
ফেসবুকে ঝড় তোলা জনাব শাহরিয়ার কবির ও ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর ঐতিহাসিক সেই টকশো
সাংবাদিক সাইফুর সাগরের সঞ্চালনায় 'ফেস দ্যা পিপল' নামের একটি ফেসবুক পেজে গত রোববার (২০ ডিসেম্বর) রাত ৯ টায় এক টকশো হয়। টকশোতে অংশ নেন জৈনপুরের পীর ড. মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। তাদের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে চলে বিতর্ক। প্রায় পৌনে দু'ঘন্টা (১:৪৩:২৪) সময়ব্যাপী চলা এ বিতর্কে ড. মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর প্রজ্ঞাপূর্ণ উপস্থাপনা ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। হাসির খোরাক যুগিয়ে চলেছে জনাব শাহরিয়ার কবিরের লা-জাওয়াব বিমর্ষ মুখাবয়ব।
এ টকশো নিয়ে গত ক'দিন ধরে গরম ফেসবুক আঙিনা। ফেসবুকের অন্যতম আলোচিত ইস্যু এ টকশো। অবস্থার প্রেক্ষিতে আলোচিত এ টকশো নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করতে বাধ্য হন টকশোটির সঞ্চালক জনাব সাইফুর সাগর। তিনি 'ফেস দ্য পিপল' -এর ফেসবুক পেইজে বলেন, 'আমি নাস্তিক না কি আস্তিক সেটা বড় কথা নয়। আমি কোন আক্বিদার ফলোয়ার সেটাও বড় কথা নয়। এই টকশোটির অনুভব অন্য জায়গায়। আমার নিয়মিত টকশো 'ফেস দ্যা পিপল' -এর গত ২০ ডিসেম্বরের এপিসোডটির আগের রাত এবং পরের রাত আমি ভালোভাবে ঘুমোতে পারিনি। কারণ, বাংলার মানুষ বিশেষ করে মুসলিম ধর্মাবলম্বী সাধারণ মানুষের দ্বীনি কথা শুনবার তৃষ্ণার্ত হাহাকার দেখে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিলো আমার মনে।'
তিনি বলেন, 'ধর্মের প্রতি মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ এতটাই অমূল্য ও অবর্ণনীয় যে, আমাকে উত্তেজনা ঘুমোতে দেয়নি। আমি কয়েকশো টকশো আয়োজন করেছি আজ অবধি। অনলাইন বেজড টকশো আমার হাতেই শুরু বাংলাদেশে। প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের সর্বোচ্চ নেতৃবৃন্দ আমার অতিথি হয়ে এসেছেন। কিন্তু কোনো অতিথির অনুষ্ঠান আমাকে এতোটা উত্তেজিত করেনি; যতোটা জনাব এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ও জনাব শাহরিয়ার কবিরের অনুষ্ঠানে অনুভূত হয়েছে।'
সাইফুর সাগর তার মতামতে আরো বলেন, 'কদিন আগে প্রিয় সিনিয়র সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খাঁন সাহেবের সাথেও ড.এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর ডিবেট করেছিলাম। সেই টকশোটি প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষ দেখেছে। এটা আমার নিজস্ব পরিসংখ্যান। আব্বাসী হুজুর আর শাহরিয়ার কবিরের গতকালকের অনুষ্ঠানটির রিয়েল টাইম ভিউয়ার্স ছিলো প্রায় ২৩ হাজারের মতো যা দেশের ইতিহাসে এ যাবৎ কালের সর্বোচ্চ সংখ্যা। কোনো টকশো এতো মানুষ একসাথে ইতোপূর্বে অনলাইন লাইভে দেখেননি।'
সাইফুর সাগর বলেন, 'আমাদের টকশো ফেসবুক পেজে অনুষ্ঠানটির ঘোষণাপত্র যখন প্রকাশ করি; তখন থেকেই হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি আমার সাথে যোগাযোগ করা শুরু করেছিলেন। সবার একটাই অনুরোধ ছিলো যেনো নিরোপেক্ষতা বজায় রাখি। এমন শঙ্কা হতো না যদি আমাদের দেশের গণমাধ্যম নিজেদের জায়গায় সঠিক এবং অবিচল থাকতো। আমি কোনো কুলেই এক্সট্রিমিজম পছন্দ করি না। আমার সাথে অন্যদের বিশাল ফারাক। কারণ, আমি সাদাকে সাদা বলি আর কালোকে কালো বলি। মাঝখানে কোনো কালারকে আমি বিলং করি না।'
