somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাম্পত্য জীবন ও স্ত্রীদের সাথে তাঁর আচরণের কিছু অনবদ্য বর্ণনা

২০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ অন্তর্জাল।

প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাম্পত্য জীবন ও স্ত্রীদের সাথে তাঁর আচরণের কিছু অনবদ্য বর্ণনা

আজকের সমাজে অধিকাংশ ঘরে সম্পদের প্রাচুর্য থাকার পরেও শান্তির বড় অভাব। সম্পদ রয়েছে রাশি রাশি কিন্তু শান্তি এবং প্রশান্তি নেই। সুখ এবং সৌহার্দ্য নেই। হৃদ্যতা এবং ভালোবাসা নেই। দয়ামায়া এবং প্রাণময়তা নেই। কোমলতা এবং সহৃদয়তা নেই। আন্তরিকতা এবং অন্তরঙ্গতা নেই। স্বামী স্ত্রীর মাঝে পারস্পরিক মুহাব্বতের অতলস্পর্শী ছোঁয়া আর পরশ নেই। বিলাস ব্যসন আর পার্থিব উপকরণের প্রাচুর্যের নিচে যেন ঢাকা পড়ে গেছে হৃদয়ের প্রকৃত সুখ। ভোগের মোহে, বিলাসের নেশায় অধিকাংশ মানুষ ব্যতিব্যস্ত। স্বামী জানেন না, কি আচরণ তার কাছে তার স্ত্রীর প্রাপ্য। স্ত্রীও অনবহিত স্বামীর প্রতি কেমন হওয়া উচিত তার নিজের আচার আচরণ। স্বামী স্ত্রীগণ জানেনই না, ইসলামী শরিয়াহ কতই না চমৎকার দায় এবং দায়িত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে দিয়েছে একে অপরকে। কতই না উত্তম মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে নারীকে, পুরুষকে। অথচ অধিকার বঞ্চিত এই আমরা ইসলামী শরিয়া নির্দেশিত আমাদের পারস্পরিক দায়িত্ব এবং কর্তব্য না জানার কারণে স্বামী স্ত্রী প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধিকার পেতে মরিয়া। কিন্তু অন্যের অধিকার আদায়ের অনুভূতিশুন্য ব্যক্তি কি করে নিজের অধিকার পেতে পারেন?

এই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব ছিলেন প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি শ্রেষ্ঠতম স্বামীও ছিলেন। তাঁর চেয়ে সুন্দরতম আচরণের অধিকারী পৃথিবীতে আর কেউ আসেননি, আসবেনও না। তো, কেমন ছিল তাঁর পবিত্র দাম্পত্য জীবন? কেমন ছিল তাঁর স্ত্রী তথা উম্মাহাতুল মুমিনীনগণের সাথে তাঁর আচরণ? বিষয়টি খোলাসা করে দেখতে হলে আমাদের সীরাত এবং হাদিসের কিতাবগুলোতে দৃষ্টি দিতে হবে। প্রিয় নবীজীর চারিত্রিক সনদ দান করেছেন স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা। তিনি ইরশাদ করেন-

وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ

'আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত।' -সূরা আল ক্কালাম, আয়াত-০৪

আর সমগ্র মানব গোষ্ঠীর পুরুষদের চারিত্রিক সার্টিফিকেট গ্রহণের পদ্ধতি জানিয়ে দিয়েছেন প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি ইরশাদ করেন-

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لأَهْلِهِ وَأَنَا خَيْرُكُمْ لأَهْلِى.

‘তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সেই, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। আর আমি নিজ স্ত্রীর নিকট তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি।’ -ত্বাহাবী , হাকেম , দাঃ, আদাবুয যিফাফ ২৬৯পৃঃ

মুসনাদে আহমদ এর এক হাদিসে একই বিষয়ে এসেছে-

أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا وَخِيَارُهُمْ خِيَارُهُمْ لِنِسَائِهِمْ.

