আজ অনেককিছু পড়েছি,পড়েছি মুক্তমনা ব্লগ,পড়েছি অভিজিৎকে নিয়ে তসলিমার লেখা"অভিজিৎকে যেভাবে চিনি" শিরোনামে লেখাটা অসম্ভব ভালো লেগেছে,একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে চূড়ান্ত শ্রদ্ধা না করলে এরকমভাবে লেখা সম্ভব হতোনা।আমি মানছি তসলিমা এবং তসলিমা সদৃশ মানুষেরা(নাস্তিকেরা)সব বেশ মানববাদী কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এই এদের এই মানবতাবাদীতা মানতে হয় শর্ত-সাপেক্ষে।
আজ অভিজিৎ মরেছে এমনই এদের প্রেম সব ঢেঊ খেলে যাচ্ছে,আমাদের এই বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত,মানুষ হাটে মরছে,ঘাটে মরছে,মরছে কুখাদ্য খেয়ে মরছে ভাত না খেয়ে,একটা আরেকটাকে মারছে না খাইয়ে,পুলিশ প্রকাশ্যে গুলি করে মানুষ মারছে।এরা তো এসব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেনা!যেদিন হেফাজতকে মেরে অন্যায়ভাবে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো রাজপথ থেকে সেদিন ওরা কোথায় ছিলো?কোথায় ছিলো ওদের মানবতা?একটা শব্দওতো উচ্চারন করেনি।আজ অভিজিৎ নেই বিভৎশ ভাবে খুন হয়েছে প্রকাশ্যে।কলম হাতে নিয়েছে হাজার হাজার ধার্মিক প্রাণ;সবাই;নাস্তিকের পক্ষে কথা না বললেও বিচার দাবী করছে,স্পষ্টভাবে জানান দিচ্ছে অভিজিৎ যাই হউক যেই হউক পরিশেষে সে মানুষ ছিলো,ওর অপরাধ যতো বড়ই হউক এভাবে খুন হওয়াটা সমর্থনযোগ্য কিছু নয় মোটেও।
আপনারাই বলুন-আসল মানবতাবাদী কে?
ওরা মুক্তমনা হতে পেরেছে,এরা বিজ্ঞান জানে,এরা লিখতে পারে সুন্দর করে গুছিয়ে,এতো কিছু জানার পর বা বোঝার পর দেশ-জাতির উন্নয়ন খাতে একটা"বালের"অবদানও রাখতে পারেনা।এরা শুধু বিতর্কিতই হতে পারে,পারে সমালোচিত হয়ে থাকতে পারে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে থাকতে।
ইসরাইল নামের ছোট একটা ভূখন্ড আছে পৃথিবীর বুকে কিন্তু এদের দাপট একেবারে বাঘের মতো আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদি আগ্রাসন বরাবরই এদের কাছে তুচ্ছ এদেরকে সমীহ করে চলে পরাশক্তি অনেক দেশ,ইসরাইলিদের মস্তিষ্কের ধার আর চিন্তার পর্যায় চলে গিয়েছে হিমালয় সমান উচ্চতায়।
আসুন আমরা একটু দেখি ইসরাইলিদের ধর্মীয় অবস্থা।
ওখানে ৭৫.৪% জিউস ২০.৬% মুসলমান আর বাকি ৪% অন্য ধর্মাবলম্বি।ধর্মের স্বাধিনতা ওরা আইন দ্বারা নিশ্চিৎ করেছে।বিশ্বের অন্যতম মেধাবী এই জাতিটির ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ব্যাবহার বেশ প্রশংশনীয়,আপনি যদি এদের জীবন পদ্ধতি বিবেচনায় আনেন তাহলে দেখতে পাবেন আমাদের মুক্তমনাদের মতো প্রগতিশীল এরা নয় ধর্ম নিয়ে এদের লম্ফ-ঝম্ফও অতো নেই।
পৃথিবীর অধিকাংশ উন্নত দেশগুলোতে যেয়ে দেখবেন ধর্মের অস্তিত্ব নিয়ে গবেষনার ইতি ওরা টেনে নিয়েছে কয়েকশো বছর আগে এবং ধর্ম সম্পর্কে এদের কোনো এ্যালার্জি নেই,আমাদের মুক্তমনারা এখন শুরু করেছে এই গবেষনা,এদের কাছে মুক্তমনা হওয়ার অর্থই হলো ধর্মকে গালিগালাজ করে শান্তির বাণী পরিবেশন করা।আসলে ব্যাপারটা হয়েছে কী মুক্তমনাদের নিম্নাঙ্গে নতুন"বাল"গজিয়েছে তো আর তাই ওটা নিয়ে নড়াচড়া একটু বেশী হয়ে যাচ্ছে এদের বালের খাঊজে ওরা শান্তিতে থাকতে পারছেনা নিজেরা আর অন্যকেও শান্তিতে থাকতে দিচ্ছেনা কারন এটাইতো মানবতা!আমি যদি শান্তি না পাই তবে তুমি কেন পাবে?আবাঞ্চিত বালের খাউজে যা ইচ্ছা তাই লিখে বেড়াচ্ছে ওরা।
ইসরাইলিরা যখন একটা নতুন ট্যাংকার বানানোতে ব্যাস্ত আমাদের মুক্তমনারা তখন মোহাম্মদকে গালি দিতে ব্যাস্ত,ইসরাইলিরা যখন দেশের অর্থ ব্যাবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে নতুন কোনো সুত্র আবিষ্কারে ব্যাস্ত আমাদের মুক্তমনারা তখন কুর-আনকে কিভাবে সমালোচনায় আনা যায় সেটা নিয়ে ব্যাস্ত ।
আমাদের মুক্তমনাদের মতে ধর্ম মানেই মৌলবাদ,মক্কা মদীনাতো কিছুই নয়।আসলে তীর্থ স্থান বলতেই ওরা ধর্মীয় গোড়ামীকে বোঝে।
ইসরাইলিরা আল-আকসা মসজিদকে বিবেচনা করে নিজেদের তীর্থ স্থান রুপে,আজ আমি ইসরাইলকে এখানে এনেছি একটা বিষয় বোঝানোর জন্য শুধু যে এরা হচ্ছে পৃথিবীর সবছাইতে বিজ্ঞান মনষ্ক জাতি,বিজ্ঞান সম্পর্কে এরা যা জানে আমাদের মুক্তমনারা এর সামান্য পরিমাণও জানে কিনা সে বিষয় সন্দেহ আছে,ছোট এক তেল আবিব শহরে যে পরিমাণ পি,এইচ,ডি ডিগ্রীধারী আছে সে পরিমাণ পি,এইচ,ডি ডিগ্রীধারীর অর্ধেক সমগ্র বাংলাদেশেও নেই।
পরিশেষে বিতর্কিত মুক্তমনাদের আমি বিবেচনা করি মলমনা হিসেবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



