somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

আসুন, আরেকবার চোখ বুলিয়ে নিই কখন এবং কোথায়, কোন্ দুআ পাঠ করা উচিত

১৩ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আসুন, আরেকবার চোখ বুলিয়ে নিই কখন এবং কোথায়, কোন্ দুআ পাঠ করা উচিত

আমাদের শিখতে হবে: চলার পথে পা পিছলে পড়ে গেল ছোট্ট এক ছেলে। কাছেই অবস্থান করায় তার অবস্থাটা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হল। শুনলাম, অশ্লীল শব্দে গালি দিচ্ছে সে। আমি আশ্চর্যবোধ করলুম। হায়! হায়! এখানে সে গালি কাকে দিচ্ছে? কেউ তো তাকে ধাক্কা মারেনি! কেউ তাকে ঠেলে ফেলেও দেয়নি! তাহলে কাকে গালি দিচ্ছে সে? তার নিজেকে? তার বাবা-মাকে? এই সমাজ কিংবা দেশকে? না কি আমাদের দুরবস্থাকে? নিজের কাছে নিজে লজ্জিত হলাম। প্রশ্নগুলো মাথার ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছিল। আমাদের অবস্থা কোথায় যাচ্ছে দিনকে দিন? এই সমাজ এই দেশ আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? ভদ্রতা, শালীনতা, সৌজন্যবোধ এসব কি ধীরে ধীরে একেবারেই উঠে যাবে? মূলত: এই ছেলেটির পড়ে যাওয়ায় সে দু:খ পেয়েছে। সে কারণে আমিও কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু তাতে যে কষ্ট পেয়েছিলুম, তার গালি-গালাজ শুনে যে কষ্টটা পেলুম সেটা আরও বেশি। তার এক্ষেত্রে বলার ছিল- 'ইন্না- লিল্লাহ'। কষ্ট, মুসিবতে পড়ার দুআ এটিই। যা-ই হোক, ছেলেটি হয়তো জানে না। তার জন্য শুভকামনা।

দৈনন্দিন জীবনের প্রতি পরতে পরতে আমাদের নিত্য পঠিতব্য কিছু দুআ-কালাম উপহার দিয়েছে ইসলাম। এগুলো ইতোপূর্বেও আলোচনা করেছি। তবু আরেকবার চোখ বুলিয়ে নেয়ার জন্য এই পোস্টের অবতারণা। সকলের কল্যান হোক।

এক. কোন কাজের উদ্দেশ্যে ঘর হতে বের হওয়ার সময়:

'বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ। লা- হাওলা ওয়ালা- কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।'

অর্থ - 'আল্লাহ তাআ'লার নামে তাঁর প্রতি ভরসা করছি। আল্লাহ তাআ'লা ব্যতিত আমার অবস্থার পরিবর্তন (ভালো কিংবা মন্দ) করার শক্তি কারও নেই।'

দুই. পরস্পর সাক্ষাত হলেঃ

'আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।'

অর্থ - 'আল্লাহ তাআ'লার পক্ষ থেকে আপনার উপর শান্তি ও রহমত অবতীর্ণ হোক।'

তিন. সালামের উত্তরেঃ

'ওয়া আলাইকুমুস সালামু ওয়া রহমাতুল্লাহ।'

অর্থ - 'আপনার উপরও অনুরূপ আল্লাহ তাআ'লার পক্ষ হতে শান্তি এবং রহমত বর্ষিত হোক।'

চার. 'মুসাফাহা করার সময়:

'ইয়াগফিরুল্লাহু লানা- ওয়ালাকুম।'

অর্থ - 'আল্লাহ তাআ'লা আমাদের ও আপনাদের ক্ষমা করুন।'

পাঁচ. যে কোনো কাজ আরম্ভ করার পূর্বেঃ

'বিসমিল্লাহ্।'

অর্থ - 'আল্লাহ তাআ'লার নামে শুরু করছি।'

ছয়. ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার আশা প্রকাশেঃ

'ইনশা-আল্লাহ্।'

অর্থ - 'আল্লাহ যদি চান তাহলে হবে।'

সাত. বিস্ময়কর কোনো বিষয় দেখলেঃ

'সুবহানাল্লাহ্।'

অর্থ – 'আল্লাহ তাআ'লার পবিত্রতা ঘোষনা করছি। কতই না সুন্দর তিনি! তাঁর সৃষ্টিতে কোন ভুল নেই!! নিখুঁত সৃষ্টিকারী তিনি!!!'

আট. আনন্দ উল্লাসের বিষয় উপস্থিত হলেঃ

'মারহাবা।'

অর্থ – 'কি চমৎকার হয়েছে!!!'

নয়. কোন কাজ সম্পূর্ণ হলেঃ

'মা- শা-আল্লাহ্।'

অর্থ -'আল্লাহ তাআ'লা যা চেয়েছেন তাই হয়েছে।'

দশ. আল্লাহ তাআ'লার প্রশংসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে:

'আল হামদুলিল্লাহ।'

অর্থ - 'সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআ'লার জন্য।'

এগারো. রাগান্বিত হলেঃ

'আউযুবিল্লাহ।'

অর্থ - 'শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।'

বারো. ধন্যবাদ জ্ঞাপনেঃ

'যাজাকাল্লাহ।'

অর্থ – 'আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।'

তের. শত্রুকে পরাস্ত করতেঃ

'আল্লাহু আকবার।'

অর্থ — 'আল্লাহ সবার চেয়ে অধিক কৌশলী।'

চৌদ্দ. সাক্ষ্য বা শপথ নেয়ার সময়ঃ

'অল্ল-হি বা কছম আল্লাহর নামে।'

