somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মিরাজ এবং সে রাতে তাঁর দেখা কিছু অপরাধীর শাস্তিঃ

১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ অন্তর্জাল।

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মিরাজ এবং সে রাতে তাঁর দেখা কিছু অপরাধীর শাস্তিঃ

মিরাজ বা স্বশরীরে উর্ধ্বারোহন অথবা উর্ধ্বগমন রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনের বিস্ময়কর মুজিজাগুলোর অন্যতম। মিরাজ শব্দটি 'আল আরজ' মূল ধাতু থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ- উর্ধ্বারোহন বা উর্ধ্বগমন। মিরাজের বিষয়টি পবিত্র কুরআনের আয়াত দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমানিত বিধায় বিস্ময়কর এই ঘটনাকে অবিশ্বাস করার নূন্যতম কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা কুরআনে হাকিমে ইরশাদ করেন-

سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ

পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম (বাইতুল্লাহ শরিফ, মক্কাতুল মুকাররমা) থেকে মসজিদে আকসা (বাইতুল মুকাদ্দাস, জেরুজালেম, ফিলিস্তিন) পর্যান্ত- যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল। -সূরা ইসরা, আয়াত-০১

Glory to ((Allah)) Who did take His servant for a Journey by night from the Sacred Mosque to the farthest
Mosque, whose precincts We did bless,- in order that We might show him some of Our Signs: for He is the One Who heareth and seeth (all things).

মিরাজের পরিভাষাগত অর্থঃ

পরিভাষায় মিরাজ হলো, মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সশরীরে সজ্ঞানে জাগ্রত অবস্থায় হজরত জিবরাইল (আ.) ও হজরত মিকাইল (আ.) এর সঙ্গে বিশেষ বাহন বোরাকের মাধ্যমে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা হয়ে প্রথম আসমান থেকে একে একে সপ্তম আসমান এবং সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত এবং সেখান থেকে একাকী রফরফ বাহনে আরশে আজিম পর্যন্ত ভ্রমণ; মহান রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ ও জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন করে পুনরায় পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করে চলে আসা।

মিরাজকে 'ইসরা' বলা হয়েছে কুরআনের ভাষায়ঃ

মিরাজ বুঝাতে কুরআনে হাকিমে যে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে তা হচ্ছে 'ইসরা'। 'ইসরা' অর্থ রাত্রিকালীন ভ্রমণ। যেহেতু নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিরাজ রাত্রিকালে হয়েছিল, তাই এটিকে 'ইসরা' বলা হয়। বিশেষত বায়তুল্লাহ শরিফ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত সফরকে ইসরা বলা হয়ে থাকে।

যখন যেভাবে সংঘটিত হয়েছিল মিরাজঃ

নবুওয়াতের ১১তম বছরের (৬২০ খ্রিষ্টাব্দ) রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে সংঘটিত হয়েছিল পবিত্র মিরাজ। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বয়স সে সময় ৫১ বছর। প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথমে কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন এবং সেখানে তিনি নবীদের জামায়াতে ইমামতি করেন। অতঃপর তিনি বোরাক নামক বিশেষ বাহনে আসীন হয়ে ঊর্ধ্বলোকে গমন করেন। সফরসঙ্গী জিবরাইল আলাইহিস সালামকে সাথে নিয়ে সিদরাতুল মুনতাহায় উপনীত হন। অতঃপর সেখান থেকে, অনন্ত শুন্যতার সেই অচিন্ত্যনীয় নূরের জগতে তাঁর একাকি পথচলার পালা। কারণ, নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদেরও এরপরে আর উপরে যাওয়ার অনুমতি নেই যে! তাই আল্লাহ তাআ'লার হাবিব একাকি রওনা দিলেন। সিদরাতুল মুনতাহা থেকে। এই পর্যায়ে তাঁর বাহনেও পরিবর্তন আসে। বোরাকের চেয়ে আরও উর্ধ্বগতির, আরও বিমলিন আলোক প্রভায় দেদীপ্যমান, আরও তেজদীপ্ত, আরও জাঁকজমকপূর্ণ রফরফ নামক বিশেষ বাহন আসে তাকে বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার দীদার লাভের উদ্দেশ্যে রফরফে আসীন হয়ে তিনি পৌঁছে যান আরশে আজীমে। মোলাকাতলাভে ধন্য হন কুল কায়েনাতের স্রষ্টার। মহান মালিকের দীদারলাভে তৃপ্ত-পরিতৃপ্ত-প্রশান্ত হয় তাঁর পিপাসার্ত অন্তর।

