somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

পৃথিবীতে যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেনি, তাদের বিষয়ে কেয়ামত দিবসে কি ফায়সালা হবে?

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ অন্তর্জাল।

পৃথিবীতে যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেনি, তাদের বিষয়ে কেয়ামত দিবসে কি ফায়সালা হবে?

পৃথিবীতে যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেনি, তাদের বিষয়ে কেয়ামত দিবসে কি ফায়সালা হবে? তাদের পরিণতি কী হবে? গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি অনেকেরই। অনেকেই এই বিষয়ে জানতে চান। স্বাভাবিকভাবেই চিন্তাশীল এবং ভাবুক ব্যক্তি মাত্রের মনেই এমন প্রশ্ন উদয় হওয়া যৌক্তিক এবং খুবই স্বাভাবিক। তবে ইসলাম ধর্মের উষালগ্ন থেকে এর অব্যাহত জয়যাত্রা, বিশ্বময় জনপদে জনপদে এর অপরিমেয় গ্রহণযোগ্যতা এবং বিপুল উত্থান যাদের কাছে গাত্রদাহের কারণ, সেসব বন্ধুরা স্বভাবতঃই বিষয়টির হাস্যকর, বানোয়াট এবং মনগড়া ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে ইসলাম ধর্মকে অগ্রহনযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করার পাশাপাশি মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআ'লার ন্যায়বিচারক হওয়ার বিষয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত। আলহামদুলিল্লাহ, আজ আমরা কুরআন হাদিসের আলোকে প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করবো। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আহকামুল হাকিমীন তথা, সকল বিচারকের বিচারক। তিনি কারও প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করবেন না। এটা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। সুতরাং, অন্যায়ভাবে কাউকে শাস্তি দেয়ার প্রশ্ন তাঁর প্রতি আরোপ করা নিতান্ত অপরাধ, চরম মিথ্যাচারও বটে। বিষয়টি পরিষ্কার করার স্বার্থে ক্ষুদ্র এই নিবন্ধ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা আমাদের জানা অজানা অপরাধ ক্ষমা করুন। তিনি আমাদের জ্ঞানের ভেতরে বরকত দান করুন।

রাসূলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, 'ভূপৃষ্ঠে এমন কোন স্থান থাকবে না যেখানে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছবে না।' -মুসনাদে আহমাদ হা/ ২৩৩৬৫, মিশকাত: ৪২

এই হাদিস থেকে জানা যায় যে, পৃথিবীর প্রতিটি স্থানে দ্বীনে হক এর দাওয়াত কেয়ামতের পূর্বে পর্যায়ক্রমে অবশ্যই পৌঁছে যাবে। প্রসঙ্গতঃ জ্ঞানী মাত্র অনুধাবন করবেন যে, আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে প্রিয় নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ভবিষ্যত বাণীটি যখন করেছিলেন তখনকার বিশ্বের বিদ্যমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই কাজটি এতটা সহজ মনে করার কোনো কারণ নিশ্চয়ই ছিল না। আধুনিক বহুবিধ প্রযুক্তির কল্যানে আজ যাতায়াতসহ যোগাযোগের অসাধারণ এবং অবাক করা উন্নতি হয়েছে। গোটা পৃথিবী বলতে গেলে আমাদের হাতের মুঠোয় এখন। বিজ্ঞানের ভাষায় পৃথিবী 'গ্লোবাল ভিলেজে' পরিণত হওয়ায় এখন আর বিশ্বের কোনায় কোনায়, জনপদে জনপদে ইসলামের বাণী পৌঁছে দেয়ার কাজটিকে অসম্ভব কিংবা তেমন কষ্টসাধ্য কাজ বলেও মনে হয় না। ইতোমধ্যে এই হাদিসের বহুল বাস্তবায়ন আমরা লক্ষ্য করেছি। আশা করা যায়, এই হাদিসের মর্মানুসারে এর পুরোপুরি বাস্তবায়ন অত্যাসন্ন ইনশাআল্লাহুল আযিয। হয়তো সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের কানে কানে পৌঁছে যাবে তাওহিদের অমীয় বানী। প্রিয় নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই হাদিস তাঁর অসংখ্য মু'জিজার ভেতর থেকে একটি অনন্য মু'জিজা বটে।

কিন্তু কথা থেকে যায়, এরপরও যদি কারও নিকটে ইসলামের দাওয়াত না পৌছে, তাহলে তাদের অবস্থা কি হবে? এর উত্তর আমরা অন্য এক হাদিসে পাই যে, আল্লাহ তা' আলা কিয়ামতের দিন তাদের আনুগত্যের পরিক্ষা নিবেন। এতেই তারা জান্নাতী বা জাহান্নামী হবে। প্রিয় নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, 'কিয়ামতের দিন চার ব্যক্তি আল্লাহ তাআ'লার সাথে ঝগড়া করবে। যথাঃ
১) বধির, ২) পাগল, ৩) অতি বৃদ্ধ এবং ৪) যে ইসলামের দাওয়াত পায়নি। বধির বলবে, হে আল্লাহ! ইসলাম এসেছে আমি কিছু শুনতে পাইনি; পাগল বলবে, ইসলাম আগমন করেছে, অথচ শিশুরা আমার দিকে পশুর বিষ্ঠা নিক্ষেপ করেছে; অতি বৃদ্ধ বলবে, ইসলাম আগমন করেছে, অথচ আমি কিছু বুঝতে সক্ষম হইনি। আর ইসলামের দাওয়াত না পাওয়া ব্যক্তি বলবে, হে আল্লাহ! আপনার কোন দাওয়াতদাতা আমার নিকট আসেনি! অতঃপর আল্লাহ তা' আলা তাদের নিকট থেকে আনুগত্যের শপথ নিবেন। এরপর তাদের নিকট একজন দূত প্র‍েরণ করবেন এই মর্মে যে, তোমরা আগুনে প্র‍বেশ কর। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যার হাতে আমার প্র‍াণ, তার কসম করে বলছি, যে ব্যক্তি তাতে প্র‍বেশ করবে, আগুন তার উপর শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে যাবে, কিন্তু যে ব্যক্তি প্র‍বেশ করবে না, তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।' -ত্বাবারাণী, সিলসিলা সহিহা, হাদিস নং-১৪৩

যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেনি তাদের পরিণতি বিষয়ে প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ এর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন-

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। এই শ্রেণির মানুষ সম্পর্কে সবচেয়ে সুন্দর অভিমত হচ্ছে- কেয়ামতের দিন তাদেরকে পরিক্ষা করা হবে। যে ব্যক্তি নির্দেশ মান্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি অমান্য করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এর সপক্ষে দলিল হচ্ছে,
আল্লাহ তাআলার বানী-

وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولاً

'আমরা রাসূল প্রেরণ ব্যতিরেকে কাউকে শাস্তি দিই না।' -সূরা বনী ইসরাইল, আয়াত: ১৫

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা আমাদের তাওহিদের মর্মবাণী অনুধাবন করে এর উপরে আমৃত্যু অটল এবং অবিচল থাকার সাথে সাথে আমাদের উপরে ন্যস্ত দ্বীনের দাওয়াত পৃথিবীর প্রত্যেক বনি আদমের কানে কানে পৌঁছে দেয়ার নববী দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন।

তথ্য গ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতাঃ islamqa.info, AsunSantirChayatale ফেসবুক পেজসহ অন্যান্য অনলাইন রিসোর্স।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৩৬
১৫টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×