somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

যেভাবে বরণ করে নিব মহিমান্বিত মাহে রমজানকে

২৪ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি, সংগৃহীত।

যেভাবে বরণ করে নিব মহিমান্বিত মাহে রমজানকে

আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার অশেষ অনুগ্রহ, অফুরান করুণা আর তাকওয়া অর্জনের শাশ্বত পয়গাম নিয়ে আমাদের দোরগোড়ায় বছর ঘুরে আবারও হাজির মহিমান্বিত মাস রমাজানুল মোবারক। শত কষ্টের মাঝেও মুমিন হৃদয়ে সুখের শিহরণ। আনন্দের ঢেউ জাগে বিশ্ব পারাপারে।

রমজান আমলের মাস:
পবিত্র রমজান রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস। অপার বরকতের এ মাসে মুমিন বান্দাগণ দৈনন্দিন সালাত আদায় ও তাকওয়ার সোপান সিয়াম সাধনার পাশাপাশি সালাতুত তারাবিহ, তাহাজ্জুদ, কুরআন কারিম তেলাওয়াত, দান-সদকাহ ইত্যাদি ইবাদতে অধিক মনযোগী হয়ে নিজেদেরকে মহান প্রভুর কাছে সপে দেবেন, তাঁর প্রিয় হতে আত্মনিয়োগ করবেন। তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করবেন।

আমল করি একটি সুন্নতে :
শা’বান মাসের শেষে আকাশে রমাজানের নতুন চাঁদ উদিত হলে রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট দোয়া পড়ে মহিমান্বিত এ মাসকে বরণ করতেন। রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃতপ্রায় সুন্নত এ আমলটি জিইয়ে রাখতে আমাদের সকলকে আগ্রহ নিয়ে চাঁদ দেখতে সচেষ্ট হতে হবে। এটিকে সার্বজনীন করে তুলতে একে অপরকে উৎসাহিত করতে হবে। রাসুল সা. বলেন- ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখো এবং চাঁদ দেখে ভঙ্গ করো অর্থাৎ, ঈদ করো।' (সহিহ মুসলিম)

চাঁদ দেখে পড়ার দুআ:
রমজান মাসের শুরুতে রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নতুন চাঁদ দেখে এ দোয়া পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল-য়ুমনি ওয়াল ঈমান, ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।’ অর্থাৎ: হে আল্লাহ, আপনি আমাদের জন্য এ চাঁদকে সৌভাগ্য ও ঈমান এবং শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদিত করুন। আল্লাহই আমার ও তোমার রব। (জামে’ তিরমিজি)

হাদিসে খোশখবরি দেয়া হয়েছে, ইবাদতের বসন্তকাল অবারিত পুণ্যের এ মাসে, একটি নফল ইবাদত অন্য মাসের ফরজ এবং একটি ফরজ ইবাদত অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ ইবাদত এর পুণ্য সমতুল্য।

পবিত্রা এই মাস মুমিনদের জন্য মহান প্রভুর পক্ষ থেকে মহা অনুগ্রহ। এ মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জনের, অবারিত পুণ্য চাষের। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

‘হে মুমিনগণ, তোমাদের জন্য সিয়াম সাধনার বিধান দেয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দেয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পারো।’ (সুরা বাকারাহ : ১৮৩)

এক হাদিসে এসেছে। রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে তার পূর্বের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারী, মুসলিম)

আরেকটি হাদিসে রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘বেহেশতের ৮টি দরজা রয়েছে, এর মধ্যে ১টি দরজার নাম রাইয়ান। রোজাদার ব্যতিত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (বুখারী, মুসলিম)



অপার বরকতময় এ মাসে মহান আল্লাহ তায়ালা মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল করেছেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلاَ يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ اللّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

‘রমজান মাস, এতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়াতের জন্য এবং হিদায়াতের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে…’ (সুরা বাক্বারাহ : ১৮৫)

রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় প্রতি রমজান মাসে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসতেন, কুরআন তেলাওয়াত করতেন, রাসুল সা. শুনতেন। আবার রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেলাওয়াত করতেন, জিবরাঈল আ. শুনতেন।

কুরআন নাজিলের এ মাসে ধরণীর পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র সর্বস্তরের মুমিনগণ কুরআন তেলাওয়াত শিখা-শিখানো, বুঝা-বুঝানো এবং কুরআনের আলোকে জীবন ও সমাজ সাজানোর কাজে অপরাপর মাসের তুলনায় অধিক মনযোগী হন। পুণ্যময় এ কাজে আমাদের সকলকে অংশগ্রহণ করতে হবে। নিজেকে, পরিবারের সকল সদস্যকে, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনসহ প্রতিটি মুমিন ভাই-বোনকে শুদ্ধভাবে কুরআন তেলাওয়াতে সক্ষম করতে সচেষ্ট হতে হবে৷ বিশেষত রমজান মাসে এটিকে আমাদের মিশন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ ঐশীগ্রন্থ আল কুরআন এবং মহিমান্বিত রমজানুল মোবারক এর অন্যতম দাবিও এটি আমাদের প্রতি। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-

وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا

‘তোমরা ধীরে ধীরে বিশুদ্ধভাবে কোরআন আবৃত্তি করো।’ (সুরা মুজ্জাম্মিল : ৪)

বলা বাহুল্য আল্লাহর দরবারে সালাত কবুল হওয়ার জন্য সালাতে বিশুদ্ধ তেলাওয়াত অপরিহার্য।

অপরদিকে মহৎ এ কাজে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে আমরা হয়ে যাবো উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানুষ। রাসুল সা. বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সেই, যে কোরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়’। (সহিহ বোখারি)

প্রার্থনা :
আসুন, আমরা আল্লাহ তায়ালার নির্দশনা অনুসারে রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রদর্শিত পথে পবিত্র রমজানে সকল আমল সহিহ এবং সুন্দরভাবে পালন করে আল্লাহ পাকের প্রিয় বান্দাদের কাতারে শামিল হয়ে নিজেদের ভাগ্যকে বুলন্দ করি। পবিত্র কুরআনের আলোয় আলোকিত হোক আমাদের এবারের রমজান, রমজানের বরকতে ধরাধামে ফিরে আসুক প্রাণের স্পন্দন। করোনার ছোবল থেকে রমজানের বরকতে মুক্তি পাক বিশ্বব্যাপী অগণিত মানুষ। আলোকোদ্ভাসিত হোক গোটা জগত পবিত্র রমজানের স্নিগ্ধ আলোকোচ্ছটায়।

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১০:৫৭
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×