somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ত্রেভি ফোয়ারা এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৪:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ত্রেভি ফোয়ারা ইতালির রাজধানী রোমে অবস্থিত একটি ফোয়ারা। এটি রোম শহরের বৃহত্তম বারোক । আনুমানিক ১৬০০ সালের দিকে যে শৈল্পিক রেনেসাঁ শুরু হয়েছিল। ফোয়ারা এবং পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ফোয়ারাগুলোর একটি হিসেবে খ্যাত। স্থানীয় লোককাহিনী অনুযায়ী কথিত আছে যে কেউ এই ফোয়ারায় পয়সা ফেললে সে আবার কোন না কোনদিন রোমে ফিরে আসবে। ত্রেভি শব্দটি এসেছে ইতালীয় শব্দ ত্রে এবং ভিয়া র সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে যার অর্থ তিন রাস্তা।

প্রাচীন রোমের একটি কৃত্রিম জলপ্রণালীর শেষ প্রান্তটি সাধারণের সামনে দর্শনীয়ভাবে তুলে ধরার জন্য সে প্রান্তে প্রথমে ত্রেভি ফোয়ারা তৈরি করা হয়েছিল। সেই প্রাচীন রোমান জলপ্রণালীর নাম ছিল ভির্গো, যার অর্থ কুমারী।


সম্রাট আউগুস্তুস ছিলেন রোমান সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট। তার জন্মনাম ছিল গাইউস অক্তাভিউস। পরবর্তীতে তিনি নিজের নাম বদলে গাইউস ইউলিউস কায়েসার অক্তাভিয়ানুস রাখেন। সম্রাট হবার পূর্বে তিনি অক্তাভিয়ান নামেও পরিচিত ছিলেন। আউগুস্তুস একটি স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের প্রবর্তন করেন যা প্রিঙ্কিপাতে নামে পরিচিত ছিল। আউগুস্তুস ছিলেন এই রাষ্ট্রের প্রিঙ্কেপ্‌স বা প্রথম নাগরিক। এই নতুন শাসনব্যবস্থা বাইরের অবয়বে প্রজাতান্ত্রিক হলেও আউগুস্তুস এটিকে কাজে লাগিয়ে রোমান জনজীবনের প্রায় সমস্ত দিক নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হন এবং গ্রিক-রোমান বিশ্বে স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসেন। ইতিহাসের অন্যতম দক্ষ প্রশাসক আউগুস্তুস রোমান সাম্রাজ্যের ক্ষমতা রোমে কেন্দ্রীভূত করেন।আউগুস্তুস তথা অক্তাভিয়ান একটি ধনী পরিবারে জন্ম নেন ১৮ বছর বয়সে তার পিতামহের ভ্রাতা জুলিয়াস সিজারের (ইউলিউস কায়েসার) পালিত সন্তান ও উত্তরসূরী হিসেবে নামাঙ্কিত হন। সিজারের মৃত্যুর পর রোমে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব্ব সৃষ্টি হয় এবং মার্ক অ্যান্টনি এবং লেপিদুসের সাথে তিনি তৃতীয় শাসক হিসেবে ৪৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পুনর্গঠিত রোমান রাষ্ট্র শাসন করতে থাকেন। ৪২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিজারের আততায়ী ব্রুটাস (ব্রুতুস) এবং কাসিউস-কে ফিলিপ্পিতে পরাজিত করার পর অক্তাভিয়ান ও মার্ক অ্যান্টনি রোমান সাম্রাজ্যকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেন। অক্তাভিয়ান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অংশ শাসনের অধিকার পান। তারপর অক্তাভিয়ান বিভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন। ৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি লেপিদুসকে এবং ৩১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি অ্যান্টনি এবং মিশরের রাণী ক্লিওপেট্রাকে পরাজিত করেন এবং এই সাথে গ্রিক রোমান বিশ্বের একাধিপতিতে পরিনত হন। ৩১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত তিনি রোমান প্রজাতন্ত্রের একজন কনসাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি আউগুস্তুস উপাধি গ্রহণ করেন এবং ২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে একনায়ক সম্রাটের মর্যাদা লাভ করেন। এরপর তিনি ধীরে ধীরে রোমান সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার সাধন করেন এবং ইউরোপের অনেক নতুন অঞ্চল বিজয় করেন। মৃত্যুর পর তাকে দেবতার মর্যাদা দেওয়া হয় এবং তার পালিত পুত্র তিবেরিউস রোমান সম্রাট হন।


১৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে রোমান সম্রাট আউগুস্তুসের প্রিয় এক জেনারেলের কন্যার স্বামী মার্কুস ভিপসানিয়ুস আগ্রিপ্পা জলপ্রণালীটি তৈরি করেছিলেন যার দৈর্ঘ্য ছিল ২১ কিলোমিটার যার ১৯ কিলোমিটারই ছিল মাটির নিচে। পানথেওনের নিকটে আগ্রিপ্পার হাতেই নির্মিত তাপীয় স্নানঘরে পানি সরবরাহের জন্যই তিনি প্রণালীটি বানিয়েছিলেন। ত্রেভি নির্মাণের আগেই অবশ্য প্রণালীটির শেষ প্রান্তে একটি ফোয়ারা ছিল। সেক্সতুস ইউলিয়ুস ফ্রন্তিনুসের বই De aquaductibus Romae commentarius অনুসারে জলপ্রণালীর নাম রাখা হয়েছিল একজন কুমারী নারীর নামে রোমান সৈন্যরা তৃষ্ণার্ত এবং দুর্বল অবস্থায় যার দেখা পেয়েছিল। কুমারী মেয়েটি তাদেরকে কাছের একটি পানির উৎসে পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। উৎসটি ছিল তিবুর্তিনা এবং কোল্লাতিনা রাস্তা দুটির মধ্যবর্তী স্থানে। দুটো রাস্তাই রোমে এসে শেষ হয়। এই উৎসটি এখনও ধারাজলের পানি সরবরাহ করে।৪র্থ শতাব্দীতে রোম শহরে ১৩৫২টি ফোয়ারা ছিল। ৫৩৭ সালে অস্ট্রোগথ রাজা ভিতিগিসের আক্রমণে ভির্গো জলনালীর কিছুটা ক্ষতি হয়। বর্বর বাহিনীর আত্রমণে এক সময় নালীটি পরিত্যক্ত হয়ে যায় এবং মধ্যযুগের আগে এর আর কোন সংস্কার করা হয়নি। ইউরোপীয় রেনেসাঁর প্রথম দিকেই পোপরা সবগুলো জলনালীর শেষ প্রান্ত পুনরায় সংস্কার করে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন।

তথ্যসূত্রঃ
http://www.trevifountain.net/trevifountainhistory.htm
http://www.trevifountain.net/
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৪:০৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×