somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

ভয়ঙ্কর রাজতন্ত্রের খপ্পড় থেকে মুক্তিলাভ; এখন আর ফেসবুকে লেখার কারণে ৭ বছরের কারাদন্ডের ঘটনা দেখা যায় না

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ভয়ঙ্কর রাজতন্ত্রের খপ্পড় থেকে মুক্তিলাভ; এখন আর ফেসবুকে লেখার কারণে ৭ বছরের কারাদন্ডের ঘটনা দেখা যায় না

ছবি, অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অমোঘ মাইলফলক। এই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার অদম্য সাহস এবং ঐক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভিনদেশী তাবেদার স্বৈরাচারের রাহুর কবল থেকে মুক্তি লাভ করেছে। শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের দুর্নীতি, লুটপাট এবং দেশ-ধ্বংসকারী নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা যেন একটি অপরাধ হয়ে উঠেছিল। সেই অন্ধকার যুগে বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল, মানুষের মুখে তালা লাগানো হয়েছিল। কিন্তু আজ সেই চিত্র পাল্টে গেছে- বাংলাদেশ নতুন করে বেঁচে উঠেছে, স্বাধীনতার স্বাদ ফিরে পেয়েছে।

হাসিনার শাসনকালে বাংলাদেশে যেন এক অঘোষিত রাজতন্ত্র কায়েম হয়েছিল- যেখানে শাসকের নামে কোনো সমালোচনা বরদাশত করা হতো না। দুর্নীতি এবং লুটপাটের বিরুদ্ধে কথা বললেই টুটি চেপে ধরা হতো। মানুষের মনের কথা প্রকাশ করার সকল পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সামান্য একটি ফেসবুক পোস্ট বা কমেন্টের জন্য ৭ বছরের কারাদণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সমালোচকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করা হতো, হুলিয়া জারি করা হতো, গুম করা হতো এবং কারাগারে পাঠানো হতো।

আরও ভয়াবহ সব নির্যাতনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো সমালোচকদের দমন করতে। আদালতে হাজির করার সময় হাতে-পায়ে-কোমরে ভারী শিকল, যাকে 'ডান্ডাবেরি' বলা হয়, তা পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো, যেন তারা দুর্ধর্ষ অপরাধী। মোটকথা, একটি ভয়ের সংস্কৃতি, একটি ভয়ার্ত আবহ তৈরি করা হয়েছিল। যাতে সবার মনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করা যায়। রাজরাজাদের মতো উঁচু জাতের সমীহ করতে হবে- এমন একটি মিথ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাদের নামে কিছু বললে জিহ্বা কর্তনের ভয়ে মানুষ কুঁকড়ে থাকতো। সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ক্যামেরা-কলম থমকে যেত অদৃশ্য হাতের ইশারায়। লেখকদের কলম আটকে রাখা হতো ভয়ের বেড়াজালে। গুমোট অন্ধকার সেই সময়ে মতপ্রকাশের সকল পথে সেন্সর বসানো হয়েছিল, মানুষ গুমরে মরতো, কথা বলতে পারতো না, হাত কাঁপতো কমেন্ট লিখতে গিয়ে। বিচারকের পর্যন্তু স্বাধীনতা ছিল না সত্য রায় দেওয়ার। প্রতিটি রায় ঘোষনার আগে তাদের পরামর্শ নিতে হতো তাবেদার গোষ্ঠীর সাথে।

ভয়ঙ্কর এই রাজতন্ত্রের খপ্পড়ে পড়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বিচার ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, ভোটাধিকার এবং স্বাধীনতা সবকিছু ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। জনগণের কণ্ঠ রোধ করে একটি ভয়ার্ত সমাজ গড়ে তোলা হয়েছিল, যেখানে সত্য প্রকাশ করা ছিল যুদ্ধের মুখোমুখি হওয়ার নামান্তর।

কিন্তু জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে সেই অন্ধকার যুগের অবসান ঘটেছে। আজ বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা ফিরে এসেছে, এটি সবচেয়ে বড় অর্জন। ফেসবুক, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে পত্রপত্রিকা এবং গণমাধ্যমে বর্তমান সরকারের সমালোচনা এখন অবাধে প্রকাশিত হচ্ছে, যা হাসিনার শাসনামলে অকল্পনীয় ছিল। মানুষ আর ভয়ে নিজের মন্তব্য মুছে ফেলে না; তারা খোলামেলা আলোচনা করে, মতামত প্রকাশ করে।

এই পরিবর্তন শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, এটি সমাজের প্রতিটি স্তরে অনুভূত হচ্ছে। সাংবাদিকরা এখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন, লেখকরা ভয়মুক্ত হয়ে কলম চালাচ্ছেন। জনগণের কণ্ঠ আর রোধ করা যাচ্ছে না, এটি একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণ। বিপ্লবের শহীদদের রক্তের মূল্যে অর্জিত এই স্বাধীনতা বাংলাদেশকে নতুন দিশা দেখিয়েছে।

ভয়ঙ্কর রাজতন্ত্রের খপ্পড় থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ আজ এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। জুলাই বিপ্লব আমাদের শিখিয়েছে যে, ঐক্য এবং সাহসের মাধ্যমে যেকোনো স্বৈরাচারকে পরাজিত করা সম্ভব। কিন্তু এই অর্জনকে রক্ষা করতে হলে সতর্ক থাকতে হবে, দুর্নীতি, ভীনদেশী হস্তক্ষেপ এবং ভয়ের ছায়া যেন আর ফিরে না আসে। বাকস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের এই আলোকে জ্বালিয়ে রাখুন, যাতে বাংলাদেশ সত্যিকারের স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারে। এই বিজয় জনগণের, এবং এটিকে অটুট রাখার দায়িত্বও আমাদের সকলের।

ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে জাবি শিক্ষার্থীর ৭ বছরের কারাদণ্ড

ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় ৭ বছরের কারাদণ্ড

ফেসবুকে কটূক্তি, এক ব্যক্তির ৭ বছরের দণ্ড

সাইবার ক্রাইম: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় ফেসবুক মন্তব্যের জেরে জাবি শিক্ষার্থীর ৭ বছরের কারাদণ্ড
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৪:৫২
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=যতই মোহ জমাই দেহ বাড়ী একদিন ঝরবোই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯



আমিও ঝরা পাতা হবো, হবো ঝরা ফুল,
রেখে যাবো কিছু শুদ্ধতা আর কিছু ভুল,
কেউ মনে রাখবে, ভুলবে কেউ,
আমি ঝরবো ধুলায়, বিলীন হবো,
ভাবলে বুকে ব্যথার ঢেউ।

সভ্যতার পর সভ্যতা এলো,
সব হলো এলোমেলো;
কে থাকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×