‘সবার চেয়ে পূর্ণ ঈমানদার ব্যক্তি সে, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর এবং ওদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যক্তি সেই, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম।’

চারিত্রিক সনদপত্র গ্রহণের কি আশ্চর্য্য এবং অদ্ভূত পদ্ধতি! অদ্ভূতই বটে! কারণ, আজকের দিনে চারিত্রিক সনদ গ্রহণের প্রচলিত পদ্ধতিতে দেখা যায়, এমন একজন ব্যক্তির নিকট থেকে তা গ্রহণ করা হয়ে থাকে যিনি কি না সনদপ্রার্থীকে চেনেনও না। মানবিক দায় থেকে সদয় হয়ে 'তার স্বভাব চরিত্র ভালো' ইত্যাকার কথা লেখা কাগজে স্বাক্ষর করে চারিত্রিক সার্টিফিকেটে তিনি ঠিকই দিয়ে দেন। কিন্তু পরবর্তীতে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এই সনদ দিয়ে চাকরি গ্রহণ করা সেই ব্যক্তিটিই হয়ে ওঠেন সর্বভূক। রাষ্ট্রীয় তহবিল তসরুফ থেকে শুরু করে দেশ শুদ্ধ গিলে খাওয়ার চেষ্টায় জীবন বাজী রাখেন। অক্টোপাসের মত খুবলে খেতে থাকেন জনগণের সম্পদ সম্বল।

আসলে একজন পুরুষের চরিত্র কেমন, এটা তার স্ত্রীর চেয়ে বেশি ভালো আর কে জানতে পারে? স্বামী স্ত্রীর মাঝে কোনো কিছুর আড়াল আবডাল থাকে না। লুকোচুরির কিছু থাকে না। আল কুরআন 'একজনকে অন্যজনের পোষাক' অভিহিত করেছে।

هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ

অর্থাৎ, ‘‘তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।’ -সূরা আল-বাক্বারা (২) : ১৮৭

নারীর পরিপূর্ণ অধিকার ও মর্যাদা একমাত্র ইসলামই দিয়েছেঃ

নারীর অধিকার সম্মন্ধে পূর্বে পশ্চিমে মতবাদের শেষ নেই। পাশ্চাত্যের আধুনিকতার ধ্বজাধারীগণ ইসলাম ধর্মকে সেকেলে বলে উপহাস করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়ে এ যুগে তা অচল বলার ধৃষ্টতা দেখান। অথচ তাদের নারীগণ আজও তাদের নিকট পণ্যের মর্যাদা অতিক্রম করতে পারেনি। আকর্ষনীয় নানান প্রলুব্ধকর ও শ্রুতিমধুর শব্দের গ্রন্থনায় নারীবাদের পক্ষে, নারী অধিকারের শ্লোগান তুলে মুখে ফেনা তুললেও তারা নারীদের ভোগের বস্তু বৈ অন্য কিছু মনে করেন না। এটা তাদের সমাজ বাস্তবতা দ্বারা স্বতঃসিদ্ধ এবং সুপ্রমানিত। ইসলাম ধর্ম প্রদত্ত প্রকৃত নারী অধিকার এবং মর্যাদার মানদন্ডকে তারাও আজ অস্বীকার করতে পারছেন না। ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে তারা যা বলছেন তা শুধুই বিদ্বেষ বশতঃ। প্রকৃতপক্ষে তারা যে নারীদের প্রতি সীমাহীন বঞ্চনা, গঞ্জনা আর যন্ত্রণাময় অসহ্য এক জীবনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন তা তারা খুব ভালোভাবেই জ্ঞাত। ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের প্রাক্কালে তৎকালীন বিশ্বে নারীর অবস্থা ছিল সবচে' শোচনীয়। নারী হয়ে জন্মগ্রহণ করাকেই তখন পাপ মনে করা হত। নারীকে দেখা হত ঘৃণার দৃষ্টিতে। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া হত। নারীর সেই ঘোর দুর্দিনে নারীকে তার প্রাপ্য সম্মান, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইসলাম দ্ব্যর্থহীন ভাষায় কথা বলেছে। নারীর অধিকারকে সমুন্নত করতে বিধি বিধান আরোপ করেছে। গর্ভধারীণী যে মা ছিলেন অবজ্ঞায় উপেক্ষিত, অবহেলা-তাচ্ছিল্যে বঞ্চিত, নিপীড়িত এবং নিষ্পেষিত; সেই 'মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত' -ঘোষনা করে গোটা নারী জাতির মাথায় সন্মানের মুকুট পড়িয়ে দিয়েছেন প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় পবিত্র কুরআনের ভাষ্য সুস্পষ্ট। আল্লাহ তাআ'লা বলেন-

