটি প্রধানত রাজা ত্রিদিব রায়ের সরকার এবং তার শাসনের দিকে আলোকপাত করে। রাজা ত্রিদিব রায় ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা জনগোষ্ঠীর ৫০তম রাজা। বইটি ১৯৫৩ সালে ত্রিদিব রায়ের রাজা হিসেবে রাজ্যাভিষেক থেকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পর্যন্ত তার সম্পূর্ণ জীবন ইতিহাসের বিবরণ দেয়।বইটিতে লিপিবদ্ধ আছে যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করেন। তার আশঙ্কা ছিল যে স্বাধীন বাংলাদেশে চাকমা রাজ্যের স্বায়ত্তশাসন থাকবে না এবং বাঙালিদের কারণে চাকমারা স্থানচ্যুত হবে তাই তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে যুক্ত থেকে স্বায়ত্ত্বশাসন বজায় রাখতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে যুদ্ধ শেষ হলে তিনি পাকিস্তান চলে যান। রাজা ত্রিদিব রায়ের তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের প্রতি বিশ্বস্ততার বিশদ বিবরণের কারণেই বইটির নামকরণ দ্য লাস্ট রাজা অফ ওয়েস্ট পাকিস্তান করা হয়েছে। বইটি উল্লেখ করে যে পাকিস্তানে ত্রিদিব রায় একজন লেখক কূটনৈতিক বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা ও রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত হন এবং ১৯৮১ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি আর্জেন্টিনায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বপালনও করেন। বই অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধে আনুগত্যের কারণে পাকিস্তান সরকার ত্রিদিব রায়কে আজীবনের জন্য ফেডারেল মন্ত্রী ঘোষণা করে।বইটি মূলত মাধ্যমিক উৎসসমূহের তথ্য দিয়ে গবেষণা করা হয়। ফলস্বরূপ এটির তথ্যসূত্রসমূহই প্রায় ৩৫ পৃষ্ঠা জুড়ে উপস্থিত রয়েছে।


রাজা ত্রিদিব রায়
রাজা ত্রিদিব রায় ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা জনগোষ্ঠীর ৫০তম রাজা। ১৯৫৩ সালের ২ মে থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি রাজা ছিলেন। পাকিস্তানে তিনি একজন লেখক, কূটনৈতিক, বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি আর্জেন্টিনায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন। পাকিস্তান সরকার তাকে আজীবন মন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন।ত্রিদিব রায় ১৯৩৩ সালের ১৪ মে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্গত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটিতে চাকমা রাজপ্রাসাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজা নলিনাক্ষ রায় ও তার স্ত্রী বিনিতা রায়ের ছেলে।১৯৫৩ সালের ২ মে ত্রিদিব রায় চাকমা সার্কেলের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন। ১৯৭১ সালে তিনি দায়িত্ব ত্যাগ করেন। এরপর তার ছেলে দেবাশীষ রায় রাজা হন।

ত্রিদিব রায় চাকমা রীতিতে বেড়ে উঠেছেন। অশ্বারোহণ, পোলো খেলাসহ অন্যান্য বিষয়ে তিনি শিক্ষালাভ করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে তার পরিবারের সাথে তিনিও কলকাতা গমন করেন।চট্টগ্রামের সেন্ট স্কলাস্টিকা কনভেন্টে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুল এবং ভারতের কুরসেওং ভিক্টোরিয়া স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি কলা, বিজ্ঞান ও বাংলা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।ত্রিদিব রায় লন্ডনের ইনস অব কোর্টে আইন বিষয়ে পড়াশোনার জন্য ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে তিনি ব্যারিস্টার-এট-ল হন। তিনি লিঙ্কনস ইনের সদস্য ছিলেন। তার পিতা রাজা নলিনাক্ষ রায় ১৯৫২ সালের ৭ই অক্টোবর মস্তিষ্কের রক্তক্ষরনের কারণে মারা যান। সেসময় তার বয়স ছিল ৪৯ বছর। ত্রিদিব রায় ১৯৫৩ সালের ২ মার্চ ৫০তম চাকমা রাজা হিসেবে সিংহাসনে বসেন। একই বছর রাণী আরতি রায়ের সাথে তার বিয়ে হয়।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৮:৪৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×