অর্থ – 'তোমার ও আমার মাঝে আল্লাহ সাক্ষী রইল।'

পনের. হাঁচি দেয়ার পরঃ

'আলহামদুলিল্লাহ্।'

অর্থ - 'সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআ'লার জন্য।'

ষোল. অন্য কেউ হাঁচি দিলেঃ

'ইয়ারহামুকাল্লাহ্।'

অর্থ - 'আল্লাহ তাআ'লা আপনার উপর রহম করুন।'

সতের. কেউ কুশলাদি জিজ্ঞাসা করলে তার জবাবেঃ

'আলহামদুলিল্লাহ্।'

অর্থ - 'সকল অবস্থায় প্রশংসা আল্লাহর জন্য।'

আঠারো. পাপের অনুশোচনায়ঃ

'আসতাগফিরুল্লাহ্।'

অর্থ - 'আল্লাহ তাআ'লার নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।'

উনিশ. পরোপকার করার সময়ঃ

'ফি সাবিলিল্লাহ্।'

অর্থ - 'সব কিছুই আল্লাহ তাআ'লার জন্য।'

বিশ. কাউকে ভালোবাসলেঃ

'লিহুব্বিল্লাহ্।'

অর্থ - 'আল্লাহর জন্যই আপনাকে ভালবাসি।'

একুশ. কারো শুভ কামনায়ঃ

'মোবারকবাদ।'

অর্থ — 'আল্লাহ আপনার জীবন সুন্দর করুন।'

বাইশ. বিদায়ের সময়ঃ

'ফি- আমানিল্লাহ্।'

অর্থ – 'আপনাকে আল্লাহ তাআ'লার আমানতে অর্পন করলাম।'

তেইশ. সমস্যা দেখা দিলেঃ

'তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ।'

অর্থ - 'এ সমস্যায় একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করছি।'

চব্বিশ. অপ্রীতিকর কিছু দেখলেঃ

'নাউ-যুবিল্লাহ্।'

অর্থ - 'হে আল্লাহ, এই অবস্থায় নিপতিত হওয়া থেকে আমাকে রক্ষা করুন।'

পচিশ. আনন্দদায়ক নতুন কিছু এসে গেলেঃ

'ফাতাবা-রাকাল্লাহ।'

অর্থ – 'কতই না সুন্দর বরকতময় আমাদের আল্লাহ।'

ছাব্বিশ. ঘুমথেকে জাগ্রত হওয়ার পরঃ

'আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা- বা'দা মা- আমা-তানা ওয়া ইলাইহিন্নুশূর।'

অর্থ – 'সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ তাআ'লার জন্য যিনি মৃত্যুর পরে পুনরায় আমাকে জীবন ফিরিয়ে দিলেন। আর সকল কিছুর প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে।'

সাতাশ. প্রার্থনায় অংশগ্রহণ শেষেঃ

'রব্বানা- ওয়া তাক্কাব্বাল দুআ।'

অর্থ - 'হে আল্লাহ, আমার দরখাস্ত কবুল করুন।'

আটাশ. কষ্ট, যন্ত্রণা ও মৃত্যুভয় উপস্থিত হলেঃ

'লা-ইলাহা- ইল্লাল্লাহ।'

অর্থ - 'হে আল্লাহ, আপনি ছাড়া আমার কেউ দয়ালু নেই।'

উনত্রিশ. কারো মৃত্যু সংবাদ শুনলেঃ

'ইন্নালিল্লাহি-ওয়া-ইন্না ইলাইহি রাজিউন।'

অর্থ – 'আমরা সবাই আল্লাহ তাআ'লার জন্য। আর আমাদের প্রত্যাবর্তনও তাঁরই নিকটে।'

পরিশেষে: ছোট ছোট এসব দুআ সাওয়াবেরও ভান্ডার। উল্লেখিত এই দুআগুলোসহ প্রাত্যাহিক জীবনে পঠিতব্য আরও যেসব দুআ রয়েছে সেগুলো সঠিকভাবে জেনে সুন্দরভাবে এর প্রাকটিসের মাধ্যমে আমাদের দৈনন্দিন জীবন আলোকিত হোক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা অামাদের সবাইকে সুন্নাত মোতাবেক চলার তৌফিক দান করুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ১০:৩১
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শত্রুর শত্রু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩



বিয়ের মঞ্চে বসে আছি। মঞ্চ বলতে চকির মতো একটা খাট, তার সম্ভাবত এক পা ছোট বা নাই, কারন সামান্য নাড়াচাড়ায় খাটা টালমাটাল হয়ে একদিকে কাত হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ব্লু মার্লিন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৭



ইনানী বিচের এক কোণে নির্জন কটেজে বসে ৪৪ বছর বয়সী রসায়নের প্রফেসর রেহান আশরাফ যখন তার ডায়েরির পাতায় মার্সিডিজ S-Class গাড়ির এসি সিস্টেমের ড্রয়িং করছিলেন, তখন তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাফিয়া ট্রাম্পের নজর এবার ফুটবল বিশ্বকাপে....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


একটা ফোন কল কতটা শক্তিশালী হতে পারে, সেটা এবার হাড়ে হাড়ে টের পেল গোটা ফুটবল দুনিয়া। বসনিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে মার্কিন ফুটবলার বালোগুনের নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল বেলজিয়াম... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি আমি চিরন্তন

লিখেছেন সামিয়া, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০৮



মানুষজন আমাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার সঙ্গে নাকি আর যোগাযোগ নেই? আমি শুধু হাসি। কীভাবে বোঝাই, কথা না হলেও কিছু মানুষ প্রতি রাতেই এসে মনের ভেতর চুপচাপ বসে থাকে; ঘুমানোর প্রস্তুতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×