somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

মসজিদে নববীর দরজাসমূহঃ

০৮ ই জুন, ২০২০ দুপুর ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ অন্তর্জাল।

মসজিদে নববীর দরজাসমূহঃ

দৃষ্টিনন্দন মসজিদে নববী। প্রথম দর্শনেই হৃদয় কাড়ে। চক্ষু জুড়ায়। অন্তর বিগলিত হয়। প্রাণ আকুল হয়। কি অসাধারণ নির্মানশৈলী! কি সুরম্য স্থাপনা! কি নিপুন কারুকাজ! কি বিপুল সৌন্দর্য্যের হাতছানি! কি মনমাতানো রংয়ের খিলান! এ মসজিদের টানে মন ছুটে যায় সুদূর মদীনাপানে। আশেকের মন উতলা হয়। সকাল বিকাল সন্ধ্যা রাতে কখনো এ মসজিদের পরশ থেকে দূরে সরে যেতে পারি না! পারি না, পারি না, পারি না! কারণ, এখানে শুয়ে আছেন যে প্রিয় নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এ মসজিদের সাথে আত্মার সম্পর্ক, হৃদয়ের গহীনে ছবি আঁকা প্রিয় এ মসজিদের! এখানে যাওয়ার জন্য মন অধির আগ্রহে অপেক্ষায় থাকে! জীবনভরের চোখের অশ্রুর দামে একটিবার প্রিয় নবীজির রওজা মুবারকের পাশে প্রিয় এই মসজিদে হাজিরা দেয়ার বাসনা কত লক্ষ কোটি রাসূল প্রেমিককে পাগলপ্রায় করেছে যুগে যুগে! এখানে প্রবেশ করতে পারলে অন্তর জুড়িয়ে যায়। মন ভালো হয়ে যায়। তাপিত হৃদয়ে প্রশান্তির পরশ আসে।

মসজিদে নববী বিশ্ব মুসলিম জাতির প্রাণের স্পন্দন। মদীনাতুল মুনাওয়ারায় সাইয়্যিদুল কাওনাইন ওয়াসসাক্কালাইন সারওয়ারে দু'জাহান প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর হাতে গড়া পবিত্র এই মসজিদকে ঘিরে আছে ইসলামের ইতিহাসের অসংখ্য অগণিত স্মৃতি। এই মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল মুসলিম জাহানের বিশালায়তন অবয়ব। রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সময় এই মসজিদকে ঘিরে পরিচালিত হত যাবতীয় সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ড। মক্কাতুল মুকাররমায় অবস্থিত পবিত্র বাইতুল্লাহর পরে মুসলমানদের নিকট সম্মান এবং মর্যাদার আসনে সমাসীন এই মসজিদ। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সময়ে মসজিদে নববী যে অবস্থায় ছিল, পূর্বের সেই অবয়বে কালের বিবর্তনে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সময় মসজিদে নববীতে প্রবেশের জন্য তিনটি পথ ছিল, দক্ষিণে বাবুর রহমাহ, পশ্চিমে বাব ই জিবরাইল এবং পূর্ব দিকে বাবুন নিসা, যদিও এর আগে এই দরজাগুলি এই নামে চিহ্নিত করা হয়নি। পরবর্তীতে প্রয়োজনানুপাতে বিভিন্ন সময়ে মসজিদের আয়তন বৃদ্ধি করার সাথে সাথে প্রবেশের পথ তথা দরজার সংখ্যাও বাড়ানো হয়। বর্তমানে মসজিদে নববীতে প্রবেশের মোট ৪৩ টি দরজা রয়েছে (দরজা, পোর্টাল এবং প্রবেশ পথ)। এসব দরজার প্রতিটির উপরে একটি পাথরের ফলক রয়েছে যার উপরে লিখিত রয়েছে কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত:

ادْخُلُوهَا بِسَلاَمٍ آمِنِينَ

'বলা হবেঃ এগুলোতে নিরাপত্তা ও শান্তি সহকারে প্রবেশ কর।' -সূরাহ আল হিযর, আয়াত-৪৬

(Their greeting will be): "Enter ye here in peace and security."

শেষের প্রার্থনাঃ

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা আমাদের প্রত্যেককে প্রিয় নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর স্মৃতিধন্য মসজিদে নববীর পবিত্র প্রাঙ্গনে বারবার ছুটে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। মদীনার সাথে, মদীনাওয়ালা সাইয়্যিদুল মুরসালীন সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সাথে আমাদের আত্মার যে সম্পর্ক তাকে আরও মজবুত করুন। তাঁর অমলিন আদর্শের আলোকোচ্ছটায় আলোকিত, উদ্ভাসিত হোক পাপে নিমগ্ন আজকের পৃথিবী। মদীনাওয়ালার শাফাআত নসিব করে ধন্য করুন আমাদের পারকালীন জীবন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০২০ দুপুর ১২:৩৪
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×