﴿وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ﴾

‘নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে, যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের। কিন্তু নারীদের উপর পুরুষদের কিছু মর্যাদা আছে।' -সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২২৮

এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে-

وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا فَإِنَّمَا هُنَّ عَوَانٍ عِنْدَكُمْ.

‘সাবধান! তোমরা নারী অর্থাৎ, স্ত্রীদের জন্য মঙ্গলকামী হও। যেহেতু তারা তো তোমাদের হাতে বন্দিনী।’ -তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আদাবুয যিফাফ ২৭০পৃঃ

একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে-

اتَّقُوا اللَّهَ فِى النِّسَاءِ فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانَةِ اللَّهِ وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ.

‘তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। যেহেতু তাদেরকে তোমরা আল্লাহর অঙ্গীকারে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে বরণ করেছ এবং আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান হালাল করে নিয়েছ।’ -সহিহ মুসলিম

স্বামী স্ত্রী উভয়ে পরস্পরের একান্ত কাছাকাছি থাকার কারণে, একে অপরের গোপন এবং প্রকাশ্য সকল বিষয়াবলী জ্ঞাত থাকার কারণে একজন স্ত্রীর পক্ষে তার স্বামীর চরিত্র সম্মন্ধে সর্বাধিক অবহিত থাকার সুযোগ সহজেই ঘটে। অন্য কারও এই সুযোগ পাওয়ার কথা নয়। এ কারণে প্রিয়তম হাবিব সারওয়ারে দোজাহান, মানবতার মুক্তির দিশারীর মুখ থেকে 'স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীর চরিত্রের ব্যাপারে' জেনে নিতে বলা যথার্থ হয়েছে।

স্ত্রীর সাথে সদ্ভাবে বাস করা কুরআনের নির্দেশঃ

স্ত্রীর সাথে সদ্ভাবে বসবাস করা ওয়াজিব। স্ত্রীর কোনো কাজ বা আচরণ অপছন্দ হলেও সদাচার ও সদ্ব্যবহার বন্ধ করার সুযোগ নেই। এবং এমনটা কোনো অবস্থায়ই কাম্য নয়। মহান আল্লাহ তাআ'লা বলেন-

﴿وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئاً وَيَجْعَلَ اللهُ فِيهِ خَيْراً كَثِيراً﴾

‘আর তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। তোমরা যদি তাদেরকে ঘৃণা কর, তবে এমনও হতে পারে যে, তোমরা যা ঘৃণা করছ, আল্লাহ তার মধ্যেই প্রভূত কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।' -সূরা আন-নিসা (৪) : ১৯

এক হাদিসে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ فَإِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ وَإِنَّ أَعْوَجَ شَيْءٍ فِي الضِّلَعِ أَعْلَاهُ فَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيمُهُ كَسَرْتَهُ وَإِنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أَعْوَجَ فَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ.