সাইফুর সাগরের বিস্ময়াভিভূত প্রকাশ, 'ঘৃণা ভরা নষ্ট এই সমাজে যেখানে কেউ কারো নাম নিতেও কৃপণতা বোধ করে; সেখানে কোনো বিনিময় আর কোনো লোভ ছাড়া একজন আলেমের প্রতি লক্ষ মানুষের আনকন্ডিশনাল যে ভালোবাসা দেখলাম তা আমাকে যারপরনাই অভিভূত করেছে।'
তিনি যোগ করেন, 'নিজেদের মধ্যে প্রতিহিংসা ভুলে প্রায় সকল আলেমগণই অনুষ্ঠানটিকে নিজেরা অবলোকন করেছেন এবং নিজেদের সামাজিক মাধ্যমে মাওলানা আব্বাসী হুজুরকে প্রজ্ঞাবান বক্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আমাকেও শত শত মানুষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন নিরপেক্ষ উপস্থাপনার জন্য। আমিও সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই ধরণের অনুষ্ঠান চলতে থাকবে যতদিন অবধি সত্য প্রতিষ্ঠিত না হবে। হোক সেটা কালো নয় সাদা।'
২০ ডিসেম্বরের এ টকশোটির ইউটিউব ভিউ ইতোমধ্যেই চার লাখের (384,848) কাছাকাছি চলে গেছে। ভিডিওটির কমেন্টস বক্সে জমা হয়েছে প্রায় চার হাজারের (3,877) কাছাকাছি পাঠক ও দর্শকের মন্তব্য ও মতামত।
জনাব শাহরিয়ার কবির তার বক্তব্যের প্রায় শুরুর দিকেই 'ইসলামকে রাজনীতিতে টেনে আনা' অর্থাৎ ইসলামী রাজনীতির বিরোধিতা করে এই কাজের নিন্দা করে কিছু কথা বলেন। আসলে ইসলামে রাজনীতি আছে কি? না কি, ইসলাম শুধু মসজিদ মাদরাসার চৌহদ্দিতে আবদ্ধ থাকার মতই প্রচলিত অন্যান্য ধর্মমতের মতই একটা ধর্ম মাত্র? কুরআন হাদিসের আলোকে এই প্রশ্নটির দলিল ভিত্তিক জবাব দিয়েছেন ড. মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী।
টকশোটির ইউটিউব লিঙ্ক-
চলছে ঐতিহাসিক ডিবেট. শাহরিয়ার কবির ও ড.এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী.
আমরা ধন্যবাদ জানাই সাইফুর সাগরকে তার চমৎকার এই উদ্যোগটির জন্য।
মোবারকবাদ জানাই ড. মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাহেবকে তার প্রজ্ঞাপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করে অনেক বিষয়কে সকলের সামনে সহজবোধ্য করে দেয়ার জন্য।
অভিনন্দন জানাই জনাব শাহরিয়ার কবিরকে টকশোটিতে অংশগ্রহন এবং আলোচনার খোড়াক যোগানোর জন্য। প্রত্যাশা রাখি, এই টকশো ইসলাম ধর্মের ব্যাপ্তি ও পরিধি নির্ণয়ে নিশ্চিতভাবে তার চিন্তাধারাকে সমৃদ্ধ করবে এবং ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন ও রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্যই যে ইসলামের সঠিক দিকনির্দেশনা রয়েছে, ইসলাম যে Complete code of life, তথা, পরিপূর্ণ জীবন বিধান, ইসলাম যে খন্ডিত জীবনের অংশ বিশেষের জন্য পালনীয় নামমাত্র কোনো ধর্মীয় বিধান নয়- এই মহাসত্যটিকে অনুধাবন করার কিছুটা হলেও অবকাশ পাবেন। আমরা তার জন্য কল্যাণের দোআ করছি।
পোস্ট পাঠে কৃতজ্ঞতা। বিশ্বের সকল মানুষের জন্য হেদায়েতের সাথে সাথে কল্যানের দোআ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা সকলকে সত্যের আলোকিত পথে ফিরে আসার তাওফিক দান করুন। সকলের ভয়, আতঙ্ক, কষ্ট এবং অভাব বিদূরিত করুন। বৈধ সকল প্রয়োজন পূরণ করুন। কীটপতঙ্গ, পশুপাখিসহ প্রতিটি এমন প্রাণ- যার ক্ষুধা তৃষ্ণা রয়েছে সকলকে সঠিকভাবে পরিমিত পরিমান অন্ন-পানির ব্যবস্থা করুন। কোনো প্রাণিকে যেন ক্ষুধায় কষ্ট পেতে না হয়। হে প্রিয়তম মালিক, পৃথিবীর প্রতিটি জনপদকে আপনি করোনা ভাইরাস মুক্ত করে দিন।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


