somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

চীনে হাজার হাজার মসজিদ ধ্বংস, ১০ লক্ষাধিক মুসলিমকে ধর্মত্যাগে বাধ্যকরণঃ

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বুলড্রোজার দিয়ে একটি মসজিদ ভাঙ্গার দৃশ্য, ছবি সূত্রঃ বুলডোজার দিয়ে মসজিদ ভাঙছে চীন

চীনে হাজার হাজার মসজিদ ধ্বংস, ১০ লক্ষাধিক মুসলিমকে ধর্মত্যাগে বাধ্যকরণঃ

শিনজিয়াং প্রদেশের হাজার হাজার মসজিদ একেবারে গুঁড়িয়ে বা ক্ষতিগ্রস্থ করে দিয়েছে চীন। সেইসঙ্গে প্রায় ১০ লক্ষ মুসলিমকে জোরপূর্বক তাদের ধর্মীয় আচার পালন ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের (এএসপিআই) রিপোর্টে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণ করে এএসপিআই রিপোর্ট বলছে, গত তিন বছরে প্রায় ১৬ হাজার মসজিদ পুরোপুরি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্থ করে দিয়েছে চীন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিনজিয়াংয়ে মসজিদের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ৮৫০০ মসজিদ পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ১৫ হাজারের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্থ করে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এসব মসজিদ পুরোপুরি ধ্বংস করে না দিলেও মিনার ও গম্বুজ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

চীন সরকার উইঘুর মুসলিমদের এসব ধর্মীয় স্থাপনা সুরক্ষিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

ঐ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, উইঘুর মুসলিম ও তুর্কিভাষী ১০ লাখের বেশি মুসলিমকে রাখা হয়েছে বন্দিশিবিরে। এসব মুসলিমদের জোর করে ধর্মীয় কাজকর্ম ও ঐতিহ্য ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, উইঘুরদের ধর্মীয় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলেও খ্রিস্টানদের গীর্জা এবং বৌদ্ধ মন্দিরের কোনওটিই ক্ষতিগ্রস্থ বা ধ্বংস হয়ে যায়নি।

এএসপিআই'র তাদের প্রতিবেদনে আরো জানিয়েছে, শিনজিয়াংয়ে মুসলিমদের এক তৃতীয়াংশ ধর্মীয়স্থান- মাজার, কবর ও তীর্থের পথ মুছে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকক পোষ্ট, গার্ডিয়ান, এপি,



নির্যাতিত উইঘুর মুসলিমদের পাশে নেই আরব দেশগুলো, ফেরত পাঠানো হচ্ছে চীনেঃ

নির্যাতিত উইঘুর মুসলিমদের পাশে নেই তাদের স্বজাতি আরব দেশগুলো। তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর পরিবর্তে বরং কোনো চাইনিজ মুসলিমকে আশ্রয় কিংবা সামান্য সহযোগিতা না করে তাদেরকে ধরে ধরে ফেরত পাঠানো হচ্ছে চীনে। এর কারণ হচ্ছে, আরব দেশগুলো উদীয়মান পরাশক্তি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে অধিক মনোযোগী। উইঘুর মুসলিমগণের বাঁচা মরা তাদের কাছে নিতান্তই গৌণ এক্ষেত্রে। এ কারণে আরব দেশগুলো এখন চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের পদক্ষেপ হিসেবে পালিয়ে আসা অভিবাসী প্রত্যাশী উইঘুর মুসলিমদের গ্রেপ্তার করে চীনে ফেরত পাঠাতে শুরু করেছে। অবশ্য এসব অভিযোগ বরাবরের মতই প্রত্যাখ্যান করেছে আরব দেশগুলো এবং চীন।

জানা গেছে, বেইজিংয়ের সঙ্গে মিলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরসহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো অনেক উইঘুর শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের হয়রানি করছে। এক উইঘুর নারীর অভিযোগ, নিজের স্বামীকে পাঁচ বছর ধরে দেখছেন না তিনি। সৌদি আরবে হজ পালনের সময় গ্রেপ্তার করে তার স্বামীকে চীনে ফেরত পাঠানো হয়।