‘তোমরা নারীদের জন্য হিতাকাঙক্ষী হও। কারণ, নারী জাতি বাঁকা পাজরের হার হতে সৃষ্ট। আর তার উপরের অংশ বেশী বাকা (সুতরাং তাদের প্রকৃতিই বাকা ও টেরা।) অতএব তুমি সোজা করতে গেলে হয়তো তা ভেঙ্গেই ফেলবে। আর নিজের অবস্থায় উপেক্ষা করলে বাঁকা থেকেই যাবে। অতএব তাদের জন্য মঙ্গলকামী হও।’ -বুখারী, মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৩৮

আরেক হাদিসে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

لاَ يَفْرَكْ مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةً إِنْ كَرِهَ مِنْهَا خُلُقًا رَضِىَ مِنْهَا آخَرَ.

‘কোন মু’মিন পুরুষ যেন কোন মু’মিন স্ত্রীকে ঘৃণা না করে। কারণ সে তার একটা গুণ অপছন্দ করলেও অপর আর একটা গুণে মুগ্ধ হবে।' -মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৪০

কেমন ছিল তাঁর অনুপম আদর্শ?

প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেমন ছিলেন তাঁর স্ত্রী তথা উম্মাহাতুল মুমিনীনগণের নিকট? তিনি ছিলেন উত্তম আদর্শের মূর্ত প্রতিক। তিনি ঘরে বাইরে সর্বত্র, সকল কাজে সর্বোত্তম অনুকরণীয় আদর্শ রেখে গেছেন।

রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

«الدنيا كلها متاع، وخير متاع الدنيا الزوجة الصالحة».

'‍‌‍‌‍দুনিয়ার পূর্ণটাই সম্পদ [স্বরূপ] তবে দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ হল: সতী স্ত্রী'। -সহীহ আল-জামে আস-সাগীর, আহমদ, হাদিস: ৬৫৬৭ নাসায়ী, হাদিস: ৩২৩২

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তাআ'লা আনহা বলেন:

قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يومًا: «يا عائش! هذا جبريل يقرئك السلام».

একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বলেন: 'হে আয়েশ! [সংক্ষিপ্তাকারে] জিব্রাঈল [আলাইহিস সালাম] এই মাত্র তোমাকে সালাম দিয়ে গেলেন'। -বুখারী, হাদিস: ৩৭৬৮; মুসলিম, হাদিস: ৮৯৭৫

স্ত্রীদের সাথে আচরণে কতই না চমকপ্রদ ছিলেন প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি যে অসাধারণ প্রেমময় একজন স্বামী ছিলেন তারই প্রতিচ্ছবি রয়েছে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার নামকে আদরাচ্ছলে সংক্ষিপ্ত করে 'হে আয়েশ!' বলে সম্বোধন করার ভেতরে।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিপূর্ণ চরিত্র, সর্বোত্তম আদর্শ ও সুমহান মর্যাদার অধিকারী। দাম্পত্য জীবনের সর্বোত্তম নমুনা এবং নরম প্রকৃতির স্ত্রীর প্রকৃত আবেগ, অনুভূতি ও চাহিদা সম্পর্কে সম্যক অভিহিত ছিলেন তিনি। তিনি স্ত্রীদেরকে এমন সম্মানজনক অবস্থান প্রদান করেন যা প্রত্যেক নারীরই পছন্দ এবং যে আদর্শ গ্রহণ করলে স্বামীর নিকট সত্যিকারার্থে একজন নারী অর্ধাঙ্গিনীতে পরিণত হতে পারে।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন:

«كنت أشرب وأنا حائض، فأناوله النبي - صلى الله عليه وسلم -، فيضع فاه على موضع في فيشرب، وأتعرق العرق فيتناوله ويضع فاه على موضع في».