মিরাজ হয়েছিল সশরীরে এবং প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জাগ্রত অবস্থায়ঃ

মিরাজ সংঘটিত হয়েছিল সশরীরে এবং প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জাগ্রত অবস্থায়। এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ হচ্ছে- কাফের, মুশরিক ও মুনাফিকদের মিরাজের ঘটনাকে অবিশ্বাস করা এবং এ ঘটনাকে অস্বীকৃতি জানানো। যদি আধ্যাত্মিক বা রুহানিভাবে অথবা স্বপ্নযোগে মিরাজের ঘটনা সংঘটিত হওয়ার কথা বলা হতো, তাহলে তাদের অবিশ্বাস করার কোনো কারণ ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই তারা এটিকে মেনে নিতেন। কারণ, তখন তাদের কাছে মনে করা স্বাভাবিক ছিল যে, স্বপ্নে তো মানুষ অবিশ্বাস্য, অলৌকিক বা অসম্ভব কোনো কাজ করার ঘটনা দেখতেই পারে। সুতরাং, এটিও এমনই একটি ঘটনা মাত্র। কিন্তু তাদের অবিশ্বাস এবং অস্বীকারের ঘটনা প্রমান করে যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্বশরীরে জাগ্রত অবস্থায় মিরাজকে তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি।

পবিত্র কুরআন এবং সহি হাদিসে মিরাজ প্রসঙ্গঃ

মিরাজের বিবরণ পবিত্র কুরআনের সুরা নাজম এবং সুরা ইসরার পূর্বোক্ত আয়াতে বিবৃত হয়েছে। হাদিস শরিফ, বুখারি শরিফ, মুসলিম শরিফ, সিহাহ সিত্তাসহ অন্যান্য কিতাবে এই ইসরা ও মিরাজের বিষয়টি নির্ভরযোগ্য বিশুদ্ধ সূত্রে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। সূরা নাজমে আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى

‘শপথ নক্ষত্রের যখন তা বিলীন হয়।

By the Star when it goes down,-

مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى

তোমাদের সাথি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিপথগামী হননি এবং বিভ্রান্ত হননি।

Your Companion is neither astray nor being misled.
(
وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى

এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় তিনি নিজে থেকে কোনো কথা বলেন না।

Nor does he say (aught) of (his own) Desire.

إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى

(বরং তিনি যা বলেন) তা প্রদত্ত ওহি (ভিন্ন অন্য কিছু) নয়।

It is no less than inspiration sent down to him:

عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى

তাকে শিখিয়েছেন মহাশক্তিধর (জিবরাইল আ.)।

He was taught by one Mighty in Power,

ذُو مِرَّةٍ فَاسْتَوَى

তিনি (জিবরাইল আ.) পাখাবিশিষ্ট, তিনি স্থিত হয়েছেন।

Endued with Wisdom: for he appeared (in stately form);

وَهُوَ بِالْأُفُقِ الْأَعْلَى

উর্ধ্ব দিগন্তে,

While he was in the highest part of the horizon:

ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّى

অতঃপর নিকটবর্তী হল ও ঝুলে গেল।

Then he approached and came closer,

فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى

তারপর হলো দুই ধনুকের প্রান্তবর্তী বা আরও নিকট।

And was at a distance of but two bow-lengths or (even) nearer;

فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى

পুনরায় তিনি ওহি করলেন তাঁর বান্দার প্রতি যা তিনি ওহি করেছেন।

So did ((Allah)) convey the inspiration to His Servant- (conveyed) what He (meant) to convey.

مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى

রসূলের অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখেছে।

The (Prophet's) (mind and) heart in no way falsified that which he saw.

