পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা বাংলাদেশের একটি বড় প্রতিযোগিতা। এখানে ১ টি করে সিটের জন্য ৫০-৭০ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
এই ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উচ্চবিত্ত , নিম্নবিত্ত , মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা। নিম্নবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের] সন্তানদের এখানে পড়ার ইচ্ছাটা একটু বেশিই থাকে । কারণ এখানে ভর্তি হতে পারলে নাম মাত্র খরচে পড়াশুনা করতে পারবে । তাদের পরিবারের তো আর উচ্চবিত্তদের মতো প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ার সামর্থ নাই ।
নিম্নবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী সন্তান গুলো তাদের মেধার জোরে এযাবৎকাল পড়ার সুযোগ পেয়ে আসছিল । এই সুযোগটা এখন বন্ধের পথে ধাবিত হচ্ছে । কতিপয় অসৎ মেধাহীন সন্তান , তার পরিবার এবং কর্মচারীর কারণে গরিব মেধাবী ছাত্র গুলো সুযোগ হারাচ্ছে ।
বাংলাদেশ এ প্রশ্ন ফাঁস হওয়া নতুন কিছু নয় । এতদিন এই প্রশ্ন হওয়া পাবলিক পরীক্ষাগুলোর মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল । এতে মেধাবী গরিব ছাত্রগুলোর কোন ক্ষতি হয়নি কারণ তারা তাদের মেধার জোরে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে । প্রশ্ন ফাঁস করে পরিক্ষা দেওয়া ছাত্রগুলো শুধু ভাল ফলাফল এর সার্টিফিকেট ই অর্জন করতে পেরেছে । এতে গরিব মেধাবী ছাত্র গুলোর ক্ষতি হয়নি কারণ ভালো ফলাফল এর পরিমাণ নির্দিষ্ট করা থাকেনা ।
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড এর প্রশ্ন ফাঁস
কিন্তু বর্তমান সময়ের পাবলিক ভার্সিটি গুলোর প্রশ্ন ফাস হওয়াটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক । এর ফলে গরিব মেধাবী ছাত্র গুলো শিক্ষা থেকে হারিয়ে যাবে । পাবলিক ভার্সিটিগুলোতে সিট নির্দিষ্ট করা থাকে । নির্দিষ্ট সংখ্যার বাইরে ছাত্র নেওয়া হয়না । অর্থের বিনিময়ে মেধাহীন ছাত্রগুলো স্থান দখল করে ফেললে গরিব মেধাবী ছাত্রগুলো হারিয়েই যাবে।
নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান গুলোর সেই সামর্থ নেই যে তারা অর্থ দিয়ে পাবলিক ভার্সিটি গুলোতে ভর্তি হবে । তাদের সামর্থ নেই বলেই তারা পাবলিক ভার্সিটিতে পড়ার স্বপ্ন দেখে । এই স্বপ্ন গুলো এখন তাদের কাছে কী এখন থেকে স্বপ্ন হয়েই থাকবে ।
শিক্ষাব্যবস্থার উত্তরোত্তর উন্নতির ফলে হুয়ত একদিন অর্থের অভাবে গরিব মেধাবী ছাত্র গুলো হারিয়ে যাবে ।
জয় শিক্ষাব্যবস্থার জয়।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