‍'আমি ঋতু স্রাবের অবস্থায় কিছু পান করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিতাম, আর তিনি আমার মুখ রাখার স্থানে মুখ রেখে পান করতেন এবং আমি হাড়ের মাংস খেয়ে শেষ করলে তিনি তা গ্রহণ করে আমার মুখ লাগানোর স্থানেই মুখ লাগাতেন'। -মুসলিম, হাদিস: ৩০০

বস্তুতঃ বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনক্রমেই তেমন ছিলেন না, যেমনটা মুনাফিকরা প্রচার করে থাকে এবং পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের এক শ্রেণির মানুষ যে সমস্ত মিথ্যা ও অলীক অপবাদ তাঁর প্রতি অন্যায়ভাবে আরোপ করে থাকে। বরং তিনি দাম্পত্য জীবনে সর্বোত্তম ও সহজ-সরল পন্থা অবলম্বন করে সর্বোত্তম আদর্শ গড়তে সক্ষম হয়েছিলেন।

আয়েশ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন:

«إن النبي - صلى الله عليه وسلم - قبل امرأة من نسائه ثم خرج إلى الصلاة ولم يتوضأ».

'নিশ্চয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোন এক স্ত্রীকে চুমু দিয়ে অজু না করেই নামাযের জন্য মসজিদের দিকে বের হয়ে যেতেন'। -আবু দাউদ, হাদিস: ১৭৯; আহমদ, হাদিস: ২৫৭৩২

আমর বিন আস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,

أنه قال لرسول الله - صلى الله عليه وسلم -: أي الناس أحب إليك؟ قال: «عائشة».

'তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করেন, আপনার নিকট কোন ব্যক্তি সব চেয়ে প্রিয়? তিনি উত্তরে বলেন: আয়েশা'। -বুখারী, হাদিস: ৩৬৬২; মুসলিম, হাদিস: ২৩৮৪

যে ব্যক্তি দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে চায় সে যেন মুমিন জননী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত নিচের এ হাদিসটি ভাল করে ভেবে দেখে: তাতে রয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাথে কিরূপ আচরণ করেছেন।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন:

«كنت أغتسل أنا ورسول الله - صلى الله عليه وسلم - من إناء واحد».

'আমি ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক পাত্র হতে পানি নিয়ে গোসল করতাম'। -বুখারী, হাদিস: ২৬৩

স্ত্রীর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতাঃ

প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৈধ পন্থায় তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে আনন্দ ও আন্তরিকতার পরশ জোগাতেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন:

خرجت مع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - في بعض أسفاره، وأنا جارية لم أحمل اللحم ولم أبدن، فقال للناس: «تقدموا» فتقدموا ثم قال: «تعالي حتى أسابقك» فسابقته فسبقته، فسكت عني حتى حملت اللحم، وبدنت وسمنت وخرجت معه في بعض أسفاره فقال للناس «تقدموا» ثم قال: «تعالي أسابقك» فسبقني، فجعل يضحك ويقول: «هذه بتلك».

'আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কোন ভ্রমণে বের হলাম, সে সময় আমি অল্প বয়সী ও শারীরিক গঠনের দিক দিয়েও পাতলা ছিলাম, তখনো মোটা তাজা হইনি। তিনি সাহাবীদেরকে বললেন: তোমরা সামনের দিকে অগ্রসর হও। তারা যখন সামনের দিকে অগ্রসর হল, তখন তিনি আমাকে বললেন: এসো আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করি, অত:পর আমি তাঁর সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলাম ও আমি তার উপর বিজয় লাভ করলাম। তিনি সে দিন আমাকে কিছুই বললেন না। যখন আমি শারীরিক দিক দিয়ে মোটা হলাম ও ভারী হলাম, ও তাঁর সাথে কোন এক সফরে বের হলাম। তিনি সাহাবীদেরকে বললেন: তোমরা সামনের দিকে অগ্রসর হও। তারা যখন সামনে অগ্রসর হল: তখন তিনি আমাকে বললেন: এসো আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করি, এবারের প্রতিযোগিতায় তিনি আমার আগে চলে গিয়ে হাসতে হাসতে বললেন: আজকের জয় সেই দিনের প্রতিশোধ'। -আহমাদ, হাদিস: ২৬২৭৭