বর্তমানে তুরস্কে অবস্থান করা ওই নারী বলেছেন, আমাদের সন্তানেরা পিতৃহীন হয়ে পড়েছেন। আমরা নিজ থেকেই এখানে চলে এসেছি। চীন সরকার ২০১৪ সাল থেকে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জিনজিয়াং প্রদেশে স্বাধীনতাকামী উইঘুর মুসলিমদের ওপর নিপীড়নমূলক অভিযান চালিয়ে আসছে। কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান ও মঙ্গোলিয়া সীমান্তঘেঁষা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলটি ১৯৪৯ সাল থেকে চীনের নিয়ন্ত্রণে।



বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জিনজিয়াং প্রদেশে প্রায় ১ কোটি উইঘুর মুসলমানের বসবাস। সেখানে তাদের আধিপত্য টেনে ধরতে চীন সরকার আদিবাসী চাইনিজ হান জাতিগোষ্ঠীর বসতি বাড়াচ্ছে। ফলে দিন দিন সংখ্যালঘুতে পরিণত হচ্ছে উইঘুররা।

অনেকের দাবি, অন্তত ১০ লাখ উইঘুরকে চীনের বিভিন্ন বন্দিশালায় আটক করে রাখা হয়েছে। তাদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অনেক অধিকার সংস্থার দাবি। এমন অবস্থায় অনেক উইঘুর মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। এখন এসব আরব দেশেও তাদের স্বস্তি মিলছে না।

মধ্য প্রাচ্যের উইঘুরদের নিয়ে কাজ করা উইঘুর অধিকারকর্মী আব্দওয়েলি আয়ুপ বিবিসিকে বলেছেন, তিনি এমন পাঁচজন উইঘুরের খবর পেয়েছেন তাদের সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ তাদের চীনে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন বলে জানান আয়ুপ।

এদিকে, চীনের অনুরোধের প্রেক্ষিতে মিসর সম্প্রতি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা অন্তত ১২ জন উইঘুর শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে এবং কয়েক ডজন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও এ ধরনের খবর পাওয়া গেছে। সূত্র : বিবিসি।



সূত্রঃ Thousands of Xinjiang mosques destroyed or damaged, report finds

Thousands of mosques demolished in Xinjiang

Nearly 16,000 mosques destroyed in Xinjiang by China: Australian think tank

China accused of demolishing thousands of mosques to ‘erase’ Uighur culture

Cultural erasure

China demolished around 16,000 mosques in recent years: Report

8,500 mosques demolished in Xinjiang in past 3 years: report

China Razed Thousands of Xinjiang Mosques in Assimilation Push, Report Says

China demolished thousands of mosques in .. Read more at: Click This Link

চীনে মসজিদ ভাঙ্গার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে মুসলিমরা

চীনে হাজার হাজার মসজিদ ধ্বংস, ১০ লক্ষ মুসলিমকে 'ধর্মত্যাগ'

'হাজার হাজার মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছে তারা'

বুলডোজার দিয়ে মসজিদ ভাঙছে চীন

জিনজিয়াংয়ে কয়েক হাজার মসজিদ ধ্বংসের বিষয়ে যা বলল চীন

চীনের নিংজিয়া এলাকায় মধ্যপ্রাচ্যের আদলে তৈরি করা নবনির্মিত ওয়েইজু গ্র্যান্ড মসজিদটি তৈরিতে যথাযথ অনুমোদন না নেয়ার অযুহাতে ভেঙ্গে দেয়ার ঘোষনায় মসজিদটিকে ভেঙ্গে দেবার হাত থেকে রক্ষা করতে শতশত মুসলমান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। ১০ অগাস্ট ২০১৮ ইং তারিখ এই সংবাদটি প্রকাশিত হয় বিবিসি অনলাইনে। পরবর্তীতে এই মসজিদ এবং এর মুসল্লিদের ভাগ্য কোন দিকে মোড় নিয়েছে, চীনের কট্টরপন্থী কমিউনিস্ট শাসকদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার এই দুঃসময়ে তা আর জানা সম্ভব হয়নি।

হয়তো সুদর্শন এই মসজিদটিও গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে! হয়তো এর নির্মাতা, রক্ষনাবেক্ষনকারী এবং মুসল্লিদেরও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্পে!

দুর্দমনীয় চায়নিজদের থামাবে কে? ওদের এই অব্যাহত অত্যাচার, অপরিমেয় জুলূম এবং সীমাহীন বাড়-বাড়ন্তর লাগাম টেনে ধরার এই পৃথিবীতে কি কেউই নেই? কেউ নেই? কেহই নেই?
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:২৮
১৯টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×