somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

এইসব দিনরাত্রি

২৭ শে অক্টোবর, ২০২৫ দুপুর ১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
এইসব দিনরাত্রি

ছবি, অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

এইসব দিনরাত্রি—
গ্রামের নিস্তব্ধ আকাশে ভেসে থাকা ধোঁয়াটে রোদ,
আলখেতের দুবলা ঘাসে সময়ের পদচিহ্ন—
যেখানে প্রতিটি হাওয়ায় বাজে এক অদৃশ্য বাঁশির সুর।
আমরা হাঁটি, থামি, আবার হাঁটি—
ভেবে দেখি না, এই মাটিও একদিন
আমাদের পদচিহ্ন মুছে ফেলবে নিঃশব্দে।

ধানের শীষে লেগে থাকা সোনালি আলোর কণা
আসলে আমাদেরই স্মৃতির প্রতিফলন—
যা ঝরে পড়ে প্রতিদিন, তবু টিকে থাকে অনুভূতিতে।
প্রভাত আসে, শিশিরে ভেজে পৃথিবী,
নদীর বাঁকে ঝিলমিল আলো, পাখির ডানায় ক্ষয়িষ্ণু সময়—
সবই যেন এক অনন্ত পুনর্জন্মের প্রতীক।

আর কতটা প্রভাত দেখব, কে জানে—
প্রতিটি প্রভাত তো একেকটি নতুন জন্ম,
আর প্রতিটি রাত, নীরব মৃত্যুর মতো।
সুবহি সাদিক, মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে ভেসে আসে স্মরণ—
সব সূচনা একদিন ফুরিয়ে যায়,
সব ফেরা একদিন ফিরে আসে শূন্যতায়।

আর কতটা লেখা যাবে—
এই মাটির গন্ধ, এই পুকুরের জল, এই নরম আকাশের নিচে—
শব্দেরা তো কেবল একেকটি নিশ্বাস,
যা লিখে রাখে ক্ষণস্থায়ী জীবনের অমর ব্যাখ্যা।
যতদিন হৃদয়ে রক্ত বইবে,
যতদিন চোখে থাকবে আলো,
ততদিন প্রতিটি স্মৃতি হয়ে থাকবে জীবনের দেয়ালিকার পৃষ্ঠা।

একদিন থেমে যাবে পথচলা,
চলার ছন্দ হারিয়ে যাবে সময়ের স্রোতে।
তবু প্রকৃতি—
তার সবুজ ছায়া, বৃষ্টির গন্ধ, চাঁদের আলপনা—
সবই শ্বাস নেয় আমাদের মধ্যেই,
আমাদের নিঃশ্বাসে থাকে তার অনন্ত প্রকাশ।

কারণ, জীবন আসলে মৃত্যুর বিপরীত নয়,
বরং এক দীর্ঘ যাত্রা—
যেখানে প্রতিটি সূর্যাস্ত শেখায় পুনর্জন্মের প্রতিশ্রুতি।
এইসব দিনরাত্রি তাই কেবল সময় নয়,
এ এক নীরব স্রোত—
যেখানে স্মৃতি, ভালোবাসা আর নশ্বরতার তীরে
আমরা রেখে যাই আমাদের অস্তিত্বের ছায়া।

আর সেই ছায়াটাই—
হয়ে থাকে এক অসমাপ্ত কবিতা,
যা চিরকাল লেখা থাকে অদৃশ্য এক মায়াবি আলোয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৫ দুপুর ১:৩৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ স্বাধীনতা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১২


বাবা পাখিটি গাইছে গান
আমড়া গাছের ডালে।
ছানাগুলো নিশ্চিন্তে
মায়ের বুকের তলে।

রীনা বসে বীনা বাজায়
মীনা গায় গান।
দীনা বলে পুষবো পাখি
একটা ধরে আন।

মা শুনে কয় বনের পাখি
বনেতেই মানায়।
বন্দী পাখি হয় যে দুঃখী
উচিত কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×