সুন্দর চিত্ত বিনোদন ও স্ত্রীর ব্যাপারে অসীম গুরুত্বারোপের অন্যতম নিদর্শন এ ঘটনা। সাহাবিদেরকে আগে পাঠিয়ে স্বীয় স্ত্রীর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে তার হৃদয়কে আনন্দিত করা ছিল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্য। তারপর পূর্বের বিনোদনের ইতিহাস টেনে আজকের বিজয়ের তুলনা করে বলেন: আজকের বিজয় পূর্বের প্রতিশোধ।

স্ত্রীদের প্রতি তিনি সবসময় এবং সবচে' বেশি অধিকার সচেতন ছিলেনঃ

কোন এক বিজয়ের দিন, তিনি বিজয়ী বেশে এক মহা সেনা অভিযানের নেতৃত্ব প্রদান করত: প্রত্যাবর্তন করছেন। এমতাবস্থায়ও তিনি ছিলেন স্বীয় স্ত্রী মুমিন জননীদের সাথে মুহাব্বত ও নমনীয়তার মূর্ত প্রতীক। অভিযানের নেতৃত্ব, দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি, যুদ্ধের মহাবিজয় এসবের কোনো কিছুই তাঁকে ভুলিয়ে দেয়নি যে, তাঁর সাথে রয়েছেন দুর্বল স্ত্রী জাতি, যাদের তাঁর সুকোমল পরশ ও আন্তরিক খোশালাপের অধিকার ও প্রয়োজন রয়েছে এবং যা তাদের দীর্ঘ রাস্তার কষ্ট ও সফরের ক্লান্তি দূর করবে।

ইমাম বুখারী বর্ণনা করেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বারের যুদ্ধ শেষে ফিরছিলেন তখন সাফিয়া বিনতে হুয়াই রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিবাহ করেন, এবার যে উটের পিঠে সাফিয়া আরোহণ করবেন তার চার দিকে ঘুরে পর্দার জন্য কাপড় লাগানোর পর তিনি উটের পার্শে বসে তাঁর হাটুকে খাড়া করে দিলেন। অত:পর সাফিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা স্বীয় পা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাঁটুতে রেখে উঠে আরোহণ করেন।

অন্তর আকৃষ্টকারী সে দৃশ্যটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিনয়েরই বহি:প্রকাশ।

অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন বিজয়ী কমান্ডার, ছিলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে দূত বা রাসূল, তিনি উম্মতকে শিক্ষা দিচ্ছেন যে, স্ত্রীকে সাহায্য করা, তার সাথে বিনয়ী হওয়া, তাদের কাজে সহায়তা এবং তাদেরকে সুখ ও মজা প্রদানে তাঁর সম্মান ও মর্যাদার কোন কমতি হবে না।

আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতদেরকে যে সব অসীয়ত করেন তন্মধ্যে একটি হল:

«ألا واستوصوا بالنساء خيرًا».

'ওহে আমার উম্মত! তোমরা নারীদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে'। -বুখারি, হাদিস: ৫১৮৬; মুসলিম, হাদিস: ১৪৬৮

উমার রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর সাথে সম্পর্কিত একটি চমৎকার ঘটনাঃ

হ্যাঁ, চলুন, উমার রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর শিক্ষনীয় একটি ঘটনা বলে সমাপ্তি টানি। আসলে এই পৃথিবীতে কোনো কিছুই পরিপূর্ণ নয়। হতে পারে না। পূর্ণতা তো জান্নাতে থাকবে। পার্থিব প্রত্যেক বিষয়ের মাঝে আল্লাহ তাআ'লা অপূর্ণতার একটি সীমাবদ্ধতা রেখে দিয়েছেন। পূর্ণিমার সুদর্শন চাঁদেও আছে কলঙ্ক। সুদর্শন সৌরভময় গোলাপেও রয়েছে কাটা। গুণবতী নারীর মধ্যেও কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে যাওয়া অস্বাভাবিক কেন হবে? কিন্তু এতদসত্বেও তাদের প্রতি সহানুভূতি, সহৃদয়তা আর প্রেম ভালোবাসার ডালি খুলে দিলে তখন এই পৃথিবীতেই নেমে আসে জান্নাতের অমীয় সুখের ঝর্ণাধারা। আমাদের পূর্বসূরীগণের জীবনের দিকে তাকালে এর অসংখ্য নজির চোখে পড়ে।

