somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

অজিত দোভালের মুখে "অদক্ষ শাসনের কারণে সরকার পরিবর্তন", এ যেন ভূতের মুখে রাম নাম, আরেকটি ভণ্ডামি

০২ রা নভেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
অজিত দোভালের মুখে "অদক্ষ শাসনের কারণে সরকার পরিবর্তন", এ যেন ভূতের মুখে রাম নাম, আরেকটি ভণ্ডামি

অজিত দোভালের ছবিটি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সম্প্রতি বলেছেন, “অদক্ষ শাসনের কারণেই বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় সরকার পরিবর্তন হয়েছে।” এই বক্তব্য শুনে মনে হয়, এ যেন ভূতের মুখে রাম নাম। কারণ, দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তবতায় ভারতই সেই দেশ, যে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি হস্তক্ষেপ করে। গণতন্ত্রের মুখোশ পরে স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখার পেছনে ভারতের ভূমিকা সবসময়ই গভীর। তাই দোভালের মুখে এমন কথা নিছক ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

ভারতের ভূমিকা: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের একচ্ছত্র শাসন, বিরোধী দমন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, ভুয়া নির্বাচন ইত্যাদি সবকিছুর পেছনে ভারতের প্রত্যক্ষ সমর্থন ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকেই RAW ও নীতিনির্ধারক মহল “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা”র নামে হাসিনা সরকারকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। অজিত দোভাল নিজে RAW-এর সাবেক কর্মকর্তা, যিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। এর ফল, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মৃত্যু এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে বিদেশি প্রভাবের দখল।

“অদক্ষ শাসন” নাকি “নির্দেশিত রাজনীতি”?

দোভাল যেন নিজেকে দক্ষিণ এশিয়ার নৈতিক অভিভাবক ভাবেন। কিন্তু যে সরকার ১৬ বছর ধরে ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে, হাজার মানুষকে গুম-খুন করেছে, ভারতের স্বার্থে সীমান্ত, পানি ও বাণিজ্যে ছাড় দিয়েছে, তার পতনকে “অদক্ষ শাসন” বলা আসলে ভারতীয় কৌশল ব্যর্থতার আড়াল। বাংলাদেশের জনগণ ভারতের ছায়ায় দাঁড়ানো সেই শাসনব্যবস্থাকে ইতিহাসের বর্জ্যস্তূপে ফেলে দিয়েছে।

ভারতের আসল মনোভাব

ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোকে সহযোগী নয়, বরং “কৌশলগত প্রভাববলয়” হিসেবে দেখে। তাদের চোখে বাংলাদেশ, নেপাল বা শ্রীলঙ্কা স্বাধীন রাষ্ট্র নয় বরং নিরাপত্তা বলয়। তাই তারা জনগণের ইচ্ছা নয়, ভারতঘেঁষা সরকার টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী। যখন সেই সরকার ভেঙে পড়ে, তখন “অদক্ষ শাসন” বলে দোষ চাপায়।

অন্তর্নিহিত ভয়

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পতনের পর ভারতের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। এই পরিবর্তনের ধারা যদি অন্য প্রতিবেশী দেশেও ছড়িয়ে পড়ে, ভারতের প্রভাব কমে যাবে, এই আশঙ্কাই দোভালের মন্তব্যের মূল কারণ। তাই এটি আসলে আত্মরক্ষার কূটনৈতিক নাটক।

শেষ কথা

অজিত দোভালেরা কখনও প্রতিবেশী দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি আন্তরিক ছিলেন না। তারা চান এমন সরকার, যেটি ভারতের স্বার্থ রক্ষা করবে, অন্যান্য নিজ দেশের জনগণের নয়। তাই “অদক্ষ শাসনের কারণে সরকার পরিবর্তন” মন্তব্যটি নিছক আরেকটি ভণ্ডামি। আজকের বাস্তবতা প্রমাণ করেছে, বিদেশি মদদ নয়, জনগণের শক্তিই পরিবর্তনের আসল চালিকাশক্তি। ইতিহাসের আদালতে দোভালদের মুখোশ অবশেষে খুলেই গেছে।

সংবাদ সূত্র: অদক্ষ শাসনের কারণেই বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় সরকার পরিবর্তন: অজিত দোভাল
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:৩৮
২৭টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বর্গময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩


ওরা জান্নাত দেখে না
পুড়তে পুড়েই তো ছাই-
কতখানি জান্নাত দেখো
ঘরের ভিতর আছি কি?
নাকি মাটিতে থাক ঘুম;
যতক্ষুণ আছো নিঃশ্বাস
ততক্ষুণ জান্নাত দেখো
পরিবারে কিংবা চারপাশ!
পরকাল কে দেখে শান্তিময়
এখানে রচনা করো স্বর্গময়;

১৫-৬-২৬ ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘র’-এর কৌশল, প্রভাব ও গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি , পর্ব ০১

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭

'র'-এর গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করার পূর্বে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ও তৎপরবর্তী পরিচালিত কয়েক ধরনের স্ট্র্যাটেজি ও বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতার বিবরণ দেয়া প্রয়োজন । ১৯৬৮ সালে 'র' গঠিত হয়েছিল মূলত বৈদেশিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×