أَفَتُمَارُونَهُ عَلَى مَا يَرَى

তোমরা কি সন্দেহ করছ তাকে, যা তিনি দেখেছেন সে বিষয়ে।

Will ye then dispute with him concerning what he saw?

وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى

আর অবশ্যই দেখেছেন তিনি তাকে দ্বিতীয় অবতরণ স্থলে;

For indeed he saw him at a second descent,

عِندَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى

সিদরাতুল মুন্তাহার নিকটে,

Near the Lote-tree beyond which none may pass:

عِندَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَى

তার নিকটেই জান্নাতুল মাওয়া।

Near it is the Garden of Abode.

إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى

যখন ঢেকে গেল সিদরা যা ঢেকেছে;

Behold, the Lote-tree was shrouded (in mystery unspeakable!)

مَا زَاغَ الْبَصَرُ وَمَا طَغَى

তাঁর দৃষ্টিবিভ্রম হয় নি এবং সীমালংঘনও করেনি।

(His) sight never swerved, nor did it go wrong!

لَقَدْ رَأَى مِنْ آيَاتِ رَبِّهِ الْكُبْرَى

অবশ্যই তিনি দেখেছেন তাঁর রবের বড় বড় নিদর্শনসমূহ।’ -সুরা আন নাজম, আয়াত: ১-১৮

For truly did he see, of the Signs of his Lord, the Greatest!

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিরাজ রজনীতে যেসব অপরাধীর শাস্তি প্রত্যক্ষ করেনঃ

মিরাজ রজনীতে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নানা শ্রেণির অপরাধীর করুণ পরিণতি বা শাস্তি প্রত্যক্ষ করেন, যার বিবরণ বিশ্বস্ত সূত্রযোগে কুতুবে হাদিস এবং সীরাত গ্রন্থগুলোতে বিদ্যমান। এখানে আমরা রসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রত্যক্ষ করা কয়েক শ্রেণির জঘন্য পাপীদের শাস্তি স্বয়ং প্রিয় নবীজীর জবানীতে হাদিস থেকে শুনবো ইনশাআল্লাহ।

সুদখোরদের ভয়ঙ্কর যে শাস্তি প্রত্যক্ষ করলেনঃ

হযরত সামুরা বিন জুন্দুব রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বর্ণনা করেছেন, হযরত নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘মিরাজ রজনীতে আমি দেখতে পেলাম যে, একটি রক্তের নদী প্রবাহিত হচ্ছে। তার মধ্যে জনৈক ব্যক্তি হাবুডুবু খাচ্ছে। লোকটি মাঝে মাঝে সাতরে তীরে আসার চেষ্টা করলে তীরে দন্ডায়মান এক ব্যক্তি তার প্রতি প্রস্তর নিক্ষেপ করে তাকে পুনরায় নদীর দিকে তাড়িয়ে দিচ্ছে। তার এই অবস্থা দেখে আমি জিব্রাইল আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এ কোন ব্যক্তি? জিবরাইল আলাইহিস সালাম বললেন, এ ব্যক্তি আপনার সুদখোর উম্মত।’ -বুখারী

সুদখোরদের করুন পরিনতি বর্ণনায় কিছু হাদিসঃ

হযরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘সুদখোর ধ্বংস প্রাপ্তদের মধ্যে পরিগণিত।’ -মুত্তাফাকুন আলাইহি

এই হাদিসে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কতগুলি বিষয়কে মানুষের ইহকাল ও পরকাল ধ্বংসকারী ‘কবীরা গুণাহ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সুদ তার মধ্যে অন্যতম।

হযরত ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বর্ণনা করেছেন, হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘সুদখোর ও সুদদাতা উভয়ের উপরই আল্লাহর অভিশাপ পতিত হোক।’ -মুসলিম, নাসায়ী

হযরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু কর্তৃক বর্ণিত হজরত সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘চার ব্যক্তিকে বেহেশতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না, তারা হলো: (১) নিত্য মদ্যপায়ী, (২) সুদখোর, (৩) এতিমদের মাল আত্মসাৎকারী এবং (৪) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান।’