জানা যায়, একদা এক ব্যক্তি তার ঠোঁটকাটা স্ত্রীর অভিযোগ নিয়ে হযরত উমার রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর নিকট উপস্থিত হন। বাড়ির দরজায় এসে তাঁকে ডাক দিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। ইত্যাবসরে শুনতে পেলেন, হযরত উমারের স্ত্রীও তাঁর সাথে কথা-কাটাকাটি করছেন। এবং তিনি আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলেন যে, স্ত্রীর উত্তপ্ত বাক্যবাণের মুখে হযরত উমার রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু নীরবতাই অবলম্বন করে যাচ্ছিলেন।

এ অবস্থা দর্শনে লোকটি আর কোন কথা না বলে প্রস্থান করার চিন্তা করলেন এবং মনে মনে বলতে লাগলেন, ‘আমীরুল মু’মিনীনের যদি এই অবস্থা হয় অথচ তিনি খলীফা, কত কড়া মানুষ, তাহলে আমার আর কি হতে পারে?’

নিরুপায় হয়ে লোকটি চলে যেতে উদ্যত। ঠিক তখনই হযরত উমার রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু দরজায় এসে হাজির। লোকটিকে যেতে দেখে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার প্রয়োজন না বলেই তুমি চলে যাচ্ছ কেন?’

লোকটি জানালেন, ‘যার জন্য এসেছিলাম তার জবাব আমি পেয়ে গেছি হুজুর! আমার স্ত্রী আমার সাথে বাগাড়ম্বর করে। বড় গলায় কথা বলে। সেই অভিযোগ নিয়ে আপনার কাছে এসেছিলাম। কিন্তু এসে তো দেখছি, আপনারও আমার মত একই অবস্থা?’

উমার রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বললেন, ‘আমি সহ্য করে নিই ভাই! কারণ, আমার উপর তার অনেক অধিকার; সে আমার খানা পাক করে, রুটি তৈরী করে, কাপড় ধুয়ে দেয়, আমার সন্তানকে দুধ পান করিয়ে লালন-পালন করে, আমার যৌন চাহিদা পূরন করে,আমার হৃদয়ে শান্তি আনে, ইত্যাদি। তাই একটু সহ্য করে নিই।’

লোকটি বললেন, ‘আমীরুল মু’মিনীন! আমার স্ত্রীও তো অনুরূপ।’

উমার রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বললেন, ‘তবে সহ্য করে নাও গো ভাই! সে তো সামান্য ক্ষণই রাগান্বিতা থাকে।’

অতএব, সুন্দর সৌরভময় গোলাপ তুলে তার সুঘ্রাণ নিতে হলে দু'একটি কাঁটার সামান্য আঘাত হাতে এসে ফুটবে বৈ কি? কাঁটার জন্য কেউ কি প্রস্ফুটিত গোলাপকে ঘৃণা করে? নারী হয়তো গোলাপের মত সুন্দর ও কোমল বলেই বাক্যবাণের কাঁটা দ্বারা মাঝে মাঝে নিজেকে রক্ষা করতে চান। -হুক্কুক্কুল মারআতিল মুসলিমাহ, কওসর আল-মীনাবী, পৃষ্ঠা- ৫২

প্রিয়তম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসামান্য জীবন চরিত আলোচনা থেকে আমরা যদি সামান্য উপকৃত হতে পারি সেটাই আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা সীরাতে খাতামুল আমবিয়ার আলোকিত পথে আমাদের জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:৩৮
৭টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×