somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

আসুন, পালন করি শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযা: অর্জন করি সারা বছর রোযা রাখার সাওয়াব

২৭ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ শাওয়ালের ১২ তারিখ। হিজরী ১৪৩৯ সাল। আরবি সন তারিখের গননা খুব কমই করি আমরা। সঙ্গত কারনে কখন আরবি পঞ্জিকার কোন্ মাস আসে, কোন্ মাস যায় খেয়াল রাখা কম লোকেরই হয়ে থাকে। একমাত্র রমজান এবং দুই ঈদের সময়গুলো ব্যতিত। হঠাত করে আপনি যদি কাউকে জিজ্ঞেস করেন, আজ আরবি মাসের কত তারিখ? দেখবেন, শতকরা দু'এক জন ছাড়া সকলেই হয়তো মাথা চুলকাতে শুরু করবেন। ইংরেজি মাসের হিসাব গননা করতে করতে বাংলা সনের অবস্থাও তথৈবচ! ওহ, কথা যেহেতু এসেছে, বাংলা মাসের আজকের তারিখটাও জানিয়ে রাখি। আজ ১২ জৈষ্ঠ্য ১৪২৫ বাংলা অব্দ। এত কথা বলার পেছনে কারন হচ্ছে, অনেকের কাছেই আরবি মাসের হিসাব না থাকার কারনে তারা জানেন না, শাওয়ালের ছয় রোজা রাখার সময় শেষ হয়ে গেল কি না। না, শেষ হয়ে যায়নি। ইনশা-আল্লাহ, অনেক ফজিলতের শাওয়ালের ছয় রোজা এ বছর এখনও রাখা যাবে। আসুন, এই বিষয়ে হাদিসের আলোকে একটু জেনে নিই-

''আবু আইয়ুব আনসারি রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখবে অত:পর শাওয়ালের ছয়টি রোজা পালন করবে সে যেন যুগভর রোজা রাখল।'' মুসলিম : ১১৬৪

''সাওবান রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, রমজানের রোজা দশ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দু’মাসের রোজার সমান। সুতরাং এ হলো এক বছরের রোজা।''

অপর রেওয়ায়েতে আছে,

''যে ব্যক্তি রমজানের রোজা শেষ করে ছয় দিন রোজা রাখবে সেটা তার জন্য পুরো বছর রোজা রাখার সমতুল্য। যে সৎকাজ নিয়ে এসেছে, তার জন্য হবে তার দশ গুণ।'' (সূরা আল আন‘আম), আহমদ : ৫/২৮০, দারেমি : ১৭৫৫

উল্লেখিত হাদিস থেকে শিক্ষনীয়:

এক. শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত জানা গেল যে, যে ব্যক্তি পুরো রমজান সিয়াম পালনের পর এ রোজা ছয়টি পালন করবে সে যেন সারা জীবন রোজা করল। এ এক বিরাট আমল এবং বিশাল অর্জন।

দুই. বান্দার ওপর আল্লাহর কত দয়া যে, তিনি অল্প আমলের বিনিময়ে অধিক বদলা দিবেন।

তিন. কল্যণকাজে প্রতিযোগিতা স্বরূপ এ ছয় রোজার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা মুস্তাহাব, যাতে রোজাগুলো ছুটে না যায়। কোনো ব্যস্ততাই যেন পুণ্য আহরণের এ সুযোগ থেকে আমাদের বঞ্চিত করতে না পারে।

চার. এ রোজা পালন করা যাবে মাসের শুরু-শেষ-মাঝামাঝি সব সময়। ধারাবাহিক ও অধারাবাহিক যেভাবেই পালন করা হোক না কেন রোজাদার অবশ্যই এর সওয়াবের অধিকারী হবেন যদি আল্লাহর কাছে তা কবুল হয়।



পাঁচ. যার উপর রমজানের রোজার কাজা বাকি রয়েছে, তিনি আগে তার কাজা রোজা পূরন করবেন। তারপর শাওয়ালের রোজায় ব্রতী হবেন। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে রমজানের রোজা রাখবে, অত:পর শাওয়ালের ছয় রোজা পূর্ন করবে'- অর্থাৎ রমজানের রোজা পুরোপুরি সবগুলো রাখবে। আর যার উপর কাজা রয়ে গেছে তিনি তো রোজা পুরোপুরি পালন করেছেন বলে গণ্য হবেন না, যতক্ষণ ওই রোজাগুলোর কাজা আদায় না করেন। মুগনি : ৪/৪৪০ তাছাড়া ওয়াজিব আদায়ের দায়িত্ব পালন নফল আদায়ের চেয়ে অধিক গুরুত্ব রাখে।

ছয়. ইসলামী শরিয়ত আমাদের সুবিধার জন্য, অধিক সাওয়াব অর্জনের সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে ফরজ ইবাদাতগুলোর আগে-পরে নফল প্রবর্তন করেছে। যেমনঃ ফরজ সালাতের আগে-পরের সুন্নতগুলো এবং রমজানের আগে শাবানের রোজা আবার পরে শাওয়ালের ছয় রোজা।

সাত. এই নফলসমূহ ফরজের ত্রুটিগুলোর ক্ষতিপূরণ করে। কারণ রোজাদার অনর্থক বাক্যালাপ, কুদৃষ্টি প্রভৃতি কাজ থেকে সম্পূর্ণ বাঁচতে পারেন না, যা তার রোজার পুণ্যকে কমিয়ে দেয়। আর শাওয়ালের ছয় রোজা পালনের মাধ্যমে সেই ঘাটতি দূরীভূত করে পুরো বছর রোজা পালনের সাওয়াব লাভের সুযোগ এনে দিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে আমল করার তাওফিক দান করুন।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ
একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

একদিন সকালবেলা, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে জাতি খবরের কাগজ খুলে দেখল, দেশের সবচেয়ে বড় পদটির জন্য মনোনীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×