হযরত আউফ ইবনে মালেক রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বর্ণনা করেন যে, হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘কেয়ামতের দিন অজ্ঞান ব্যক্তির যেভাবে হাশর হবে, ঠিক তেমনি অবস্থায় সুদখোরের হাশর হবে। অর্থাৎ, সে পাগলের ন্যায় নীত হবে।’ -আহমদ

হযরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বর্ণনা করেন, নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘এমন এক সময় আসবে যখন কোনো ব্যক্তিই সুদ হতে দূরে থাকতে পারবে না, যদি কেউ সুদ নাও নেয় তথাপি তার প্রভাব হতে কেউ মুক্ত থাকতে পারবে না। সকলের উপরই সুদের কিছু না কিছু প্রভাব পড়বেই।’ -আবু দাউদ

হযরত আমর রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু কর্তৃক বর্ণিত মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে জাতির মধ্যে সুদের প্রচলন হবে, সঙ্গে সঙ্গেই সে জাতিকে দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হতে হবে। যে জাতির মধ্যে ঘুষ বিস্তৃতি লাভ করবে, সে জাতি নৈতিক দিক দিয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে। -আহমদ

হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘সুদখোর, সুদদাতা, সুদ সম্পর্কিত বিষয়ের লেখক ও সাক্ষী সকলেই সমান অপরাধী। আল্লাহ সকলের ওপর যেন অভিসম্পাত করেন।’ -মুসলিম

হযরত ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বর্ণনা করেন যে, হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘যখন কোনো অঞ্চলে সুদ খাওয়া ও জেনা (ব্যাভিচার) ব্যাপকভাবে চলতে থাকে, তখন সেই অঞ্চলের জন্য আল্লাহর গজব নাজিল হওয়া হালাল হয়ে যায়।’ -হাকেম

হযরত ইবনে মাসুউদ রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বর্ণনা করেন, হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘কেয়ামতের পূর্বে সুদ খাওয়া, মদ্য পান ও জেনা অধিক বৃদ্ধি পাবে।’ -তিবরানী

আমলহীন বিভ্রান্ত আলেমদের যে শাস্তি দেখলেন প্রিয় নবীজিঃ

বেআমল আলেমদের শাস্তি সম্পর্কে হযরত আনাস রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘আমি মেরাজের রাত্রে জাহান্নামে এমন কতিপয় লোককে দেখলাম যাদের ঠোঁট কাঁচি দ্বারা কাটা হচ্ছিল, একবার কাটার পর সেগুলো মিলিয়ে যেতে থাকে, আবার তাদের ঠোঁট কর্তন করা হতে থাকে। এরূপে তারা আল্লাহর শাস্তি পাচ্ছিল। আমি হজরত জিবরাইল আলাইহসি সালামকে তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তিনি বলেন: তারা আপনার উম্মতের সেসব আলেম, যারা লোকদের অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখতো এবং আল্লাহর দিকে আহ্বান করতো, অথচ তারা স্বয়ং আমল করতো না।’

আলেমদের সতর্কতায় কিছু হাদিসঃ

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত খাঁটি মোমেন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার সমস্ত আশা আকাঙ্খা আমার শরীয়ত মোতাবেক হবে।’

অর্থাৎ মুমিন মুসলমানের কোনো কাজকর্ম ইসলামী শরীয়তের পরিপন্থী হলে চলবে না। মুমিনের আমল যে পর্যন্ত শরীয়ত অনুযায়ী হবে না, আল্লাহর দরবারে তার ইসলাম অপূর্ণ বলে গণ্য হবে। আমল করার নির্দেশ কেবল জনসাধারণের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, আলেম সমাজের প্রতিও সমানভাবে প্রযোজ্য।

হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন: ‘কেয়ামত দিবসের সবচেয়ে কঠিন শাস্তি সেই আলেমকে দেয়া হবে, যার এলেম দ্বারা জনসাধারণ উপকৃত হতে পারেনি।’

