ছেলেটা ভালো রেজাল্ট করে। এসএসসি, এইচএসসিতে ঈর্ষনীয় ফলাফল। ডিগ্রীতে ফার্স্ট ক্লাশ।(ডিগ্রী পড়ার কারনও অর্থনৈতিক কারন ছিল)। স্নাতকের ভালো ফলাফলের পর ছেলেটা ভাইভা দিয়ে বেড়ায়,পরীক্ষা দেয়। না,তার চাকরী হয় না। অনেকেই তখন কানাঘুষা করে। হাসাহাসি করে। অবশেষে সে নিজেই খাবারের দোকানে কাজ নেয়।এক সময় তার নিজেরও ব্যাবসা হয়। আয় একজন প্রথম সারির কর্মকর্তার চেয়ে খারাপ না। তার সংসার হয়।ঢাকায় ছোট দেখে প্লট ও কিনে ফেলে। নাহ, কোন গল্পের চরিত্র নয় এটা। বাস্তব ঘটনা। হয়ত আহামরি কোন উল্লেখ করার মত ঘটনা নয়। তবু একটা কথা বলি।একটা ছেলে যখন সীমাহীন দুর্যোগের মধ্যে পড়ে তাকে সাহায্য করার মত একজন মানুষ ও থাকে না। কিন্তু সে যখন নিজে কিছু করে তখন তাকে নিয়ে শুরু হয়ে যায় ক্যাচাল। ফিজিক্সে ভালো ফল করে কেউ একজন ব্যাংকার হলে অনেকেই বলে সায়েন্সে পড়ে ব্যাংক হিসেবের কি বুঝে?কেউ বুঝে না এই ছেলেটাই বাইরে স্কলারশীপ পেলেও যেতে পারে না।এই ছেলেটা ব্যাংকের চাকরীটি যোগ্যতা দিয়েই পেয়েছে। পরিবারের প্রতি রয়েছে তার দায়িত্ব। মার্কেটিং করা ছেলেটিকে নিয়ে লবিং করে পাওয়া উচ্চ পদস্থ চাকরী করা বন্ধুটির হাসাহাসি। দেখ দোকানে দোকানে ঘুরে বেড়ায়! আচ্ছা? এই মার্কেটিং করা ছেলেটা কি চুরী করে? অন্যের কাছে হাত পেতে চেয়ে বেড়ায়? তাহলে এত কি লজ্জা?
আমাদের দেশের চারু কলায় অধ্যয়নরত একটা মেয়ে বখাটেদের অত্যাচারে আত্মহত্যা করেছিল। সে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইভেন্ট অথবা স্টেজের কাজ করতো। ফিরতে ফিরতে রাত হতো। এলাকার কিছু বখাটে তাকে আজেবাজে মন্তব্য করতো। নির্যাতন যখন মামলা পর্যন্ত গড়ায় তখন পুলিশ ও তাকে বাজে ইঙ্গিত করে কথা বলে। মেয়েটির ভাষায় এই অত্যাচার রাস্তায় একজন মেয়েকে ধর্ষণ করার চেয়েও কম কিছু না।
আচ্ছা আমাদের মানুষিক দাসত্ব থেকে মুক্তি কবে মিলবে? কত ক্লাশ পড়লে আমরা বুঝবো এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাই সাফল্যের ধাপ? একজন মানুষ কি করছে তার চেয়ে লক্ষনীয় ব্যাপার হলো একজন মানুষ চেষ্টা করছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৯:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



