
পৃথিবীতে যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেনি, তাদের বিষয়ে কেয়ামত দিবসে কি ফায়সালা হবে?
পৃথিবীতে যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেনি, তাদের বিষয়ে কেয়ামত দিবসে কি ফায়সালা হবে? তাদের পরিণতি কী হবে? গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি অনেকেরই। অনেকেই এই বিষয়ে জানতে চান। স্বাভাবিকভাবেই চিন্তাশীল এবং ভাবুক ব্যক্তি মাত্রের মনেই এমন প্রশ্ন উদয় হওয়া যৌক্তিক এবং খুবই স্বাভাবিক। তবে ইসলাম ধর্মের উষালগ্ন থেকে এর অব্যাহত জয়যাত্রা, বিশ্বময় জনপদে জনপদে এর অপরিমেয় গ্রহণযোগ্যতা এবং বিপুল উত্থান যাদের কাছে গাত্রদাহের কারণ, সেসব বন্ধুরা স্বভাবতঃই বিষয়টির হাস্যকর, বানোয়াট এবং মনগড়া ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে ইসলাম ধর্মকে অগ্রহনযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করার পাশাপাশি মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআ'লার ন্যায়বিচারক হওয়ার বিষয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত। আলহামদুলিল্লাহ, আজ আমরা কুরআন হাদিসের আলোকে প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করবো। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আহকামুল হাকিমীন তথা, সকল বিচারকের বিচারক। তিনি কারও প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করবেন না। এটা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। সুতরাং, অন্যায়ভাবে কাউকে শাস্তি দেয়ার প্রশ্ন তাঁর প্রতি আরোপ করা নিতান্ত অপরাধ, চরম মিথ্যাচারও বটে। বিষয়টি পরিষ্কার করার স্বার্থে ক্ষুদ্র এই নিবন্ধ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা আমাদের জানা অজানা অপরাধ ক্ষমা করুন। তিনি আমাদের জ্ঞানের ভেতরে বরকত দান করুন।
রাসূলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, 'ভূপৃষ্ঠে এমন কোন স্থান থাকবে না যেখানে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছবে না।' -মুসনাদে আহমাদ হা/ ২৩৩৬৫, মিশকাত: ৪২
এই হাদিস থেকে জানা যায় যে, পৃথিবীর প্রতিটি স্থানে দ্বীনে হক এর দাওয়াত কেয়ামতের পূর্বে পর্যায়ক্রমে অবশ্যই পৌঁছে যাবে। প্রসঙ্গতঃ জ্ঞানী মাত্র অনুধাবন করবেন যে, আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে প্রিয় নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ভবিষ্যত বাণীটি যখন করেছিলেন তখনকার বিশ্বের বিদ্যমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই কাজটি এতটা সহজ মনে করার কোনো কারণ নিশ্চয়ই ছিল না। আধুনিক বহুবিধ প্রযুক্তির কল্যানে আজ যাতায়াতসহ যোগাযোগের অসাধারণ এবং অবাক করা উন্নতি হয়েছে। গোটা পৃথিবী বলতে গেলে আমাদের হাতের মুঠোয় এখন। বিজ্ঞানের ভাষায় পৃথিবী 'গ্লোবাল ভিলেজে' পরিণত হওয়ায় এখন আর বিশ্বের কোনায় কোনায়, জনপদে জনপদে ইসলামের বাণী পৌঁছে দেয়ার কাজটিকে অসম্ভব কিংবা তেমন কষ্টসাধ্য কাজ বলেও মনে হয় না। ইতোমধ্যে এই হাদিসের বহুল বাস্তবায়ন আমরা লক্ষ্য করেছি। আশা করা যায়, এই হাদিসের মর্মানুসারে এর পুরোপুরি বাস্তবায়ন অত্যাসন্ন ইনশাআল্লাহুল আযিয। হয়তো সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের কানে কানে পৌঁছে যাবে তাওহিদের অমীয় বানী। প্রিয় নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই হাদিস তাঁর অসংখ্য মু'জিজার ভেতর থেকে একটি অনন্য মু'জিজা বটে।
কিন্তু কথা থেকে যায়, এরপরও যদি কারও নিকটে ইসলামের দাওয়াত না পৌছে, তাহলে তাদের অবস্থা কি হবে? এর উত্তর আমরা অন্য এক হাদিসে পাই যে, আল্লাহ তা' আলা কিয়ামতের দিন তাদের আনুগত্যের পরিক্ষা নিবেন। এতেই তারা জান্নাতী বা জাহান্নামী হবে। প্রিয় নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, 'কিয়ামতের দিন চার ব্যক্তি আল্লাহ তাআ'লার সাথে ঝগড়া করবে। যথাঃ
১) বধির, ২) পাগল, ৩) অতি বৃদ্ধ এবং ৪) যে ইসলামের দাওয়াত পায়নি। বধির বলবে, হে আল্লাহ! ইসলাম এসেছে আমি কিছু শুনতে পাইনি; পাগল বলবে, ইসলাম আগমন করেছে, অথচ শিশুরা আমার দিকে পশুর বিষ্ঠা নিক্ষেপ করেছে; অতি বৃদ্ধ বলবে, ইসলাম আগমন করেছে, অথচ আমি কিছু বুঝতে সক্ষম হইনি। আর ইসলামের দাওয়াত না পাওয়া ব্যক্তি বলবে, হে আল্লাহ! আপনার কোন দাওয়াতদাতা আমার নিকট আসেনি! অতঃপর আল্লাহ তা' আলা তাদের নিকট থেকে আনুগত্যের শপথ নিবেন। এরপর তাদের নিকট একজন দূত প্রেরণ করবেন এই মর্মে যে, তোমরা আগুনে প্রবেশ কর। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যার হাতে আমার প্রাণ, তার কসম করে বলছি, যে ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করবে, আগুন তার উপর শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে যাবে, কিন্তু যে ব্যক্তি প্রবেশ করবে না, তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।' -ত্বাবারাণী, সিলসিলা সহিহা, হাদিস নং-১৪৩
যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেনি তাদের পরিণতি বিষয়ে প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ এর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন-
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। এই শ্রেণির মানুষ সম্পর্কে সবচেয়ে সুন্দর অভিমত হচ্ছে- কেয়ামতের দিন তাদেরকে পরিক্ষা করা হবে। যে ব্যক্তি নির্দেশ মান্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি অমান্য করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এর সপক্ষে দলিল হচ্ছে,
আল্লাহ তাআলার বানী-
وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولاً
'আমরা রাসূল প্রেরণ ব্যতিরেকে কাউকে শাস্তি দিই না।' -সূরা বনী ইসরাইল, আয়াত: ১৫
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা আমাদের তাওহিদের মর্মবাণী অনুধাবন করে এর উপরে আমৃত্যু অটল এবং অবিচল থাকার সাথে সাথে আমাদের উপরে ন্যস্ত দ্বীনের দাওয়াত পৃথিবীর প্রত্যেক বনি আদমের কানে কানে পৌঁছে দেয়ার নববী দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন।
তথ্য গ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতাঃ islamqa.info, AsunSantirChayatale ফেসবুক পেজসহ অন্যান্য অনলাইন রিসোর্স।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