হযরত ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমার পূর্বে যে উম্মতের জন্য যেসব নবীকে প্রেরণ করা হয়েছিল, সেই উম্মতের মধ্যে তাদের অনুসারী এবং সঙ্গীরা থাকতেন এবং তারা উক্ত নবীদের সুন্নতের অনুসরণ করতেন ও তাঁদের নির্দশাবলি মেনে চলতেন। অতঃপর তাদের এমন সব প্রতিনিধি হতে লাগলেন, যাদের কথা ও কাজ পরস্পরবিরোধী, যা তারা মুখে বলতেন, বাস্তব ক্ষেত্রে তার বিপরীত কাজই করতেন, লোক তাদের কথা অনুযায়ী চলত। এ ধরনের লোকদেরকে যারা সঠিক পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করবে, তারাই সত্যিকারের মুমিন, এরূপ যারা করবে না, তাদের মধ্যে বিন্দু পরিমাণও ঈমান নেই।

বহু হাদীসে খাঁটি আলেমদের উচ্চ মর্যাদার কথা যেখানে বলা হয়েছে, সেখানে ‘উলামা সু’-এর করুণ পরিণতির কথাও বলা হয়েছে। সে ‘উলামা সু’-এর পরিচয় রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মেরাজে হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম প্রদান করেছেন। ‘উলামা সু’-এর পরিচয়ের এ মাপকাঠি যুগেযুগে সর্বত্র দর্পণ হিসেবে কাজ করবে। সরল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট করে থাকে, মেরাজে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সে জাহান্নামীদের পরিচয় জানানো হয়েছে। আল্লাহতাআলা সকলকে ‘উলামা সু’-এর খপ্পর হতে হেফাজত করেন, যাদেরকে প্রখ্যাত ইমামগণ ‘লুচুছুদ দীন’ বা ধর্মচোর নামে আখ্যায়িত করেছেন।

পরিশেষেঃ

সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া সর্বগ্রাসী সূদ এবং আমলহীনতার বদ স্বভাব থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক কামনা করছি মহান মালিকের নিকট। এসব দলের অনুগামী হওয়া থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের হেফাজত করুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৯:২৬
১৬টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আকাশের ক্যানভাসে আঁকা এক ছবি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:৩৭


শেষ বিকেলের মিষ্টি নরম আলোয়,
চঞ্চল মেঘের দল আবির মেখে লাল।
সেই রূপবতী মেঘ দেখে হঠাৎ আমার ইচ্ছে হলো
এবার আঁকবো আমার স্বপ্নগুলো আকাশের ক্যানভাসে।
এই ভাবনার সাথে একাত্মতা ঘোষণা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাস্কর্য - মূর্তি দ্বন্ধ : প্রকৃত সত্যের স্বরূপ সন্ধান

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৫০

ভাস্কর্য না মূর্তি?
ভাস্কর্য বিরোধীতায় সরব এক পক্ষ। যাদের নেতৃেত্ব আছে হেফাজতে ইসলাম নামের এক দল। অতিসম্প্রতি হেফাজতের আমির বাবুনগরী সাহেব বললেন- যদি কোথাও কোনো ভাস্কর্য হয়, যে দলই করুক, টেনেহিঁচড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নোভা কেন আত্মহত্যা করলো?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:৫৩



মেয়েটার নাম নোভা।
বিদেশে থাকে। নোভা বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার আগ্রহ নিয়ে এসেছে। কিন্তু তিন মাসের জন্য এলেও, অল্প কয়েকদিন থেকে চলে গেছে। এই দেশ তার ভালো লাগে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামিক দলগুলো শেখ হাসিনাকে বাজিয়ে দেখছে

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:২৬



দেশের অবস্হা দেখে মনে হচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে শেখ হাসিনা ঠিক আগের মতো শক্তিশালী নন; দেশের ইসলামিক দলগুলো এই ধরণের সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিলো। ইসলামিক দলগুলো শেখ হাসিনার পক্ষে কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি বাংলাদেশ বলছি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:২৬



প্রিয় দেশবাসী,
কিছুদিন যাবত অত্যন্ত বেদনা নিয়ে লক্ষ্য করছি ভাস্কর্য বনাম মূর্তি নিয়ে সবাই আলোচনা করছেন সমালোচনা করছেন। কেউ ধর্মের পক্ষ নিচ্ছেন, কেউ আধুনিকাতার পক্ষ নিচ্ছেন, কেউ হয়তো শিল্পমনার পরিচয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×